ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা তখন শেষ। খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমের পথ ধরার কথা। কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমা, আফঈদা খন্দকাররা সেটা করলেন না। তারা ছুটে গেলেন গ্যালারির দিকে। মাঠে এসে তাদের জন্য গলা ফাটানো প্রবাসী দর্শকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিয়ম করলেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যায়। তবে গতকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামের ঘটনাটা বিরল। বাংলাদেশ যে ম্যাচটি ২-০ গোলে হেরেছে। হেরে যাওয়া কোনো দল তো আর গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকে ছুটে না। আসলে বাংলাদেশ দল হারলেও গর্ব মিশে আছে সবার মাঝে। নারী এশিয়ান কাপের অভিষেকেই ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে যে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। আর তাদের এই লড়ে যাওয়ার প্রতি মুহূর্তে সঙ্গী ছিলেন গ্যালারির ওই দর্শকরা।
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামের গ্যালারি বিশাল। ৩০ হাজার লোকের ধারণ ক্ষমতা। গতকাল যদিও অনেক অংশই ফাঁকা ছিল। তবে বাংলাদেশ বাংলাদেশ চিৎকারে সেই সব শূন্য স্থানও ভরে উঠছিল। তুলনায় চীনা দর্শকরাই গ্যালারিতে বেশি ছিলেন। ম্যাচের ফলাফলেও চীনা দর্শকদের জয় হয়েছে। তবে সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের সমর্থকরা হার মানেননি।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা আসলে রোমাঞ্চ নিয়ে দেশের মেয়েদের খেলা দেখতে এসেছিলেন। প্রথমবার এশিয়ান মঞ্চে খেলছে নিজ দেশ, এই গর্ব ছিল তাদের কণ্ঠে। প্রায় ৩২ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা নাজমুল হোসেন যেমন বললেন, ‘গত বছরের জুলাই মাসে যখন বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করে, তখন থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি খেলা দেখব। সেপ্টেম্বরে যখন টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখনই টিকিট সংগ্রহ করেছি।’
গতকাল বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়। নাজমুল লাল-সবুজের পতাকা হাতে মাঠে আসেন প্রায় ঘণ্টা চারেক আগে। ঋতুপর্ণাদের খেলা দেখতে আসলে তর সইছিল না তার। একজন জানালেন, তার অফিস ছিল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের খেলার জন্য অফিসে মন বসছিল না। তাই হাফ অফিস করে ছেলের জার্সি পরে মাঠে চলে এসেছেন তিনি।
রেজা হাসান নামের এক প্রবাসী মাঠে ঢুকার সময়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি খেলা দেখি না। কিন্তু শুধুমাত্র মেয়েদের সাপোর্ট করতেই এসেছি। ওরা এত ভালো করতেছে, তাই এই সাপোর্টটুকু দেওয়া দরকার।’ মোহাম্মদ তালহা নামের একজন বলেন, ‘মেয়েদের খেলা দেখতে খুবই রোমাঞ্চিত। ফুটবলে আমরা কখনোই এত বড় পর্যায়ে আসিনি। আমাদের মেয়েরা সেখানে বাংলাদেশকে এত বড় মঞ্চে নিয়ে গেছেন। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত।’ অনেকে মাঠে এসেছিলে সপরিবারে।
প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী হওয়ায় ফলাফল যদিও অনুমিত ছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না কেউ। তাদের মনে ছিল বিশ্বাস। মেয়েরা তাদের হতাশ করবেন না। হয়েছেও তাই। চীনের বিপক্ষে হারলেও মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়েন ঋতুপর্ণা-আফঈদারা। প্রবাসী সমর্থকরা গ্যালারি ছেড়েছেন গর্ব নিয়ে।