এমনিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিসিবির নির্বাচনে তামিম ইকবাল হস্তক্ষেপ করবেন। তিনি প্যানেল তৈরি করছেন। কিংবা তার কথার বাইরে কোনো কিছুই হবে না। কিন্তু তামিম ইকবাল নিজে সব সময় এসব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সাংবাদিকদের তিনি নিজেই জানিয়েছেন একটি ওপেন নির্বাচন হবে বলে। যেখানে সবাই অংশ গ্রহণ করবে। কিন্তু তামিম ইকবালের এই ইচ্ছাকে নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
গতকাল প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করতে অনীহা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনকে সাংবাদিকদের তীর্যক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সাংবাদিকদের চাপে পড়ে এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু সেখানেও তারা বিতর্কের জন্ম দেন। নির্বাচন কমিশন শুধু ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্লাব কোটার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেননি। নির্বাচন কমিশনের এ রকম ভূমিকা নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিসিবির নির্বাচনে ২৩টি পরিচালক পদে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। একইভাবে তার আগে দুই দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বিতরণ শেষে তারা সংবাদ সম্মেলনে একইভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না করে শুধু ৩ ক্যাটাগরিতে কতজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তার মোট সংখ্যা প্রকাশ করেন। গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে রিটার্নিং অফিসার তাহিরুল ইসলাম চৌহান প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করে মোট সংখ্যা প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিষয়েই একটা প্রাইভেসি থাকে। এখন বিভিন্ন কারণে সেটি লঙ্ঘিত হতে পারে বা অকার্যকরও হতে পারে। এখানে অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা আছে। যেগুলোর কারণে কোনো ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। যেমন ধরুন তার সুনামহানি, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার অভাব বা সামর্থ্য না থাকা। এ ছাড়া যদি ফৌজদারি কোনো মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, কিংবা অন্য কোনো ফেডারেশন বা বোর্ডে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে–এ ধরনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় আসে।’
নাম প্রকাশ না করলে অস্বচ্ছতা থেকে যায় বলে রিটানিং অফিসারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এটিকে ‘কোনো সমস্যা না’ বলে জানান। রিটাার্নিং অফিসারের এ রকম ভূমিকায় সাংবাদিকদের মাঝে অসন্তুষ বিরাজ করে। চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে রিটানিং অফিসার বলেন, ‘আপনারা যেহেতু আমাকে চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু এই নির্দেশনা আমার এখানে দেওয়া নাই।’ পরে সাংবাদিকদের চাপের মুখে তিনি শুধু ‘এ’ ক্যাটাগরির বিভাগ ভিত্তিক নাম প্রকাশ করেন।
এতে দেখা যায় ৩টি বিভাগ থেকে ৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তারা হলেন রাজশাহী বিভাগ থেকে বগুড়ার কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, সিলেট বিভাগ থেকে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং রংপুর বিভাগ থেকে ঠাকুরগাঁও জেলার কাউন্সিলর মির্জা ফয়সাল আমীন।
অথচ নির্বাচন কমিশন নাম প্রকাশ না করলে জানাই যেত না এই ৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। রাজশাহী বিভাগ থেকে একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও অন্য ২টি বিভাগ থেকে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। সিলেট বিভাগ থেকে সুনামগঞ্জ জেলার কাইন্সিলর মো. দেলোয়ার হোসেন এবং রংপুর বিভাগ থেকে রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলার সাইফুল ইসলাম এবং গাইবান্ধার মো. শহীদুজ্জামান শহীদও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু তারা জমা দেননি। এই ৩ জনের মতো বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া 'সি' ক্যাটাগরি থেকে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেয়াতে তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
আজ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। সেখানে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ২টি করে পরিচালক পদের বিপরীতে ৩ জন করে এবং বরিশাল বিভাগে ১টি পদের বিপরীতে ২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই ৪ বিভাগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা না দেওয়া কেউ নেই।
বিসিবির নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। এখানে ঢাকার ক্লাব কোটায় ডাকসাইটে সব প্রার্থীরা অংশ নিয়ে থাকেন। এখান থেকেই সব সময় সভাপতিও নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এবারও তার ব্যতীক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নাম ঘোষণা করেননি। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তারা জানাবেন বলে জানান। এই ক্যাটাগরিতে ১৯ জন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। জমা দিয়েছেন ১৮ জন। ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্সের মো. মাহমুদ-উর-রহমান মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
পলাশ/অনিক/