ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি

হেলিকপ্টার তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কলেজছাত্র নাজমুল

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৯ এএম
হেলিকপ্টার তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কলেজছাত্র নাজমুল
দেশীয় প্রযুক্তিতে হেলিকপ্টার বানিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার কলেজছাত্র নাজমুল খান। খবরের কাগজ

হেলিকপ্টার তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নাজমুল খান নামে খুলনার এক কলেজছাত্র। দেশীয় প্রযুক্তি আর চায়না ইঞ্জিনে তৈরি এই হেলিকপ্টার তৈরিতে কোটি টাকা নয়, বরং খরচ হয়েছে মাত্র ২ লাখ টাকা।

খুলনার ফুলতলার জামিরা ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম খানের ছেলে নাজমুল। পড়াশোনা করছেন বিএল কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রমী কিছু করার প্রচেষ্টা থেকে গত তিন বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন এক আসনবিশিষ্ট হেলিকপ্টার। নিজের স্বপ্ন থেকে নাজমুল ইন্টারনেট ঘেঁটে জ্ঞান অর্জন করে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন হেলিকপ্টারটি। হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন ব্যয়বহুল। তাই নিজস্ব মেধায় মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন আধুনিকায়ন করে এটি তৈরি করেছেন তিনি। পরিবারের মা-বাবার কাছ থেকেই টাকা নিয়ে তিন বছরের চেষ্টায় সফল হয়েছেন নাজমুল।

সরেজমিন দেখা যায়, হেলিকপ্টারটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ২২ ফুট। এর দুটি পাখা সাড়ে ৮ ফুট লম্বা এবং চওড়া ২১ মিটার। চায়না ইঞ্জিনের আরপিএম সাড়ে ৬ হাজার থেকে ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ৯ হাজার আরপিএমে। এক লিটার অকটেনে এটি ১৮ থেকে ২০ মিনিট চলবে। প্রাথমিকভাবে ৪০ থেকে ৫০ ফুট উঁচুতে উড্ডয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ১ দশমিক ৩ ও ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার এসএস পাইপ দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হেলিকপ্টারটি এখন পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

নাজমুল খান বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে হেলিকপ্টার তৈরির কাজ শুরু করি। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করি। এরপর দেশীয় প্রযুক্তিতে কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর চায়না থেকে সংগ্রহ করা একটি ইঞ্জিন মডিফাই করে সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এখনই হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আরেকটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এখন অল্প কিছু দিনের মধ্যে খোলা জায়গায় এটি নিয়ে উড্ডয়নের ইচ্ছা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বৃষ্টি কমলে হেলিকপ্টারটি ওড়ানো সম্ভব হবে।’ 

জানা যায়, নাজমুলের বাবা নজরুল ইসলাম খান পেশায় একজন কৃষক। একই সঙ্গে তার একটি ছোট মুদি দোকান রয়েছে। দরিদ্র্যের মাঝেও ছেলের উদ্ভাবনী ইচ্ছাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে হেলিকপ্টারটি কাজ করায় গর্বিত নজরুল ইসলাম। 

নাজমুলের উদ্ভাবনীক্ষমতা যে অবস্থায় পৌঁছেছে, সেখানে তাকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা করলে দেশেই কম খরচে হেলিকপ্টার তৈরি সম্ভব হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। নাজমুলের হেলিকপ্টার বানানোর ঘটনায় গর্বিত তারা। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করছেন এই যন্ত্রটি দেখার জন্য। 

এ বিষয়ে উপজেলার জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবীর বলেন, ‘নাজমুল আমাদের কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। তিন বছর ধরে সে হেলিকপ্টার তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে নাজমুল হেলিকপ্টারটি আকাশে ওড়াতে পারবে।’

ফুলতলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান বলেন, ‘গ্রামীণ এই পরিবেশে হেলিকপ্টার তৈরি করা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমরা তার নিরাপত্তা ও ভালোভাবে যেন কাজটি শেষ করতে পারে, সেই বিষয়ে নজর রাখছি।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারক কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুলকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। হেলিকপ্টার ওড়ানোর সময় ফায়ার সার্ভিসসহ সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব
আন্তর্জাতিক অপটোইলেকট্রনিক্স এক্সপো

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চিলিন প্রদেশের ছাংছুন শহরে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক অপটোইলেকট্রনিক্স এক্সপো। প্রদর্শিত হয়েছে শতাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সাফল্য, যা অপটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও ভবিষ্যৎ কমিউনিকেশন প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে তুলে ধরছে।


ছাংছুনকে বলা হয় চীনের অপটোইলেকট্রনিক্স শিল্পের ‘জন্মভূমি’, এবারের আয়োজন ২৩টি দেশ ও অঞ্চলের ৮৯০টিরও বেশি কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে এনেছিল এক ছাতার নিচে। ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ১০টিরও বেশি উচ্চপ্রযুক্তি খাত—যেমন সেমিকন্ডাক্টর, আল্ট্রা-প্রিসিশন অপটিক্স এবং কমার্শিয়াল অ্যারোস্পেস—উপস্থাপিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে সবচেয়ে নজর কাড়ছে স্পেকট্রাল ইমেজিং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নতুন প্রজন্মের ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার চিপ। এগুলো শীর্ষ চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের ক্যামেরায় ব্যবহার হচ্ছে, যা ছবিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

 


চিলিন ছিউশি স্পেকট্রাম ডাটা টেকনোলজির কারিগারি পরিচালক রেন ইয়ু জানালেন, ‘এই বছর আমরা উন্নত ২ মেগাপিক্সেল চিপের পাশাপাশি নতুন ৫ মেগাপিক্সেল ও ১২ মেগাপিক্সেল সংস্করণ এনেছি। গত বছরের তুলনায় আমাদের পণ্যের পারফরম্যান্স অনেক উন্নত হয়েছে। স্পেকট্রাল অ্যানালাইসিস ও ইমেজ রিকনস্ট্রাকশনে বড় অগ্রগতি হয়েছে।’
ছাংছুনের এই আয়োজনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম, যেখানে আট শতাধিক বিশেষজ্ঞ অপটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। 


ডাচ অপটিক্স সেন্টার-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক পল আরবাক জানালেন, ‘চীন অনেক ক্ষেত্রেই খুব সক্রিয়। ফোরামে প্রদর্শিত উচ্চ-নির্ভুল আয়না প্রযুক্তি সত্যিই অসাধারণ, বিশেষ করে মহাকাশ ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের ‘অপটিক্স ভ্যালি’ এখন বৈশ্বিক অপটোইলেকট্রনিক্স শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র। ফাইবার অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখানে ইলেকট্রনিক্স খাতের মুনাফা এক বছরে ১২ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

 


এই অঞ্চলে অবস্থিত চীনের সবচেয়ে বড় অপটিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র এখন মূলত উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা এআই ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুয়াকং টেকের গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা সিলিকন ফোটোনিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের অপটিক্যাল মডিউল তৈরি করছেন, যা এখন সেকেন্ডে হাজার গিগাবিট পর্যন্ত ডেটা ট্রান্সফার সুবিধা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানালেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের এই যাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ফল। এই যুগে প্রযুক্তির পরিবর্তন এখন এক দশক নয়, বরং এক বছরের মধ্যেই নতুন প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে। সূত্র: সিএমজি

সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের চাহিদা। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়। এই সংকট মোকাবিলায় সমুদ্রের নিচে বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টার চালু করেছে চীন। সাংহাইয়ের লিংগাং এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্পের নাম ‘সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটা সেন্টার’।

গত মে মাসে চালু হওয়া এই ডেটা সেন্টারটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে। সাংহাই হাইলানইউন টেকনোলজি এবং চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিশাল অবকাঠামো তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। লিংগাং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল, যেখানে টেসলার গিগা ফ্যাক্টরিও অবস্থিত।

পরিবেশবান্ধব এই ডেটা সেন্টারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়। এটি প্রচলিত স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের তুলনায় ২২ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে। কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ আসে নিকটবর্তী সমুদ্রভিত্তিক বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। ফলে কার্বন নিঃসরণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

ডেটা সেন্টারের সার্ভার শীতল রাখা সব সময় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথাগত কেন্দ্রে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে। চীনের এই ডেটা সেন্টারে স্থলভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় ৯০ শতাংশ কম পানি প্রয়োজন হয়। সমুদ্রের পানির স্বাভাবিক শীতলতা সার্ভারকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে আলাদা কুলিং ব্যবস্থা ছাড়াই কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে এই প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, সমুদ্রের নিচে এ ধরনের স্থাপনা সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রতলের পলিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সার্ভারের তাপে পানির তাপমাত্রা স্থানীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চীন কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশই এখন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। কম খরচে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারে সমুদ্রের নিচের এই ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতের প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে চীন যে একধাপ এগিয়ে রইল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও পরিবেশগত নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করবে এমন প্রকল্পের প্রসার।

স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ
ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিবাজারে গ্যালাক্সি বুক ৬ সিরিজের নতুন ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে স্যামসাং। ‘গ্যালাক্সি বুক ৬ এজ’ মডেলের এই ল্যাপটপটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন এক্স২ এলিট প্রসেসর। এর আগে বাজারে আসা এই সিরিজের অন্য ল্যাপটপগুলোতে ইনটেল প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্যামসাং জানিয়েছে, নতুন এই ল্যাপটপের স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দারুণ কাজ করবে। এটি সর্বোচ্চ ৮০ টিওপিএস (টপস) এআই কর্মক্ষমতা দিতে সক্ষম। ল্যাপটপটিতে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির থ্রি-কে ডায়নামিক অ্যামোলেড টুএক্স টাচ ডিসপ্লে। আলো প্রতিফলন প্রতিরোধী এই ডিসপ্লেতে স্বয়ংক্রিয় ব্রাইটনেস ও কনট্রাস্ট সুবিধা রয়েছে। ফলে ঘরের বাইরে এটি সহজে ব্যবহার করা যাবে। কর্নিং গরিলা গ্লাস সুরক্ষাসহ এর রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ।

উইন্ডোজ ১১ চালিত এই কপাইলট প্লাস ল্যাপটপে রয়েছে ডলবি অ্যাটমোস সমর্থিত চারটি স্পিকার। এর মাধ্যমে অন্য গ্যালাক্সি ডিভাইসের সঙ্গে সহজেই ফাইল ও ছবি আদান-প্রদান করা যাবে। ল্যাপটপটিতে একটি এইচডিএমআই ২.১ পোর্ট, একটি মাইক্রোএসডি স্লট, একটি ইউএসবি ৩.২ পোর্ট এবং দুটি ইউএসবি ৪.০ স্লট রয়েছে। এ ছাড়া ব্লুটুথ ৫.৪ ও ওয়াই-ফাই ৭ প্রযুক্তি সমর্থন করবে এই ডিভাইস।

ব্যাটারির দিক থেকেও ল্যাপটপটি বেশ শক্তিশালী। স্যামসাংয়ের দাবি, একবার চার্জে এটি টানা ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক সুবিধা দেবে। এর সঙ্গে থাকা ৬৫ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার দিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যাটারির ৪০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব।

গ্যালাক্সি বুক ৬ এজ ল্যাপটপটি মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ ইঞ্চি পাতলা এবং এর ওজন ৩.৪২ পাউন্ড। আপাতত এটি একটি সংস্করণেই পাওয়া যাবে, যাতে রয়েছে ১৬ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র‌্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ। প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির এই ল্যাপটপটি কিনতে ক্রেতাদের পকেট থেকে বেশ ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার।

চীনের ডেইরি কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
চীনের ডেইরি কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
চীনের একটি দুগ্ধ কারখানা।

উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোহট শহরের একটি ডেইরি কারখানায় দুধ উৎপাদন ও প্যাকেজিং প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে। এখানে দুধের কার্টন সিল করা ও ফিলিং লাইনে চলার পর স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে প্যাক করা হয়, রোবোটিক আর্ম দিয়ে স্তূপ করা হয় এবং রিমোট কন্ট্রোলড যানবাহনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

মংনিউ ডেইরির প্লান্টটি দেখিয়েছে কীভাবে ইনার মঙ্গোলিয়া ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬–২০৩০) সময়কালে দুগ্ধশিল্পে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। কারখানাটিতে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইন ও স্মার্ট যন্ত্রপাতির মাধ্যমে হাজার হাজার টন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। এখানে কর্মীরা মূলত যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন ব্যবস্থাপনার কাজ করেন।

একটি স্মার্ট অপারেশন স্ক্রিনে উৎপাদন, নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য একসঙ্গে দেখা যায়। অন্যান্য কারখানায় কোম্পানিটি আরও গভীরভাবে প্রক্রিয়াজাত পণ্য যেমন ল্যাক্টোফেরিন, ডিমিনারালাইজড হোয়ে পাউডার এবং হুইপিং ক্রিম উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

 


পরিবেশগত দিক থেকে কোম্পানিটি খামারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন, জৈব সার তৈরি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং উন্নয়নের কাজও করছে। ইনার মঙ্গোলিয়া বর্তমানে চীনের সবচেয়ে বড় দুধ উৎপাদন অঞ্চল। ২০২৫ সালে এখানে ১৫.৭ লাখ গাভী ছিল এবং ৭৫.৯ লাখ টন দুধ উৎপাদিত হয়, যা টানা আট বছর ধরে দেশটির শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। সূত্র: সিএমজি

বিশ্বকাপ ভবিষ্যদ্বাণীতেও এআই

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
বিশ্বকাপ ভবিষ্যদ্বাণীতেও এআই
খেলা দেখছেন ফুটবল ফ্যানরা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠে চলছে লড়াই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জগতেও চলছে আরেক ধুন্ধুমার প্রতিযোগিতা। যাচাই করা হচ্ছে কে কার চেয়ে বেশি নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী দিচ্ছে কিংবা কারা দিচ্ছে খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ। চীনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) এখন ম্যাচের ফলাফল ও চ্যাম্পিয়ন দল পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনে নেমেছে প্রযুক্তির সাইডলাইনে। 

চীনের জনপ্রিয় এআই মডেলগুলোর মধ্যে কোয়েন, ডিপসিক, কিমি এবং মিনিম্যাক্স বিশ্বকাপ ম্যাচের ফলাফল পূর্বাভাস দেওয়ার বিশেষ ফিচার চালু করেছে। এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও যুক্তি প্রয়োগের নতুন পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।

চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও এআই বিশেষজ্ঞ কুও থাও বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর হিসেবে বিশ্বকাপ এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের মডেলের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে।

বিভিন্ন এআই প্লাটফর্ম ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রমও চালু করেছে। মুনশট এআইয়ের কিমি এক ট্রিলিয়ন টোকেনের পুরস্কার তহবিল ঘোষণা করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ম্যাচের বিজয়ী ও চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করে পুরস্কার জিততে পারবেন। অন্যদিকে, বিশেষ ম্যাচ পূর্বাভাস সহকারী চালুর পাশাপাশি ‘মানুষ বনাম এআই’ ভবিষ্যদ্বাণী প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছে আলিবাবার কোয়েন।

তবে বিশ্বকাপ এআই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, রবিবার ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার গ্রুপ-সি ম্যাচের আগে অধিকাংশ এআই মডেল পরিসংখ্যান ও অতীত পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে ব্রাজিলের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

কো থাও বলেন, এআই ঐতিহাসিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দক্ষ হলেও বাস্তব বিশ্বের অনেক অনিশ্চিত উপাদান সঠিকভাবে বিবেচনা করতে পারে না। ফুটবল ম্যাচে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা, কৌশলগত পরিবর্তন, আবহাওয়া ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির মতো নানা বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলে, যা নির্ভুলভাবে মডেল করা কঠিন।

বেইজিং একাডেমি অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সভাপতি ওয়াং চোংইউয়ান সম্প্রতি বলেন, বর্তমান বৃহৎ ভাষা মডেলগুলো ডিজিটাল জগতের সমস্যা সমাধানে দক্ষ হলেও বাস্তব জগতের জটিলতা বোঝার ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে কেবল মডেলের আকার নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারার সক্ষমতাই এখন এআই কোম্পানিগুলোর প্রধান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।

শাংহাই ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিকসের অধ্যাপক হু ইয়ানপিং বলেন, বৃহৎ ভাষা মডেল ও এআই এজেন্টগুলো ধীরে ধীরে কথোপকথন-ভিত্তিক সিস্টেম থেকে কাজ-ভিত্তিক সিস্টেমে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো পূর্বাভাসমূলক প্রকল্পগুলো এ ধরনের বাস্তবমুখী সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: সিএমজি