টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ইতোমধ্যেই চোখ রেখেছেন অলিম্পিক গেমস ও টুর্নামেন্টের পরবর্তী সংস্করণের দিকে। রবিবার (৮ মার্চ) রাতে জয়ের পরই তিনি ঘোষণা করেন, এখন দলের পরবর্তী লক্ষ্য অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতা, ‘পরবর্তী লক্ষ্য অলিম্পিক। অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। ভুলবেন না।’
এর আগে রোহিত শর্মা ২০২৪ বিশ্বকাপ জয়ের পর বার্বাডোজে অবসর ঘোষণা করেছিলেন। একই পরিস্থিতিতে সূর্যকুমারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। এই ঘোষণার মাধ্যমে এখন পরিষ্কার হলো আগামী দুই বছরে ভারত কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করে তুলবে।
অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে ২০২৮ সালের আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেসে, আর পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে সেই বছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। সূর্যকুমার গত এক মাসের যাত্রাপথের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতিটা এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি।
সূর্যকুমারের কথায়, ‘এটা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে একটু সময় লাগবে। আমরা মাত্রই একটি ম্যাচ থেকে বেরিয়ে এসেছি। এটা ভালো একটি ম্যাচ ছিল। নিজেদের মাঠে খেলেছি। আগামীকাল ঘুম থেকে উঠে বাড়ি ফিরলে, আমরা কোথায় যাচ্ছি জানি না, তবে এটা বিশেষ এক অনুভূতি হবে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর গত দুই বছরে যা হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য এবং আমি কীভাবে তা প্রকাশ করব বুঝতে পারছি না। এটি ছিল এক অসাধারণ যাত্রা।’
‘অবশ্যই গত এক মাসও অসাধারণ ছিল, যদিও শুরুটা আমাদের চাওয়া অনুযায়ী হয়নি। তবে এটা খেলাধুলারই অংশ। সেই যাত্রা থেকে আজ পর্যন্ত পুরো পথটা আমাদের জন্য খুব বিশেষ ছিল এবং দল হিসেবে আমরা যা অর্জন করেছি তা সবার সামনে রয়েছে।’
বিশ্বমঞ্চে ৯ ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ৮টিতে, যদিও শুরুটা খুব মসৃণ ছিল না। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে ভারতকে কষ্ট করতে হয় এবং সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যায় তারা। সূর্যকুমার বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই তাদের অভিযান গতি পায়।
‘চেন্নাইয়ে যখন আমরা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছি। সামনে কীভাবে খেলতে হবে সে বিষয়ে কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম। আর যখন ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (ভার্চুয়াল) কোয়ার্টার ফাইনাল খেললাম, তখন অনুভব করলাম এই দলের আত্মবিশ্বাস অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।’
ভারত অধিনায়ক বলেন, ২০২৪ সালের ফাইনালে তার নেওয়া স্মরণীয় ক্যাচটি তার জীবনই বদলে দিয়েছে এবং অধিনায়ক হওয়ার পর তিনি ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন।
‘ওই ক্যাচটি আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। কারণ সেটিই ছিল টুর্নামেন্টের মুহূর্ত। এরপর যখন আমি এই অসাধারণ দলের নেতৃত্ব দিতে শুরু করি, তখন এটা খুব বিশেষ অনুভূতি ছিল, কারণ আমি জানতাম দুই বছর পর আমরা ভারতে বিশ্বকাপ খেলব।’
‘ভারতে এর আগে কোনো দল কখনও জেতেনি। আর আপনি যখন ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বা কোনো টুর্নামেন্ট খেলেন, তখন সেখানে আলাদা এক আবহ, আলাদা উত্তেজনা থাকে। তাই আমরা যখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে শুরু করি, তখন থেকেই সবাইকে বলতাম- ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে পারাটা উপভোগ করো, কারণ মানুষ তোমাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করবে, তোমাদের সঙ্গে কথা বলবে, আর তোমরা এটাকে আরও বেশি উপভোগ করবে।’
‘এই উত্তেজনাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সেই যাত্রা শুরু করেছিলাম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা যেভাবে খেলেছি, যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম এবং যেভাবে এই ট্রফি জিতেছি, সবই সেই উত্তেজনার অংশ। তাই এটি ছিল এক সুন্দর যাত্রা। আশা করি এটি চলতেই থাকবে।’
ভারত এখন আরও আক্রমণাত্মক ধাঁচের ক্রিকেট খেলছে এবং অধিনায়ক বলেছেন, এই ধারাই বজায় থাকবে, ‘২০২৪ সালের পর সবকিছু বদলে গেছে। আমরা ২০২৪ সালে ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলেছিলাম এবং সেখান থেকেই বুঝেছি এই দলকে সামনে কীভাবে এগোতে হবে, কীভাবে খেলতে হবে।’
‘তারপর থেকে এটি এক অসাধারণ যাত্রা। আমরা ২০২৫ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি, সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলেছি, আর ২০২৬ সালে আমরা নিজেদের দর্শকদের সামনে বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমরা চাই ২০২৭, ২০২৮, ২০২৯- এই ধারাটা চলতেই থাকুক এবং কখনও থেমে না যাক।’- সূর্যকুমার শেষ করেন।
অনিক/