৫জি প্রযুক্তি নিয়ে এক সময় অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। দূর নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে চালকবিহীন গাড়ি সবকিছুতে আমূল পরিবর্তনের আশা ছিল। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে ৫জি কেবল দ্রুতগতির ইন্টারনেট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে প্রযুক্তি থেমে নেই। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৬জি বা ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হতে যাচ্ছে।
স্পেনের বার্সেলোনায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০২৬’-এ কোয়ালকম, এরিকসন ও নোকিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ৬জি নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬জি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুতগতির এক অনন্য সমন্বয়।
ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইইই) জ্যেষ্ঠ সদস্য ডেভিড উইটকোস্কি জানিয়েছেন, ৬জি প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তার হতে আরও বছর চারেক সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জির পারফরম্যান্সের মান নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে, যার খসড়া নাম ‘আইএমটি-২০৩০’।
৫জিতে ডাউনলোড স্পিড বাড়লেও ডেটা আপলোডের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ৬জিতে আপলোড ও ডাউনলোড স্পিড সমান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি টেরাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহার করতে পারে, যা ৫জির চেয়েও দ্রুতগতি নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া ৬জি নেটওয়ার্কের প্রতিটি টাওয়ার বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ডিভাইসকে সেবা দিতে সক্ষম হবে।
৬জির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হবে নেটওয়ার্কের ভেতরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্তর্ভুক্তি। বর্তমানের চ্যাটবট বা এআই টুলগুলো অনেক দূরের সার্ভারের মাধ্যমে কাজ করে, যা কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। ৬জিতে নেটওয়ার্কের প্রতিটি স্তরে ‘এআই নোড’ থাকবে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল দিতে সক্ষম হবে।
এ ছাড়াও যুক্ত হচ্ছে ‘সেন্সিং’ বা জেসিএএস প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেকটা রাডারের মতো কাজ করবে। কোনো ক্যামেরা ছাড়াই এটি কোনো বস্তুর অবস্থান, আকার এবং সেটি কত দ্রুত চলছে তা শনাক্ত করতে পারবে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিতর্কও তৈরি হতে পারে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ৬জি কেবল গতি বাড়াবে না, বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধ তৈরি করবে।
