বিশ্ব ফুটবলের আকাশে অনেক নক্ষত্র আসে, জ্বলে ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। কিন্তু কিছু তারকা আছেন, যাদের আলো বয়সের সীমারেখা মানে না। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার ফুটবল ইতিহাসে এমনই এক উজ্জ্বল নাম এডিন জিকো। ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন নতুন প্রজন্ম নিজেদের প্রমাণের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখনো বসনিয়ার কোটি সমর্থকের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু সেই জেকো, যার বর্তমান বয়স ৪০ বছর।
সারায়েভোর যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব থেকে বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চে উঠে আসা বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার জিকোর গল্প যেন এক মহাকাব্য। ছোটবেলায় গোলাগুলির শব্দ শুনে বেড়ে ওঠা ছেলেটি একদিন গোলের শব্দে মাতিয়ে তুলবেন ইউরোপের বিখ্যাত স্টেডিয়ামগুলো এ কথা কে জানত? কিন্তু শত প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই তিনি লিখেছেন নিজের কিংবদন্তির গল্প। বসনিয়ার জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অন্যতম সফল অধিনায়ক জিকো শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, একটি দেশের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। যখন তিনি মাঠে নামেন, মনে হয় বসনিয়ার জার্সিটাই যেন আরও ভারী হয়ে ওঠে গর্বে।
ক্লাব ফুটবলেও তার পদচারণা দুর্দান্ত। ভিএলএফ ভলসবুর্গকে জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা জেতানো, ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ হওয়া কিংবা দুই ইতালিয়ান পরাশক্তি এএস রোমা ও ইন্টার মিলানের হয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া–সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল রাজকীয়। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালেই জিকো যেন অন্য এক মানুষ। সেখানে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দেশের পতাকাই হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
বিশ্বকাপের উজ্জ্বল আলোয় যখন বসনিয়া নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে, তখন সামনে থাকবেন জিকো। নিশ্চিত করেই এটা তার শেষ বিশ্বকাপ, শেষবারের মতো তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিজের দেশকে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীরা জানেন, কিছু গল্পের শেষ হয় না। জিকোও তেমনই এক গল্প, যে গল্পে সংগ্রাম আছে, গৌরব আছে। আর আছে একটি জাতির অবিনাশী স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। তার চোখে আজও জ্বলছে সেই আগুন, যে আগুনে আলোকিত হতে চায় পুরো বসনিয়া।
জাতীয় দলের হয়ে জিকো বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের একজন। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ১৪৮ ম্যাচ খেলে করেছেন ৭৩ গোল। তার নেতৃত্বেই বসনিয়া প্রথম ২০১৪ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। এবার নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও তুরুপের তাস সেই জিকো। যার আগুনে পুড়ে ছারখার হতে পারে প্রতিপক্ষ। যার শুরুটা হতে পারে আজ রাতে কানাডা ম্যাচ দিয়ে। বলে রাখা ভালো, শক্তিশালী ফিনিশিং, আকাশে আধিপত্য এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার কারণে জিকোকে বসনিয়ান ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
অনিক/