বাংলাদেশের হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচেই সবার হৃদয় জিতে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার রোনান সুলিভান। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে নজরকাড়া দুটি গোল করেছেন এই ১৮ বছর বয়সী। প্রথমে ফ্রি কিক থেকে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। ডান পায়ের বাঁকানো সেই ফ্রি কিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন।
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে হওয়া ম্যাচটিতে ফ্রি কিক থেকে করা গোল রেশ থাকতে থাকতেই দ্বিতীয় গোল পেয়ে গিয়েছিলেন রোনান। এ দফায় নিখুঁত এক হেডে গোল করেন। সুবাদে ২-০ গোলের জয়ে সাফের বয়সভিত্তিক এই আসরে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরার পুরস্কার রোনান সুলিভানের হাতে ওঠে।
ম্যাচজুড়ে অসাধারণ খেলে রোনান সুলিভান জানান দিয়েছেন, স্ট্রাইকিং পজিশনে ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’ তিনি। সবার মতো রোনানে মুগ্ধ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলিও। সাবেক এই স্ট্রাইকার খবরের কাগজকে বলেন, ‘রোনানের গোল দুটির কথা যদি বলি, আমি বলব অবিশ্বাস্য দুটি গোল। একেক স্ট্রাইকারের একেক বিশেষ গুণ থাকে। কারও হেডিং ভালো, কারও প্লেসিং ভালো, কারও বা পজিশন সেন্স ভালো। তবে রোনানের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে, ছেলেটার সবকিছুই খুব ভালো।’
রোনানের গোল দুটি নিয়ে বিশ্লেষণও করেছেন এমিলি। প্রথম গোল নিয়ে বলেন, ‘ফ্রি কিক থেকে প্রথম গোলটা করেছেন। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে শট করার জন্য যে সাহস বা আত্মবিশ্বাস দরকার, অন্য কেউ হলে হয়তো এভাবে নিখুঁত শট মারতে পারত না। রোনান যে প্যাটার্নে গোল করেছেন, এটা এক কথায় মুগ্ধকর। যে অ্যাকুরিসি, যে পাওয়ার, যে সুইং ছিল; আমি বলব আমাদের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এটা অন্যতম সেরা গোল। আমি আমার ক্যারিয়ারে অন্তত ফ্রি কিক থেকে এরকম গোল দেখিনি।’
দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে বলতে গিয়ে প্রথম গোলের কথা টানেন এমিলি। তার কথায়, ‘ফ্রি কিক থেকে এমন গোল দেখে অনেক সময় আপনি বলতে পারেন, মিরাকল কিছু ঘটে গেছে। তবে দ্বিতীয় গোলটার মাধ্যমে ও প্রমাণ করেছে, ওটা মিরাকল কিছু ছিল না। হেডে দ্বিতীয় গোলটা যেভাবে করেছেন, আমি বলব পিউর স্ট্রাইকার যারা, একমাত্র তারাই এ ধরনের গোল করতে পারেন। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে ও খুবই সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়। শুধু গোল করা নয়, গোল করার বাইরেও ওর অন্যান্য দিকও খুব ভালো।’
রোনানকে এখনই জাতীয় দলে যুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন এমিলি, ‘জাতীয় দল বলেন বা বয়সভিত্তিক দল–দুই জায়গাতেই আমাদের প্রোপার স্ট্রাইকারের ঘাটতি রয়েছে। রোনান দুটি গোল করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো ওকে মেইনটেইন ও কন্ট্রোল করা। ওকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। যেহেতু আমাদের পর্যাপ্ত স্ট্রাইকার নেই, তাই আমার অনুরোধ থাকবে ওকে বয়সভিত্তিক দলের পাশাপাশি জাতীয় দলের সঙ্গেও রাখা হোক। এই মুহূর্ত থেকেই তাকে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একটা সময় গিয়ে লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলকে সার্ভিস দিতে পারবে।’