গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ হকি দলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন পুষ্কর খীসা মিমো। তার নেতৃত্বে এএইচএফ কাপ খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু এক টুর্নামেন্ট পর নেতৃত্ব দূরে থাক, দল থেকেই বাদ পড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ফিটনেসকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে মিমোসহ আরও একাধিক সিনিয়র খেলোয়াড়কে রাখা হয়নি আসছে এশিয়া কাপের দলে। যে ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খবরের কাগজের মুখোমুখি হয়ে মিমো অবশ্য দাবি করেছেন তাদের বাদ পড়ার কারণ ভিন্ন। আক্রোশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।
এশিয়া কাপের দলে আপনাকে রাখা হয়নি। সুযোগ না হওয়ায় নিশ্চয়ই ব্যথিত?
দেখুন, আমি বা আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প চলাকালেই এটা আমরা বুঝতে পেরেছি যে আমাদের রাখা হবে না। সবশেষ যে টুর্নামেন্ট হয়েছে (এএইচএফ কাপ), সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। সেই আক্রোশ থেকেই এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। আর বাদের ঘটনাটা যেভাবে ঘটানো হলো সেটা খুবই দুঃখজনক। এভাবে বাদ পড়ব, কোনো দিন ভাবিনি। আমার জায়গায় যদি সমানের কাউকে নেওয়া হতো, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু তেমন কিছু তো হয়নি। উনারা আমাকে আভাস দিলেই পারত যে তোমাকে আমরা রাখব না। তাহলে নিজে থেকেই চলে আসতাম। এর আগে তো এমন অনেকই হয়েছে। বলতে গেলে প্রত্যেক ক্যাম্পেই এমন হয়। সিনিয়রদের এভাবেই বাদ দেয়। কিন্তু উনারা এই সুযোগটাও আমাদের দেয়নি। অনুশীলনে ৬০ মিনিটের ম্যাচ আমাদের ৫-১০ মিনিট খেলিয়েছে। তাহলে আপনি কীভাবে আমাদের বিচার করলেন? আমরা তো নিজেদের প্রমাণের সুযোগই পাইনি।
আক্রোশের কথা বললেন। আক্রোশটা কি নিয়ে? ইন্দোনেশিয়ায় কথা-কাটাকাটিই বা হয়েছে কেন? একটু বিস্তারিত বলবেন?
এএইচএফ কাপের প্রথম থেকেই ম্যানেজারের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের তর্ক হয়েছে। (ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন সৈয়দ বায়েজিত হায়দার ও সহম্যানেজার ছিলেন কাজী আবু জাফর তপন)। ওখান থেকে আসার পর পরই বুঝতে পেরেছি সামনে আমাদের বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে আমাদের খাওয়া-দাওয়াসহ নানা সমস্যা ছিল। আমি অধিনায়ক হিসেবে কি খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এগুলো নিয়ে কথা বলব না। এসব বলার কারণেই তারা ক্ষুব্ধ ছিল।
সবশেষ আসরে অধিনায়কত্ব করেছেন। এবার দলেই নেই। এটা কতটা পীড়া দিচ্ছে?
অধিনায়ক হওয়ার পরের টুর্নামেন্টেই নেই, আমার মনে হয় না হকির ইতিহাসে কখনো এ রকম কোনো ঘটনা আগে ঘটেছে। কি জন্য নেই সেটা তো তখন আমাদের বলা হয়নি। হয়তো এখন বলছে যে ফিজিক্যাল ফিটনেসের জন্য নেই। ফিজিক্যাল ফিটনেস কেন থাকবে না? যে কদিন ক্যাম্প হয়েছে, আমি কি সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনুশীলন করিনি? এটা তারা বলতে পারে না যে ফিজিক্যাল ফিটনেস নেই। বরং আমাদের প্রথম থেকেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে কতদিন ক্যাম্প হয়েছে, তাতে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি যে কোচের প্রি-প্ল্যানেই আমরা নেই। পরিকল্পতভাবেই আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
তাহলে ফিটনেস ইস্যুতে বাদ এই যুক্তি মানতে চাইছেন না?
এটা অবশ্যই অযৌক্তিক কথা। তারা নিজেরাই এটার প্রমাণ দিয়েছেন। আপনি দেখবেন সাংবাদিকদের কোচ বিপ্লব ভাই (মশিউর রহমান বিপ্লব) বলেছেন, আমাদের নাকি ফিটনেস নেই। এরপরও সম্মান রক্ষার্থে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। তার এই কথাতেই তো প্রমাণিত হয়ে যায় যে, আমাদের বাদ দেওয়ার বিষয়টা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। নতুন করে তো আর ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি এটা বলার মানে নেই। আরেকটা কথা বলব, বিপ্লব ভাই কেন কোচিং প্যানেলে আছেন? মানলাম, এএইচএফ কাপে আমরা ভালো করতে পারিনি। কিন্তু সিনিয়র কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হলো। প্রধান কোচও পরিবর্তন হলো। তাহলে উনি (বিপ্লব) কীভাবে কোচিং প্যানেলে থাকে? উনি এএইচএফ কাপে সহকারী কোচ ছিলেন। এখানে তাকে প্রমোশন দিয়ে প্রধান কোচ কেন করা হলো?
এশিয়া কাপে যে দল যাচ্ছে, সেই দলের প্রতি শুভকামনা নিশ্চয়ই থাকবে?
তা তো অবশ্যই। এটা তো আর বলব না যে দল হেরে আসুক। মনপ্রাণ থেকে চাই, দল ভালো করুক। ক্যাম্প থেকে আসার সময় সবার সঙ্গেই আমি দেখা করে এসেছি এবং সবাইকে শুভকামনা জানিয়ে এসেছি। আমাদের ওদের ওপর তো কোনো ক্ষোভ নেই। আমরা বাদ পড়েছি, এটা নিয়েও আসলে কোনো ক্ষোভ নেই। ক্ষোভ হলো- আমাদের ওপর অবিচার হয়েছে, এ জন্য। আর ইন্দোনেশিয়ায় যেগুলো আমাদের সঙ্গে হয়েছে, তার সবকিছু তো আর আমরা বলিনি। আমাদের যে খাবার দেওয়া হয়েছে, সেটা দেখলে বুঝতেন পারতেন। প্রথম দুই দিন খেলোয়াড়রা বলতে গেলে না খেয়েই খেলেছে।
তোফায়েল/নিলয়/