আজ রাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী সব দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তেমনি মাঠের অনুশীলন, কৌশলগত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ম্যাচের পাশাপাশি এবার ভিন্ন এক উপায়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। ফুটবলের বদলে ক্রিকেট ব্যাট ও বল হাতে দেখা গেছে ইংলিশ ফুটবলারদের।
দলের অনুশীলন ক্যাম্পে মঙ্গলবার ফুটবলারদের জন্য আয়োজন করা হয় একটি মজার ক্রিকেট সেশন। বিশ্বকাপের চাপ ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনার মাঝে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে সতেজ রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফুটবলের বাইরের একটি জনপ্রিয় খেলায় অংশ নিয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, জর্ডান পিকফোর্ড, বুকায়ো সাকা, ডিক্লাইন রাইসসহ দলের তারকারা।
ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। দেশটির জাতীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই খেলা। তাই ফুটবলারদের অনেকেই ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত। অনুশীলনের ফাঁকে ক্রিকেট খেলতে নেমে কেউ ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন দুর্দান্ত টাইমিং, আবার কেউ বল হাতে উইকেট নেওয়ার চেষ্টায় মেতে উঠেছেন।
দলের কোচিং স্টাফের মতে, এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দলীয় বন্ধন আরও দৃঢ় করতেও সহায়তা করে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে শুধু শারীরিক ফিটনেস নয়, মানসিক সতেজতাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট সেশনটি সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তারা।
আগে থেকেই ইংল্যান্ডের ফুটবল ও ক্রিকেট দলের মাঝে দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রায়শই ইংলিশ ক্রিকেটের কোচ বা খেলোয়াড়রা ফুটবল ক্যাম্পে এসে বড় মঞ্চে চাপ সামলানো এবং নেতৃত্বের বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে থাকেন।
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয় করা দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০২০ ইউরোর ফাইনাল এবং ২০২৪ ইউরোরও শিরোপা লড়াইয়ে থাকা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এবার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছে থ্রি লায়ন্সরা।
দলের অধিনায়ক হ্যারি কেনের অভিজ্ঞতা, মিডফিল্ডার বেলিংহ্যামের সৃজনশীলতা, ফরোয়ার্ড সাকার গতিময়তা এবং আরেক মিডফিল্ডার রাইসের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। তবে বড় মঞ্চে সফল হতে হলে চাপ সামলানোর ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই ফুটবলের বাইরের এমন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির ম্যানেজমেন্ট।
ক্রিকেট মাঠে হাসি-আনন্দে সময় কাটালেও ফুটবলারদের মূল লক্ষ্য একটাই বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ক্রিকেট হয়তো ছিল একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। কিন্তু এর মাধ্যমে দলীয় ঐক্য, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বস্তি অর্জনের চেষ্টা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, ক্রিকেট মাঠের সেই ইতিবাচক আবহ থ্রি লায়ন্সরা কতটা কাজে লাগে বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে।