ছবি: সংগৃহীত
দারুণ ছন্দ নিয়ে বিশ্বকাপে পা রেখেছে বেলজিয়াম। আফ্রিকার দল মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ নিজেদের মিশন শুরু করবে দলটি। লক্ষ্য অন্য কিছু নয়, নিজেদের সাম্প্রতিক সময়ের অপরাজিত যাত্রাটা ধরে রাখা। সিয়াটলে ম্যাচটি শুরু হবে সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
রুডি গার্সিয়ার কোচিংয়ে নিজেদের সবশেষ ১৩ ম্যাচে অপরাজিত বেলজিয়াম। সবশেষ তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে স্কোরশিটে নাম তুলেছিল বেলজিয়ামের পাঁচ ফুটবলার।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোমেনিকো টেডেস্কোর স্থলাভিষিক্ত হন গার্সিয়া। যদিও বেলজিয়ামের ডাগআউটে শুরুটা ভালো ছিল না তার। প্রথম ম্যাচেই হারের স্বাদ পান। তবে পরবর্তীতে উয়েফা নেশন্স লিগের লিগ ‘এ’ থেকে বেলজিয়ামের অবনমন এড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। আর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তো অপরাজিতই ছিল তার দল। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা বেলজিয়াম মোট গোল করেছিল ২৯টি। ইউরোপিয়ান অঞ্চলে তাদের চেয়ে বেশি গোল করেছিল কেবল নরওয়ে (৩৭)।
ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার জেরেমি ডোকু ছিলেন দুর্দান্ত। বাছাই পর্বে একাই ৫ গোল করেন তিনি। এ ছাড়া সতীর্থের দুই গোলে অবদানও রাখেন। সবশেষ তিউনিসিয়া ম্যাচেও দুটি অ্যাসিস্ট ছিল তার। চোটের কারণে যদিও ২০২৫-২৬ ফুটবল মৌসুমের অনেকটা সময় সাইডলাইনে কেটেছে ডোকুর। এরপরও বেলজেয়ামের আক্রমণভাগে রোমেলু লুকাকুর সঙ্গে তিনিও থাকবেন স্পটলাইটে। প্রতিপক্ষের জন্য নিশ্চিতভাবেই হবেন বড় হুমকি। আর লুকাকু তো বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের সেই খেলোয়াড়দের একজন, যিনি প্রতিযোগিতায় নিজের ছাপ রেখে যেতে মরিয়া থাকবেন। ৮ বছর আগের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ করেছিলেন। এবার নিশ্চয়ই চাইবেন আরও এগিয়ে যেতে।
মরিয়া থাকবেন তো একজন মোহামেদ সালাহও! মিসরের পোস্টার বয় সম্প্রতি লিভারপুলের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। দেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে যতটা সম্ভব এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য তো তার থাকবেই। পাশাপাশি এখানে পারফর্ম করে দলবদলের বাজারে নিজের চাহিদা বাড়াতে চাইবেন। ম্যাচের দিনটা আবার সালাহর জন্য বিশেষও। এদিন যে তার ৩৪তম জন্মদিন। নিশ্চয়ই এই দিনটা স্মরণীয় করতে চাইবেন তিনি।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সবশেষ ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে মিসর। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হারলেও বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে তারা দলে কোনো চোট সমস্যা ছাড়াই। যদিও বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে ফিফার নির্দেশে তাদের শেষ বেলায় জার্সি বদল করতে হয়েছে। তবে এ ঘটনা নিশ্চয়ই মাঠের খেলায় কোনো প্রভাব রাখবে না। মিসর কোচ হোসাম হাসান সম্ভব এ ম্যাচে রক্ষণাত্মক কৌশলেই দলকে খেলাবেন। আগেই যিনি বলেছেন, গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম ম্যাচটিই তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হবে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বেলজিয়ামের অবস্থান ৯ম। মিসরের অবস্থান ২৯তম। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দল এবারই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তারা চারবার মুখোমুখি হয়েছে। জয়ের পাল্লা মিসরেরই ভারী। ৩টি ম্যাচে মিসর জিতেছে, অন্যটিতে জয় বেলজিয়ামের। সবশেষ দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০২২ সালে। কুয়েতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ২-১-এ জয় পেয়েছিল মিসর।
বিশ্বকাপের মঞ্চে অবশ্য আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে বেলজিয়ামের সাফল্যের হারই বেশি। পাঁচবার আফ্রিকান দলের মুখোমুখি হয়ে তিনটিতেই জয় পেয়েছে তারা, ড্র করেছে একটি। একমাত্র হারটি ২০২২ আসরে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আগের আসরে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়ামকে। এবার অবশ্য সেই ক্ষতে প্রলেব দিতে চায় থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনরা। এই মিশনে শুরুটা কেমন হবে তাদের?