রাজনৈতিক বৈরীর কারণে পাকিস্তান-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা বন্ধ। দুই দলের ময়দানি লড়াইয়ের প্ল্যাটফর্ম আইসিসির ইভেন্ট। তবে এখানে কিন্তু আছে। দুই দলকে একই গ্রুপে খেলতে হবে। আইসিসির কোষাগার সমৃদ্ধ করতে পাক-ভারত ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকার কারণে আইসিসি এই সুযোগ সহজে হাতছাড়া করতে চায় না। চেষ্টা করে দুই দলকে এক গ্রুপে রাখতে। আইসিসির বাইরে এসিসির টুর্নামেন্টেও দুই দল মুখোমুখি হয়ে থাকে। আইসিসি থেকে এসিসির কর্তারা আবার এক কদম এগিয়ে। তারা এমনভাবে সূচি করে থাকেন যেটিকে আরেক অর্থে দুই দেশের তিন ম্যাচের সিরিজও বলা যায়! দুই দলকে একই গ্রুপে রাখা হয়।
গ্রুপের অপর দুই দল এতই দুর্বল যে, তাদের সুপার ফোরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। ফলে ভারত-পাকিস্তান সুপার ফোরে যাওয়ার পর আরেক দফা দেখা হয়। এরপর যদি দুই দল ফাইনালে ওঠে, তা হলে সেখানে আবার দেখা। আর ফাইনালে দেখা হওয়া মানে তো এসিসির চাওয়া-পাওয়ার ষোলোকলাই পূর্ণ হওয়া। ভান্ডার ফুলে-ফেঁপে ওঠা। তাই ফাইনালে দেখা না হলেও দুই দেশের দুবার দেখা হয়েই থাকে। এসিসির তহবিল হৃষ্টপুষ্ট করতে দুই দেশ আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুবাইয়ে।
ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই তো ২২ গজের বাইরে অন্য কিছু। জয়-পরাজয় খেলার অংশ হয়ে থাকলেও অন্তত এই লড়াইয়ে দুটি দলই জিততে চায়। এখানে একে অপরের কাছে হারা মানে অনেক কিছু হারানো। রাজনৈতিক বৈরীর কারণে পাকিস্তান-ভারত লড়াই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের খেলা হয়ে উঠে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। এবারের আকাশের চাঁদ মাটিতে নেমে আসার আগে এক রকম অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহতে হওয়ার পর দুই দেশের মাঝে যুদ্ধ লেগে যায়।
এই যুদ্ধের কারণে ভারতের ক্রীড়াঙ্গন থেকে রব ওঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলার। বিষয়টি বেশি প্রভাব ফেলে ক্রিকেট খেলার ওপর। সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত খেলতেই নামেনি। এশিয়া কাপেও না খেলার স্লোগান উঠেছিল। এবারের আয়োজকও ছিল ভারত। শেষ পর্যন্ত সে পথে আর হাঁটেনি ভারত। তাই তো আজ দুই দেশ টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
এমনিতেই পাক-ভারত ম্যাচে থাকে রাজনৈতিক আবহ। সেখানে আবার পাহেলগাম ঘটনায় উত্তেজনায় টইটম্বুর। আগে দুই দেশের খেলোয়াড়দের বাহ্যিক আচরণে রাজনৈতিক মনোভাব থাকত না। কিন্তু পাহেলগাম ঘটনায় এবার সেখানে জিজ্ঞাংসা বা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব থাকবে দুই দলের ক্রিকেটারদের মাঝে। দর্শকদের মাঝে তো আরও বেশি প্রভাব থাকবে। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এবারের পাক-ভারত লড়াইয়ে ক্রিকেট খেলুড়ে অন্য সব দেশের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ থাকবে। এ রকম পরিস্থিতি আঁচ করা গেছে আবুধাবিতেও। আবুধাবিতেও প্রচুর পাকিস্তান আর ভারতের নাগরিকের বসবাস। কথার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে তাদের মাঝে কয়েক দিন আগে থেকেই।
১১ সেপ্টেম্বর দুবাই হয়ে আবুধাবি আসার পর বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তান-ভারতের নাগরিকদের মাঝে আলোচনায় ছিল এই দুই দেশের ম্যাচ। যেখানে একপর্যায়ে তাদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে অন্য রকম এক উত্তেজনা। যে উত্তেজনায় জানান দিচ্ছিল এবার অন্তত এই ম্যাচ হারা যাবে না। যে করেই হোক জিততেই হবে। ট্যুরিস্ট ক্লাব এলাকায় দেখা হয় পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দা মাহমুদের সঙ্গে। তিনি ঘুরতে এসেছেন। আগে শিডিউলে না থাকলেও এখন পাক-ভারত ম্যাচকে শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনে দুবাই গিয়ে ম্যাচ দেখবেন। টিকিটও ম্যানেজ করে ফেলেছেন। জানালেন, ‘অনেক দিন পর পাকিস্তান-ভারতের ম্যাচ দেখবেন মাঠে বসে।’ ম্যাচ জেতার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। একই এলাকায় ভারতের পাঞ্জাব থেকে ঘুরতে এসেছেন স্ত্রীকে নিয়ে রাজিন্দ্র সিং। মাঠে গিয়ে তিনি খেলা দেখবেন না। কিন্তু মোবাইলে খেলা দেখবেন। তিনি বলেন, ‘এসিসি বা আইসিসির টুর্নামেন্টে ভারত এখন সব সময় পাকিস্তানকে হারায়। এবার তো জেতার জেদ আরও বেশি থাকবে এবং ভারতই জিতবে।’ শুধু তারাই নন, অনেক বাংলাদেশিও এই ম্যাচ নিয়ে বেশ আগ্রহী। তাদের কেউ পাকিস্তানের আবার কেউ ভারেতর সমর্থক। নিজ নিজ সমর্থিত দলের জয়ের ব্যাপারে তারাও আশাবাদী।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান-ভারতের ম্যাচ নিয়ে আবুধাবিতেও বেশ উত্তেজনা টের পাওয়া যাচ্ছে। যে উত্তেজনায় প্রচণ্ড তাপমাত্রাও হার মানার উপক্রম হয়েছে।
পলাশ/নিলয়/