বরাবরই ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়ান এনামুল হক বিজয়। বইয়ে দেন রানের বন্যা। কিন্তু জাতীয় দলে এলেই যেন ভুলে যান ব্যাটিং। ব্যর্থ হন রানের খাতা খুলতেও। সেই বিজয় কি আদৌ জাতীয় দলে খেলার যোগ্য? এই প্রশ্ন প্রতিনিয়তই ঘোরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে।
জিম্বাবুয়ের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজেও তার ব্যর্থতায় জোরালো হয়েছে এসব প্রশ্ন আবারও। চার ইনিংসে মোট রান এসেছে তার ব্যাটে ২৩। যার মধ্যে শূন্য রানেই আউট হয়েছেন দুবার। দ্বিতীয় টেস্টের আগে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স আস্থা রেখেছিলেন এনামুলের ওপর। এবার সদ্য বিদায়ী টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও পাশে পেলেন তিনি।
শনিবার (২৮ জুন) কলম্বোয় ইনিংস ব্যবধানে হেরে সিরিজ হারার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বিজয়ের পক্ষ নিয়ে নাজমুল হোসেন বলেন, ‘৯ হাজার (৯০৬৬) প্রথম শ্রেণির রান, ২৪টা সেঞ্চুরি, ৪৯টা ফিফটি করা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে আমরা কেন দলে নেব না? ওই চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছিল। শেষ কয়েক বছর ধরে আমাদের ওপেনাররা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। জয় (মাহমুদুল হাসান), জাকির কিছু কিছু ম্যাচ ভালো করেছে, তারপর দেখা গেছে ওরকম অবদান রাখতে পারেনি।’
শান্তকে পাশে পেলেও বিজয় সেভাবে কখনোই মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে টেস্ট ক্রিকেটে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলেই তার অভিষেক হয়েছিল ২০১৩ সালে। ৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে, ১৫ ইনিংসে করেছেন এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬২ রান। নেই জোনো অর্ধশতকও।
দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ঘরোয়া লিগের পারফরম্যান্স দিয়ে। গেল বছর প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট করেছিলেন ৭০০ রান। এবারের ডিপিএলেও রানের ফোয়ারায় পূর্ণ করেছিলেন ক্যারিয়ারের ৫০তম শতক। কিন্তু জাতীয় দলে একেবারেই মলিন তার পারফরম্যান্স।
জাতীয় দলের স্কোয়াডে তার সুযোগ পাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমরা এ রকম একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় খুঁজছিলাম, যার অনেক রান আছে। যে কি না অভিজ্ঞ একটু এই সংস্করণে। এই চিন্তা করেই দলে তাকে নেওয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে (রান) করতে পারে নাই। দলের জন্য এটা অবশ্যই হতাশাজনক। আমি এখনো বিশ্বাস করি, তার যদি সামনে সুযোগ আসে, অবশ্যই সে ভালো কিছু করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শুধু তার ওপর দোষ দেওয়াটা বোকামি হবে, দল হিসেবে আমরা এ ম্যাচটা ভালো খেলি নাই।’