আবুধাবির গরমে আবারও আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। প্রথম ওয়ানডে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। সিরিজে টিকে থাকতে না পারলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া হবে বাংলাদেশের। সেই ইতিহাস গড়ার দিকেই চোখ আফগানদের। মিরাজদের লড়াই ঘুরে দাঁড়ানোর।
বাংলাদেশ এখন যেন হারের বৃত্তে বন্দি। গত ১২ মাসে ১২টি ওয়ানডেতে জিতেছে মাত্র দুটি। একসময় ফরম্যাটটিতে দাপট দেখানো দলটি এখন হারছে নিয়মিতভাবেই। প্রথম ওয়ানডেতে সেটাই স্পষ্ট। শুরুটা ভালো হলেও দুর্বল শট আর দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে ভেসে যায় দল। ৪ উইকেটে ১২১ রান থেকে হঠাৎই ধসে পড়ে ইনিংস, শেষ পর্যন্ত থামে ২২১ রানে।
১০১ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি ছাড়া আর কোনো ইতিবাচক দিক ছিল না ব্যাটিংয়ে। রশিদ খান ও খারোতের ঘূর্ণিতে ধসে যায় বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। তিনজন এলবিডব্লিউ হন, যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচ ফিল সিমন্সের জন্য।
অন্যদিকে অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ব্যাটে অবদান রাখতে না পারায় দল চাপে। নামমাত্র ফর্মে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত এখন দলের সবচেয়ে বড় চিন্তা। একসময় তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক ছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্ম একেবারেই হতাশাজনক। শেষ পাঁচ ওয়ানডেতে তার রান মাত্র ৩৭।
আবুধাবির ধীর গতির উইকেটে আফগানিস্তান চার স্পিনার খেলিয়েছে, যার সুফলও পেয়েছে। বাংলাদেশ সেই শিক্ষা নিয়েই হয়তো দ্বিতীয় ম্যাচে বাড়তি স্পিনার খেলাতে পারে। তাই দলে রিশাদ হোসেনের ফেরার সম্ভাবনা প্রবল।
অন্যদিকে আফগানিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। শেষ পাঁচ আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারের পর বুধবারের জয় ছিল তাদের জন্য এক প্রকার ‘স্বস্তি’। ৫ উইকেটের সেই জয় শুধু আত্মবিশ্বাসই ফিরিয়ে দেয়নি বরং তাদের একাধিক পারফরমারকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বল হাতে তিন উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ানডে ফরম্যাটে এই অলরাউন্ডারের ধারাবাহিকতা আফগানিস্তান দলের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হচ্ছে।
রশিদ খানও ফিরেছেন স্বরূপে। ৩৮ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে পেরিয়েছেন ২০০ ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক। তার নিখুঁত লেগস্পিনে মেহেদী হাসান মিরাজ, জাকের আলী ও নুরুল হাসান তিনজনই এলবিডব্লিউ হন; যা বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
রহমানউল্লাহ গুরবাজের শান্ত ইনিংসটিও প্রশংসার দাবি রাখে। নিজের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিং সামলে তিনি খেলেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস। পাশে ছিলেন অভিজ্ঞ রহমত শাহ, যিনি ৭৮ রানের জুটিতে দলের ভিত্তি গড়ে দেন। রহমত আফগানিস্তানের ‘ইঞ্জিন রুম’; যার ব্যাটিংয়ের ওপর দাঁড়িয়েই ঝলক দেখাতে পারেন ওমরজাই বা রশিদরা।
স্পিন আক্রমণেও আফগানিস্তান দেখিয়েছে গভীরতা। নবীন বাঁ হাতি স্পিনার নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতে পুরো ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩১ রান দেন, সঙ্গে তুলে নেন সাইফ হাসানের উইকেট। এমন ‘পারসেন্টেজ বোলার’দের কারণেই আফগানিস্তান এখন এক সুসংগঠিত ওয়ানডে দল।
আফগানিস্তান যদি আজ জেতে, তবে তারা টানা তৃতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতবে। যা দুই দলের সাম্প্রতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশাল অর্জন। অন্যদিকে বাংলাদেশ যদি লড়াইয়ে ফিরতে চায়, তবে তাদের দরকার ব্যাটে-বলে তুখোড় পারফরম্যান্স।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
উইকেট ও আবহাওয়া
আবুধাবির পিচ প্রথম ম্যাচের মতোই ধীর গতির হওয়ার সম্ভাবনা। ব্যাটসম্যানদের তাই রান তুলতে হবে পরিশ্রম করে। দুপুরের গরমও থাকবে প্রবল, তবে সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হবে।
পরিসংখ্যান
• গত ১২ মাসে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ২টি ওয়ানডে, বর্তমানে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে।
• আফগানিস্তানের রহমত শাহ ১১৯ ইনিংসে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ছুঁয়েছেন ৪০০০ ওয়ানডে রান। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তার মোট রান এখন ৪৯৯৮।
• প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছে ১৬৮টি ডট বল, যা ইনিংসের ৫৭.৩৪ শতাংশ। আফগানিস্তান খেলেছে ৫৩.৩৬ শতাংশ ডট বল।
চঞ্চল/নিলয়/