বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজন করলেও কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ফিফার নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে ভিসা বিতর্কের মুখে এমন অবস্থানই পরিষ্কার করলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার ভাষায়, ফিফা ফুটবল পরিচালনা করে, রাষ্ট্র পরিচালনা নয়।
বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয় সোমালিয়ার রেফারি ওমার আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যেতে হয় তাকে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয় এবং আয়োজক দেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকো সফরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফা প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্বে থাকলেও কোনো দেশের সীমান্তনীতি বা নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
তার ভাষায়, ‘আমরা সব সময় সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। তবে এটাও বুঝতে হবে, আমরা বিশ্বের রাজা নই। কোনো দেশের সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না। আমরা একটি ক্রীড়া সংস্থা, আমাদের সীমার মধ্যেই কাজ করতে হয়।’
ওমার আর্তানকে কেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের’ সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের কারণে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন ইনফান্তিনো। তবে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া বা চাপ তৈরির বদলে নীরবে সমাধান খোঁজার ওপর জোর দেন তিনি।
ইনফান্তিনোর মতে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া অনেক সময় সমাধানের পথ কঠিন করে তোলে। তাই আলোচনার টেবিলে থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ফিফা। এদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও আলোচনায় এসেছে। দলটি তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প সরিয়ে নিয়েছে মেক্সিকোতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার ফিরে যাবে মেক্সিকোর তিহুয়ানায়।
এই প্রসঙ্গেও ফিফা সভাপতির দাবি, সংস্থাটি নিষ্ক্রিয় নয়। বরং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নেপথ্যে কাজ করছে। ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা হাত গুটিয়ে বসে নেই। সবাইকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। সব তথ্য সব সময় প্রকাশ্যে আসে না, কিন্তু পরিস্থিতিকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে মাঠের ফুটবলের বাইরে ভিসা, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো যে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠছে; ইনফান্তিনোর বক্তব্যে সেটাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।