গেল বছর দুয়েক ধরেই বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু। প্রতিদিনই ইসরায়েলের হামলায় গাজায় শিশু থেকে সকল বয়সী মানুষ নিহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে তীব্র খাবার সংকটও।
সকল শ্রেণী-পেশার মানুষই ইসরায়েলের সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বাদ পড়েনি ফুটবল বিশ্বও। যেমন নতুন এক ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। ওসলোতে আগামী ১১ অক্টোবর ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামবে হালান্ডরা।
সেই ম্যাচ থেকে আয়ের পুরো অর্থ গাজায় সহায়তাদানকারী কোনো মানবিক সংস্থাকে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন।
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গাজার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে মানবিক কষ্ট ও অসম মাত্রার আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তা থেকে আমরা কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান চুপ করে থাকতে পারি না। আমরা চাই এই ম্যাচের আয় এমন এক মানবিক সংস্থাকে দিতে, যারা প্রতিদিন গাজায় মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করছে এবং জরুরি সহায়তা দিচ্ছে।’
এই ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। নরওয়ের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল ফেডারেশন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি ফেডারেশন আরো দাবি করে, নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই অর্থ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে না যায়।
ফেডারেশন জানিয়েছে, ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সাধারণত উলেভাল স্টেডিয়ামে নরওয়ে জাতীয় দলের খেলায় প্রায় ২৬ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকেন। তবে বাড়তি নিরাপত্তার কারণে এবার মাত্র ৩ হাজার দর্শককে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে ইসরায়েল নিজেদের দেশে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারছে না। এর আগে, নরওয়ের বিপক্ষে নিজেদের ‘হোম’ ম্যাচ তারা হাঙ্গেরিতে আয়োজন করেছিল, যেখানে নরওয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায়। বর্তমানে পাঁচ দলের বাছাইপর্ব গ্রুপে নরওয়ে শীর্ষে আছে, আর ইসরায়েল রয়েছে তাদের ঠিক পেছনে।
নিলয়/