ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারের অবসর নিয়ে নতুন এক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, তার অবসরের প্রায় এক বছর আগেই তাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভেবেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অব কন্ট্রোল (বিসিসিআই)।
তৎকালীন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ২০১২ সালে টেন্ডুলকারের ফর্ম খারাপ থাকায় নির্বাচকরা তার বিকল্প খুঁজছিলেন এবং এ বিষয়ে সরাসরি তার সঙ্গে কথাও বলেন।
সেই সময় টেন্ডুলকারকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?” জবাবে টেন্ডুলকার অবাক হয়ে জানতে চান কেন এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তখন পাটিল তাকে জানান যে নির্বাচক কমিটি তার বিকল্প খুঁজছে।
পাটিলের ভাষায়, “আমি বলেছিলাম কমিটি তোমার বিকল্প ভাবছে। এটা শুনে সে অবাক হয়ে গিয়েছিল। পরে সে আবার ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল- আমি কি সত্যিই সিরিয়াস? আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ।”
২০১২ সালটি টেন্ডুলকারের জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। ওই বছর নয়টি টেস্টে তার গড় ছিল মাত্র ২৩.৮০, যেখানে একটি শতকও করতে পারেননি। ওয়ানডেতেও ১০ ম্যাচে তার গড় ছিল ৩১.৫০। তবে পাটিল বলেন, নির্বাচকদের ক্ষমতা কোনো খেলোয়াড়কে জোর করে অবসর নিতে বাধ্য করা নয়।
“নির্বাচকরা কাউকে দল থেকে বাদ দিতে পারে, কিন্তু কোনো খেলোয়াড়কে বলতে পারে না যে তার ক্যারিয়ার শেষ। আমরা শুধু তার পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলাম। সে বলেছিল খেলতে চায়, আমরা বলেছিলাম ঠিক আছে,” বলেন তিনি।
পাটিল আরও জানান, তার নির্বাচক হিসেবে সময়টাকে অনেকেই মনে রাখেন টেন্ডুলকারকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গের জন্য। অথচ ওই সময়েই ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছিলেন ভবিষ্যতের তারকারা- জাসপ্রিত বুমরাহ, রবিন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, আজিঙ্কা রাহানে এবং মোহাম্মদ সামি।
শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান টেন্ডুলকার। তার ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
অনিক/