দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবার বিশ্বকাপে নতুন আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে এক তরুণ শিল্পীর হাতে। নাম তার জামাল মুসিয়ালা। বল পায়ে তিনি যেন এক চিত্রকর। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তার ক্যানভাস, আর ড্রিবলিং তার তুলির আঁচড়। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই মুসিয়ালা জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে তার একটাই স্বপ্ন–জার্মানিকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে বসানো।
মুসিয়ালার চোখে এখন শুধু একটাই ছবি। সোনালি ট্রফি হাতে জার্মানির বিজয়োৎসব। তিনি বলেছেন, দল হিসেবে তারা আশাবাদী, প্রতিটি ম্যাচ জিততে চায় এবং সাম্প্রতিক অর্জনের ওপর ভিত্তি করে একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে চায়। জার্মান কিংবদন্তি ও কোচিং স্টাফরাও তাকে দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, নকআউট পর্বে জার্মানির ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই তরুণ প্লেমেকারের। বিশ্বকাপ নিয়ে মুসিয়ালা বলেন, আমি জানি বিশ্বকাপের মর্যাদা কতটুকু। একটা জাতি কতটা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকে। মানুষের এ আবেগের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। তিনি বলেন, এজন্য শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি। কুরাসাও প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেছে। কিন্তু তাদের আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। তবে আমরা জয় দিয়ে শুরু করতে আশাবাদী। তাহলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে মুসিয়ালা ইতোমধ্যেই নিজেকে ইউরোপের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং গোল করার ক্ষমতা প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চোটের ধাক্কার পর তিনি ফিরে এসে আবারও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখার পাশাপাশি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার অসাধারণ দক্ষতা তাকে বায়ার্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন করে তুলেছে। জার্মানির হয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন। বর্তমান জার্মান দলে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, কাই হার্ভাটজ, লেরয় সানের মতো তারকা থাকলেও আক্রমণভাগের ছন্দ অনেকটাই নির্ভর করে মুসিয়ালার সৃজনশীলতার ওপর। কোচ জুলিয়ান নাগেলম্যানও তাকে দলের মূল প্লেমকার হিসেবেই দেখছেন।
একসময় মিরোস্লাভ ক্লোসা, থমাস মুলাররা বুদ্ধিমত্তায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন। এখন সেই দায়িত্ব ধীরে ধীরে এসে পড়েছে মুসিয়ালার কাঁধে। বিশ্বকাপের বিশাল মঞ্চে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি জার্মান সমর্থকদের আশা, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের প্রতীক। যদি তার পায়ে জাদু জেগে ওঠে, তবে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফির পথে জার্মানির যাত্রা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। জামাল মুসিয়ালার স্বপ্ন তাই একটাই–নিজের শিল্পে মুগ্ধ করে জার্মানিকে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সিংহাসনে ফিরিয়ে নেওয়া।