প্রথম দুই ম্যাচ হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের উঠার রেস থেকে কার্যত ছিটকে গেছে আফগানিস্তান। কাগজে-কলমে বেঁচে আছে তাদের আশা। একদিকে, দলটির জিততে হবে শেষ দুই ম্যাচ। আরেকদিকে, প্রার্থণা করতে হবে অন্যদের হারের জন্য। এমনই কঠিন সময়ে অবশেষে জয়ের দেখা পেল আফগানিস্তান।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। দিল্লিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ১৬০ রান তুলে আমিরাত। লক্ষ্য তাড়ায় ৪ বল হাতে রেখেই সফল হয় আফগানরা। অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। তার ব্যাটেই উইনিং রান পায় আফগানিস্তান।
জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে ১৭ রান প্রয়োজন ছিল আফগানদের। ১৯তম ওভারে আজমতুল্লাহর চার-ছক্কায় আসে ১৩ রান। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ২১ বলে তার ৪০ রানের ইনিংসে ছিল ২ চার এবং ৩ ছক্কার মার। তার আগে, বোলিংয়ে মাত্র ১৫ রান খরচায় ৪ উইকেট করে তিনিই ছিলেন দলের সেরা বোলার।
আজতুল্লাহর দিনে বৃথা যায় শোয়েব খানের লড়াই। ৪৮ বলে ৬ চার এবং ৪ ছক্কায় ৬৮ রান করেন তিনি। ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন আলিসান শরাফু। দুজনের ব্যাটে ভর করেই লড়াই করার পুঁজি গড়েছিল আমিরাত। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কিছুটা চাপও সৃষ্টি করেছিল দলটি। কিন্তু টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় হার আটকাতে পারেনি।
আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে বড় অবদান ছিল ইব্রাহিম জাদরানের। ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ছোট ছোট অবদান রাখেন গুলবাদিন নায়েব (১৩), সেদিকুল্লাহ অটল (১৬) এবং ডারউইস রাসুলি (৩৩)। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ফিনিশিং টানেন আজতুল্লাহ এবং তার হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।
সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের টেবিলে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান এবং আমিরাত। রশিদ খানদের এই জয়ে সুপার এইট পর্ব নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রোটিয়ারা ৩ ম্যাচের সবকটি জিতে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। দুইয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের অর্জন ৪ পয়েন্ট। তারাও খেলেছে ৩ ম্যাচ। ২ ম্যাচ খেলা কানাডা এখনও প্রথম জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
অনিক/