বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা বর্তমানে অপেক্ষায় রয়েছেন সাকিব আল হাসানের জটিলতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সম্ভাব্য বিদায় নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। তারকা অলরাউন্ডার মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যদি আরও কিছুটা উদ্যোগ বাড়ায়, তাহলে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান সম্ভব হতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নানা জল্পনা, প্রত্যাশা এবং আশ্বাস থাকলেও সাকিবের প্রত্যাবর্তন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এতে করে ক্রিকেট অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি বিসিবি এখন পর্যন্ত আন্তরিক ছিল। তাদের প্রচেষ্টা যদি আর একটু বাড়ে, তাহলে হয়তো দ্রুতই সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’
‘উই আর সাকিবিয়ান’ নামের এক আলোচনায় খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে অভিজ্ঞ টাইগার অলরাউন্ডার জানান, বিষয়টি এখনও আইনি জটিলতার মধ্যে আটকে আছে। তবে তিনি আশাবাদী যে সমাধান সম্ভব, ‘আমি আশা করি আমি ফিরতে পারব। এ মুহূর্তে সবকিছু আইনি জটিলতায় আটকে আছে। এগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি আইনি হওয়ায় এর আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়ায় সময় কত লাগবে তা বলা কঠিন, ‘যদি বর্তমান আইনি সমস্যাগুলোর সমাধান হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আমি ফিরব। যেদিন সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ পরের দিনই আমি ফিরে আসব।’
ক্রিকেটের বাইরেও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাকিব। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা দেশের উন্নতির কথাই ভাববেন। সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অলরাউন্ডার। তার ভাষায়, শুধু ধন্যবাদ জানানো যথেষ্ট নয়, অনলাইন, অফলাইন, মাঠ ও মাঠের বাইরে সব জায়গায় সমর্থনের জন্য তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
রাজনীতিতে তার সংক্ষিপ্ত সম্পৃক্ততার বিষয়েও কথা বলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি জানান, ক্রিকেটই সবসময় তার প্রধান অগ্রাধিকার ছিল। সাকিব আরও বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও তিনি রাজনীতির বদলে ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ পেয়েছিলেন।
তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি হত্যা মামলার বিষয়টি তাকে কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান সাকিব। পরে তিনি জানতে পারেন, যিনি মামলা করেছিলেন তিনি নিজেও জানতেন না কীভাবে সেখানে সাকিবের নাম যুক্ত হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এখন বাংলাদেশের এই সেরা অলরাউন্ডার অপেক্ষায়- আইনি জটিলতা কাটলে আবারও মাঠে ফেরার আশায়।
অনিক/