ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে কুরাসাও। গতকাল (১৪ জুন) এমন চরম বিপর্যয়ের পরও দলের খেলোয়াড়দের ভেঙে পড়ার কোনো কারণ দেখছেন না কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। বরং টুর্নামেন্টে এখনো সফল হওয়ার এবং তা উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
৭৮ বছর বয়সি এই ডাচ কোচ স্বীকার করেছেন যে, তার খেলোয়াড়রা এমন ফলের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের প্রথম উপস্থিতিতে দল যে কিছু সহজ গোল উপহার দিয়েছে, সেটিও মেনে নেন তিনি।
ম্যাচ শেষে অ্যাডভোকেট বলেন, ‘আমাদের এই আসরটিকে একটি সুন্দর টুর্নামেন্টে রূপান্তর করতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে আমরা হয়তো কোনো চমক দেখাতে পারি। দিনশেষে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অংশ হতে পেরেই আমরা আনন্দিত।’
ম্যাচে জার্মানির ফেলিক্স এনমেচা চলতি টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোলটি করেন। এরপর চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা একের পর এক গোল করতে থাকে। তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে লিভানো কোমেনেনসিয়ার একটি ডিফ্লেক্টেড (দিক পরিবর্তিত) শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করলে ১-১ সমতায় ফেরে কুরাসাও।
যদিও শেষ পর্যন্ত জার্মানির আক্রমণভাগের সামনে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ। তবে এই হারের জন্য খেলোয়াড়দের লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন কোচ, ‘জার্মানির বিরুদ্ধে আমরা আরও ভালো কিছুর আশা করেছিলাম, কিন্তু তা পারিনি। ওরা অত্যন্ত শক্তিশালী দল এবং আমরা কিছু সহজ গোল খেয়েছি। তবে খেলোয়াড়রা জানে যে এই হারে তাদের মন খারাপ করার কিছু নেই। এটি কোনো লজ্জাজনক পরাজয় নয়।’
খেলা চলাকালীন দলের ব্যবধান যতই বাড়ছিল, গ্যালারি থেকে কুরাসাওয়ের সমর্থকরা ততই জোরে চিৎকার করে ফুটবলারদের উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছিলেন। দর্শকদের এই অসাধারণ সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন কুরাসাও কোচ। একই সঙ্গে ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময়কার নিজের আবেগের কথাও ভাগ করে নেন তিনি।
অ্যাডভোকেট বলেন, ‘জাতীয় সঙ্গীত শুরুর সময় আবেগের আতিশয্যে আমাকে ডাগআউটে ফিরে যেতে হয়েছিল। কারণ এটি কুরাসাওয়ের সাধারণ মানুষের আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে। তখনই আবেগগুলো সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। দেশের মানুষের এই আনন্দ সত্যিই অসাধারণ।’
পাপ্পু/অনিক/