আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হার্ড রক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিলেব লিওনেল মেসি। সেখানে বসেই ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে নিজ দেশের জয় দেখেছেন ১-০ ব্যবধানে। কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রাম দেন সেই ম্যাচে।
তবে একদিন পরই মাঠে নামলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও ঠিকই মাঠ মাতিয়েছেন ক্লাবের হয়ে। আর মাঠে নেমেই করলেন জোড়া গোল। তাতে আটালান্টা ইউনাইটেডকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি।
রবিবার (১২ অক্টোবর) ঘরের মাঠ চেজ স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে মায়ামির হয়ে গোলের সূচনা করেন আর্জেন্টাইন তারকাই। যদিও এর আগে মিস করেন দুটি সহজ সুযোগ। ২১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের বক্সে বুক দিয়ে রিসিভ করে গোলকিপারকে একা পেয়েও ব্যর্থ হন তিনি গোল আদায় করতে।
একইভাবে গোলকিপারের একেবারে নিকটে বল পেয়েও ৩২ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন মেসি। দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন এই তারকা ফুটবলার। সম্ভবত সেই দুই মিসেই তাড়না পান গোল আদায়ের। বক্সের বাইরে মেসি বল পান সতীর্থ বালতাসার রদ্রিগেজের কাছ থেকে। দুই তিন পা এগিয়ে বক্সের ঢোকার পরই বাঁকানো শটে ৩৮ মিনিটে মায়ামি ও নিজের প্রথম গোলটি করেন মেসি।
প্রথমার্ধে আরও একাধিক সুযোগ পেয়েও স্কোর বাড়াতে পারেনি মায়ামি। মেসি-সুয়ারেজরা হাতছাড়া করেন গোলের সুযোগ। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-০ ব্যবধানেই।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় মায়ামি। এই গোলটিতে জর্দি আলবাকে সহায়তা করে মেসিই। মাঝপঠেরও কিছুট দূর থেকে বিস্ময়কর এক পাস দেন আলবাকে মেসি। সেই পাসের প্রথম টাচেই এগিয়ে আসা গোলকিপার মাথার ওপর দিয়ে গোল করে ২-০ ব্যবধানে মায়ামিকে এগিয়ে দেন আলবা। মেসির ক্যারিয়ারের অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন ৩৯৬।
দুই বার্সা সতীর্থের গোলের পর আর পিছিয়ে থাকেননি লুইস সুয়ারেজও। মায়ামির ক্রস ক্লিয়ারের প্রচেষ্টায় আটালান্টা ডিফেন্ডারের করা হেড বক্সের বাইরে পেয়ে পাওয়ারফুল এক কিকে ব্যবধান ৩-০ করেন সুয়ারেজ।
যেই আলবাকে লম্বা পাস দিয়ে গোল করিয়েছিলেন মেসি। তাকে এবার লম্বা পাসে গোল করান আলবা ৮৭ মিনিটে। ২১ ও ৩২ মিনিটে যেভাবে গোল মিস করেছিলেন, এবার সেই প্রচেষ্টাতেই গোল করে আগের দুই মিসের প্রায়শ্চিত্ত করেন আর্জেন্টাইন তারকা। এতে করে জোড়া গোল পূর্ণ হয় মেসির। মায়ামি জয় পায় ৪-০ ব্যবধানে।
কিছুদিন আগে বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া আলবাকে ম্যাচশেষে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি আমার ক্যারিয়ারটা খুবই ভালো কেটেছে। সব দিক থেকেই সুবিধাজনক দলগুলোতে ছিলাম। এই ভিডিওতেও সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে এটা ছিল দারুণ এক চমক। কারণ এতে বিভিন্ন ক্লাবের কয়েকজন কোচকে দেখেছি যাদের অধীনে আমি খেলেছি। সত্যি বলতে, এটি ছিল বিশেষ এক অনুভূতি, আর আমি আমার অর্জনগুলোর জন্য গর্বিত। এখন আমি নাশভিলের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা খেলার অপেক্ষা। এরপর প্লেঅফ এবং আশা করি সেখানে জিততে পারব।’
নিলয়/