দেশে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইনে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেছে উল্কাসেমি। আজ রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে ‘উল্কাসেমি ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ইউভিটিআই)’ নামে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের বিশ্বমানের চিপ ডিজাইন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করাই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘উল্কাসেমি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্রে নিয়ে গেছে।’
তিনি জানান, সরকারও ভিএলএসআই প্রশিক্ষণের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) একটি ফ্যাব ল্যাব ও ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার চালুর কাজ চলছে, যেখানে ভিএলএসআইসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, ‘আমরা সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতকে যুক্ত করে একটি ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ করছি। উল্কাসেমির এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র আমাদের প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াবে বলে আশা করছি।’
উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘দেশে দক্ষ জনবল তৈরিতে আমরা এই ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু করেছি। এই কেন্দ্র শুধু কর্মসংস্থান নয়, চিপ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের কর্মবাজারকেও সমৃদ্ধ করবে।’ তিনি জানান, উল্কাসেমি বর্তমানে ১০ ধরনের চিপ ডিজাইন করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মিজান রহমান জানান, ইউভিটিআই সেমিকন্ডাক্টর নকশার ওপর ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেবে। এরপর উত্তীর্ণরা উল্কাসেমিতে তিন মাসের ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন।
বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর একটি দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প। ২০২৪ সালে এই বাজারের আকার প্রায় ৬২ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ৫জি নেটওয়ার্ক ও মোটরগাড়ি শিল্পের প্রসারের ফলে ২০৩০ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
উল্কাসেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এই কেন্দ্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্বের প্রায় আটটি দেশে উল্কাসেমির কার্যক্রম রয়েছে।
/আবরার জাহিন
