স্কোরবোর্ডে ২১২ রান তুলে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের নিচে আটকে রাখতে পারলেই বাজিমাত হয়ে যেত। কিন্তু কঠিন চ্যালেঞ্জটা জেতা হয়নি তাদের। ৫ রানের জয়ের পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান। দলের বিদায়ের দায় নিলেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘা।
গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর সালমান বলেন, ‘আমরাই দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলাম, তাই পুরো দায় আমরা নেব। আমি দায়িত্ব নিচ্ছি, কোচও নিশ্চয়ই নেবেন। চাপের মুহূর্তে আমাদের আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ চাপের মধ্যেই আমরা ভুল করেছি। আর আইসিসি ইভেন্টে চাপ বেশি থাকে, কারণ আপনি বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলেন।’
বিশ্বকাপে বাজে ফর্মে ছিলেন সালমান। সাত ম্যাচে ব্যাট করে মাত্র ৬০ রান করতে পারেন এই ব্যাটার। তাই তাকে নিয়েই সমালোচনা তুঙ্গে। তোপের মুখে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে, ‘আমি তিন নাম্বারে নেমে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ভালো খেলেছিলাম। বিশ্বকাপে সেই পারফরম্যান্স দিতে পারিনি। এখন যে কোনো সিদ্ধান্ত আবেগপ্রসূত হতে পারে। দেশে ফিরে সময় নিয়ে তারপর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।’
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাবর আজম। তাকে দলে রাখা এবং চার নাম্বারে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই বিতর্ক চলছিল। নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাবরকে ব্যাট করতে না পাঠিয়ে কোচ মাইকে হেসন সেই বিতর্ক আরও উসকে দেন। তিনি বলেছিলেন, পাওয়ারপ্লে বা ডেথ ওভারে ব্যাট করার জন্য বাবর ‘আদর্শ পছন্দ’ নন। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে তো একাদশেই জায়গা হয়নি বাবরের।
দলে বাবরকে রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে সালমান বলেন, ‘একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত সবার। এটি একজনের সিদ্ধান্ত নয়। এই বিশ্বকাপে বাবরের আলাদা ভূমিকা ছিল। তাকে চার নাম্বারে খেলানো হয়েছিল, কারণ আমাদের এমন একজন ব্যাটসম্যান দরকার ছিল, যিনি মাঝের ওভারে এসে স্থিতি আনবেন এবং ধস সামাল দেবেন। বিশ্বকাপে খেলতে এলে খেলোয়াড়দের ভূমিকা নির্ধারণ করতেই হয়।’
অনিক/