লা লিগার শিরোপা জয়ের পর গত কয়েকদিন ধরে উৎসবেই ডুবে আছে বার্সেলোনা। গান, উল্লাস, উদযাপন- সব মিলিয়ে কাতালানদের আনন্দ যেন থামতেই চাইছে না। সেই আনন্দের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়ে উঠল আরেক দল দোপোর্তিভো আলাভেস।
বুধবার (১৩ মে) রাতে মেন্দিসোরোসায় বার্সাকে আতিথ্য দিতে নেমে আলাভেস যেন বুঝেই গিয়েছিল, এদিন সুযোগ হাতছাড়া করা চলবে না। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর একাদশে বড়সড় পরিবর্তন আনেন। নিয়মিতদের বিশ্রাম দিয়ে মাঠে নামান পরীক্ষামূলক দল। এমনকি সেন্টারব্যাকে অভিষেকও হয়ে যায় তরুণ কর্টেসের।
ফলটা তাই অনেকটাই অনুমেয় ছিল। অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা আলাভেস পেয়ে যায় অমূল্য তিন পয়েন্ট। ১-০ গোলের জয় তাদের রেলিগেশন অঞ্চল থেকে ওপরে তুলে এনে অনেকটা স্বস্তির জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। বাকি দুই ম্যাচ এখন তাদের কাছে টিকে থাকার মিশন।
৩৬ ম্যাচে আলাভেসের পয়েন্ট ৪০ এবং বার্সার ৯১। কাতালান ক্লাবটির জন্য লিগের বাকিগুলো অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার। ১০০ পয়েন্টে মৌসুম শেষ করার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেলেও ঘরের মাঠে নিখুঁত রেকর্ড গড়ার সুযোগ এখনও আছে। তবে মেন্দিসোরোসায় সেই ক্ষুধা খুব একটা চোখে পড়েনি।
শুরুতে অবশ্য বল দখল আর আক্রমণে আধিপত্য ছিল বার্সারই। মার্কাস রাশফোর্ড ও রুনি কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে থাকে আলাভেস। রেব্বাচের শট প্রথম সতর্কবার্তা হয়ে আসে। এরপর তেনালিয়ার প্রচেষ্টাও বুঝিয়ে দেয়, স্বাগতিকরা শুধু রক্ষণ সামলাতে নামেনি।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মেন্দিসোরোসা বিস্ফোরিত হয় আনন্দে। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ব্লাঙ্কোর হেড ফিরে আসে বক্সে, আর সেখানে সবাইকে হারিয়ে হেড করেন ইব্রাহিম দিয়াবাতে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে কাছ থেকে তার নেওয়া শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না বার্সা গোলরক্ষক ভয়চেখের।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা যখনও পরীক্ষামূলক একাদশেই খেলছিল, তখন আলাভেস আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। দিয়াবাতে দ্বিতীয় গোলের সুযোগও পেয়েছিলেন, তবে তার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের শেষ আধাঘণ্টায় ফ্লিক মাঠে নামান পেদ্রি ও ফেররান তোরেসকে।
তবে শেষ পর্যন্ত আর বদলায়নি কিছুই। শিরোপা জয়ী বার্সা হয়তো হার নিয়ে খুব বেশি ভাববে না, কিন্তু আলাভেসের জন্য এই জয় ছিল টিকে থাকার লড়াইয়ে অক্সিজেনের মতো।
অনিক/