ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

নতুন ৬জি প্রযুক্তিতে কী থাকছে

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
নতুন ৬জি প্রযুক্তিতে কী থাকছে
ছবি: সংগৃহীত

৫জি প্রযুক্তি নিয়ে এক সময় অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। দূর নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে চালকবিহীন গাড়ি সবকিছুতে আমূল পরিবর্তনের আশা ছিল। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে ৫জি কেবল দ্রুতগতির ইন্টারনেট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে প্রযুক্তি থেমে নেই। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৬জি বা ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হতে যাচ্ছে।

স্পেনের বার্সেলোনায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০২৬’-এ কোয়ালকম, এরিকসন ও নোকিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ৬জি নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬জি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুতগতির এক অনন্য সমন্বয়।

ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইইই) জ্যেষ্ঠ সদস্য ডেভিড উইটকোস্কি জানিয়েছেন, ৬জি প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তার হতে আরও বছর চারেক সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জির পারফরম্যান্সের মান নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে, যার খসড়া নাম ‘আইএমটি-২০৩০’।

৫জিতে ডাউনলোড স্পিড বাড়লেও ডেটা আপলোডের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ৬জিতে আপলোড ও ডাউনলোড স্পিড সমান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি টেরাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহার করতে পারে, যা ৫জির চেয়েও দ্রুতগতি নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া ৬জি নেটওয়ার্কের প্রতিটি টাওয়ার বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ডিভাইসকে সেবা দিতে সক্ষম হবে।

৬জির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হবে নেটওয়ার্কের ভেতরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্তর্ভুক্তি। বর্তমানের চ্যাটবট বা এআই টুলগুলো অনেক দূরের সার্ভারের মাধ্যমে কাজ করে, যা কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। ৬জিতে নেটওয়ার্কের প্রতিটি স্তরে ‘এআই নোড’ থাকবে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল দিতে সক্ষম হবে।

এ ছাড়াও যুক্ত হচ্ছে ‘সেন্সিং’ বা জেসিএএস প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেকটা রাডারের মতো কাজ করবে। কোনো ক্যামেরা ছাড়াই এটি কোনো বস্তুর অবস্থান, আকার এবং সেটি কত দ্রুত চলছে তা শনাক্ত করতে পারবে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিতর্কও তৈরি হতে পারে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, ৬জি কেবল গতি বাড়াবে না, বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধ তৈরি করবে।

সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে সফলভাবে তিনটি ‘ব্লক ২ ব্লুবার্ড’ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে এএসটি স্পেসমোবাইল। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের সাহায্যে ৮, ৯ এবং ১০ নম্বর ব্লুবার্ড স্যাটেলাইট তিনটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ স্মার্টফোনে সরাসরি স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

এই ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে কোনো অতিরিক্ত সিম কার্ড, বিশেষ হ্যান্ডসেট ও বাড়ির ছাদে ডিশ অ্যান্টেনার প্রয়োজন হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি এবং ভেরাইজন গ্রাহকরা প্রথম এই আধুনিক সেবা পাবেন।

সাধারণ স্মার্টফোন সাধারণত শূন্য দশমিক ২ থেকে ২ ওয়াট শক্তিতে রেডিও সংকেত পাঠায়। এই সংকেত কেবলমাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের মোবাইল টাওয়ারে পৌঁছাতে সক্ষম। অন্যদিকে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে শত শত কিলোমিটার উঁচুতে ঘণ্টায় ১৭ হাজার মাইল বেগে ছুটে চলে। এই বিশাল দূরত্বের কারণে সাধারণ ফোন থেকে সংকেত আদান-প্রদান করা অত্যন্ত কঠিন। প্রকৌশলীরা একে ‘লিংক বাজেট’ সমস্যা বলে থাকেন। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান স্যাটেলাইটের অ্যান্টেনা অনেক বড় করা।

নতুন প্রতিটি ব্লুবার্ড স্যাটেলাইটে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বর্গফুটের অ্যান্টেনা রয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক যোগাযোগ অ্যান্টেনা। এটি এই প্রতিষ্ঠানের আগের ব্লক ১ স্যাটেলাইটের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়। বিশাল এই অ্যান্টেনার কারণে স্যাটেলাইটগুলো মোবাইল থেকে আসা অতিক্ষীণ সংকেতও সহজে শনাক্ত করতে পারবে। এর পর সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কে পাঠিয়ে দেবে।

এই স্যাটেলাইটগুলোর মূল চালিকাশক্তি তাদের নিজস্ব ‘এএসটি ৫০০০’ চিপ। এটি তৈরিতে বিজ্ঞানীদের ১৫০ বছর সমমানের সম্মিলিত গবেষণা করতে হয়েছে। প্রতিটি স্যাটেলাইট সেকেন্ডে প্রায় ২০০ মেগাবিট (এমবিপিএস) সর্বোচ্চ গতিতে ডেটা সরবরাহ করতে পারবে। এটি আগের সংস্করণের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতি। সাধারণ ৪জি ও ৫জি স্মার্টফোন কোনো ধরনের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপডেট ছাড়াই সরাসরি এই স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। মহাকাশে থাকা এই স্যাটেলাইটগুলো মূলত ভাসমান মোবাইল টাওয়ার হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এএসটি স্পেসমোবাইলকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। বর্তমানে মহাকাশে তাদের মোট ১০টি কার্যকর স্যাটেলাইট রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে তারা ৪৫টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশ্বের প্রায় ৬০টি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি গ্রাহক এই প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্র এবং যেখানে প্রথাগত মোবাইল টাওয়ার নেই, সেখানে এই প্রযুক্তি জরুরি যোগাযোগ সচল রাখবে।

এই সফল উৎক্ষেপণটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে তারা পরপর দুটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ১৯ এপ্রিল ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেটের কারিগরি ত্রুটির কারণে তাদের ব্লুবার্ড ৭ স্যাটেলাইটটি ধ্বংস হয়ে যায়। এতে তাদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়। এর পর মে মাসে এক পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণে নিউ গ্লেন রকেটের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপর এখন পুরো ভরসা করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

স্পেসএক্সের নিজস্ব স্টারলিংক প্রযুক্তির সঙ্গে এর বড় পার্থক্য রয়েছে। স্টারলিংক ছোট আকারের অনেক স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। তারা বর্তমানে শুধু টেক্সট আদান-প্রদানের সুবিধা দিচ্ছে। তবে এএসটি স্পেসমোবাইলের অ্যান্টেনা স্টারলিংকের চেয়ে ৩৫ থেকে ৪০ গুণ বড়। এ কারণে তারা সরাসরি সাধারণ ফোনে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ভয়েস কল দিতে পুরোপুরি সক্ষম। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে এই বাণিজ্যিক সেবা পুরোদমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব মানুষের কোনো নেটওয়ার্ক নেই, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি যোগাযোগব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে।

মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি তৈরির জন্য মিডজার্নি বেশ পরিচিত। তবে এবার তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপ্রত্যাশিত একটি প্রকল্পে হাত দিয়েছে। তারা এমন একটি অত্যাধুনিক মেডিকেল স্ক্যানার তৈরি করছে, যা মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে মানুষের পুরো শরীর স্ক্যান করতে পারবে।

এই ঘোষণা মিডজার্নির সাধারণ কাজের গণ্ডির এতটাই বাইরে যে অনেকে এটিকে নিছক রসিকতা ভেবেছিলেন। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তব। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কাজের পরিধি বাড়াতে ‘মিডজার্নি মেডিকেল’ নামের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য হতে যাচ্ছে স্ক্যানার। তারা এমন একটি যন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছে, যা এমআরআই-এর মতো শক্তিশালী এবং স্পা-তে যাওয়ার মতোই আরামদায়ক হবে।

স্ক্যানিং প্রক্রিয়াটি বেশ অভিনব। ব্যবহারকারী একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর পর তাকে প্রতি সেকেন্ডে দুই ইঞ্চি করে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় শরীর একটি রিঙের ভেতর দিয়ে যাবে। রিংটিতে বালুকণার সমান প্রায় পাঁচ লাখ সেন্সর থাকবে। এগুলো থেকে আলট্রাসনিক তরঙ্গ বের হবে এবং প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসবে। মিডজার্নি প্রযুক্তিটিকে ডলফিনের শব্দতরঙ্গের সাহায্যে অবস্থান নির্ণয়ের সঙ্গে তুলনা করেছে। স্ক্যানিং শেষে শরীরের একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি হবে। এটি বর্তমানের এমআরআইয়ের মতো হলেও কাজ করবে প্রায় ১০০ গুণ বেশি গতিতে। এমআরআইয়ে যেখানে ৬০-৯০ মিনিট লাগে, সেখানে এটি এক মিনিটেরও কম সময় নেবে।

যন্ত্রটি তৈরিতে পোর্টেবল আলট্রাসাউন্ড নির্মাতা বাটারফ্লাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করছে মিডজার্নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির নেতৃত্বে আছেন মিডজার্নির হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান আহমাদ আব্বাস। তিনি আগে অ্যাপল ভিশন প্রো তৈরিতে কাজ করেছেন।

আগামী ১২ মাস মিডজার্নি স্ক্যানারের অ্যালগরিদম উন্নত করার কাজ করবে। ২০২৭ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রথম স্ক্যানারযুক্ত স্পা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর পর যন্ত্রটির সক্ষমতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হবে। ২০২৮ সালে কাস্টম সিলিকন ব্যবহার করে উন্নত তৃতীয় প্রজন্মের স্ক্যানার আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার স্ক্যানার চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিডজার্নি। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে বিশ্বের ৩০ শতাংশ মৃত্যু ও ৫০ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট
ছবি: সংগৃহীত

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ব্যবহারকারীরা এখন স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে সহজে গুগল ওয়ালেটের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এই আধুনিক ফিচারের সাহায্যে কেনাকাটা বা গণপরিবহনের ভাড়া সরাসরি ঘড়িটি স্পর্শ বা ‘ট্যাপ’ করে পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তবে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাটি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ডিজিটাল এই পেমেন্ট সেবাটি চালু করার আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে গুগল ওয়ালেট এবং এর ‘ট্যাপ-টু-পে’ সেবাটি সম্পূর্ণ সচল থাকতে হবে। গ্যালাক্সি ওয়াচটিতে অন্তত ‘ওয়্যার ওএস ২.০’ বা তার চেয়ে নতুন সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম থাকা আবশ্যক। স্যামসাংয়ের পুরোনো গ্যালাক্সি ওয়াচ ১, ২ এবং ৩ মডেলে এই সুবিধা মিলবে না। মূলত গ্যালাক্সি ওয়াচ ৪ বা এর পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এই সেবা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা ঘড়ির সেটিংসের ‘অ্যাবাউট ওয়াচ’ অপশন থেকে সফটওয়্যার সংস্করণটি দেখে নিতে পারবেন।

সেবাটি যেভাবে চালু করবেন
প্রথমে ঘড়ির অ্যাপ ড্রয়ার থেকে গুগল প্লে স্টোরে যেতে হবে। সেখান থেকে ‘গুগল ওয়ালেট’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। ঘড়িতে স্ক্রিন লক বা পিন দেওয়া না থাকলে তা সেট করার অনুরোধ জানানো হবে। পিন সেট করার সময় বারবার ‘ওকে’ চাপার ঝামেলা এড়াতে বিশেষ সুবিধা সচল করে নেওয়া যায়। এর পর ঘড়ির সঙ্গে সংযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেও গুগল ওয়ালেট অ্যাপটি নামিয়ে নিতে হবে।

কার্ড যুক্ত করার পদ্ধতি
ঘড়ির অ্যাপে প্লাস (+) চিহ্নে ট্যাপ করে ফোনের সাহায্য নিতে হবে। স্মার্টফোনে আগে থেকে সংরক্ষিত কার্ড বেছে নেওয়া যাবে অথবা নতুন ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য স্ক্যান করে যোগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কার্ডটি অনুমোদন করলে তা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে। প্রথম কার্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিফল্ট’ হিসেবে সেট হয়ে যায়।

যেভাবে লেনদেন করবেন
পেমেন্ট করার জন্য প্রথমে গ্যালাক্সি ওয়াচটি আনলক করে গুগল ওয়ালেট অ্যাপটি খুলতে হবে। এর পর ঘড়ির পর্দাটি কার্ড রিডারের কাছাকাছি ধরলে লেনদেন সম্পন্ন হবে। সফলভাবে অর্থ পরিশোধ হলে ঘড়িটি ভাইব্রেশন করবে এবং পর্দায় একটি নীল টিক চিহ্ন দেখাবে।

আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার

চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্সে (ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬) নিজেদের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘আইওএস ২৭’-এর বিভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে আসন্ন শরতে ব্যবহারকারীদের জন্য আরও বড় চমক নিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লুমবার্গের প্রযুক্তি বিশ্লেষক মার্ক গুরম্যানের বরাতে জানা গেছে, অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমে আরও তিনটি বিশেষ ফিচার যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

প্রযুক্তিবিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে, অ্যাপলের নতুন স্মার্টওয়াচের সঙ্গে একটি নতুন ‘ওয়াচ ফেস’ যুক্ত হতে পারে। এটি অনেকটা অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রার ‘মডুলার আল্ট্রা’ অপশনের মতো হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে এটিকে আরও সহজ ও পরিশীলিত রূপ দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন ১৮ প্রো মডেলের সঙ্গে এই ওয়াচ ফেসটিও উন্মোচন করা হতে পারে।

দ্বিতীয় বড় পরিবর্তনটি আসছে আইফোনের ক্যামেরা অ্যাপের ক্ষেত্রে। অ্যাপল তাদের মূল ক্যামেরা অ্যাপটিকে নতুন করে সাজানোর কাজ করছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ফাংশন অ্যাপের হোম স্ক্রিনে সাজিয়ে রাখতে পারবেন। অর্থাৎ, ক্যামেরা অ্যাপটি আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারকারী-বান্ধব ও কাস্টমাইজযোগ্য হবে। এই ফিচারটিও আইফোন ১৮ প্রো-এর ক্যামেরা আপগ্রেডের সঙ্গে বাজারে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সবশেষে রয়েছে অ্যাপলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটের উন্নত সমন্বয়। বর্তমানে আইওএস ২৭-এর ডেভেলপার বেটা সংস্করণে সিরির সঙ্গে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে অ্যাপল ভবিষ্যতে এতে আরও নতুন ফিচার যোগ করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো এআই মডেল সহজে পরিবর্তন করতে পারবেন। 

ডব্লিউডব্লিউডিসির মতো বড় মঞ্চে কেন এই ফিচারগুলো উন্মোচন করা হয়নি, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সেপ্টেম্বরের হার্ডওয়্যার ইভেন্টের মূল আকর্ষণ ধরে রাখতে অ্যাপল এই কৌশল নিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আইনি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালার কারণেও অনেক সময় ফিচার উন্মোচনে বিলম্ব হতে পারে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, অ্যাপলের এই নতুন উদ্যোগগুলো আইফোন ও স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। আগামী সেপ্টেম্বরে এসব ফিচারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সুপার ফাইবার উৎপাদনে চীনের সাফল্য

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
সুপার ফাইবার উৎপাদনে চীনের সাফল্য
নতুন প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন ফাইবার।

চীনে উদ্ভাবিত নতুন প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন ফাইবার পরীক্ষাগার থেকে বেরিয়ে এবার শিল্প পর্যায়ে ব্যাপক উৎপাদনে প্রবেশ করেছে। দেশটির উন্নত উপকরণ প্রযুক্তি খাতে এটাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সিনোপেক শাংহাই পেট্রোকেমিক্যালের তৈরি টি-১০০০ গ্রেডের ১২কে স্মল-টো কার্বন ফাইবার এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এই নতুন উপাদান মহাকাশ, নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি এবং মানবসদৃশ রোবটসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

 


প্রতিটি কার্বন ফাইবার বান্ডেলে ১২ হাজার অতি সূক্ষ্ম ফিলামেন্ট থাকে। প্রতিটি ফিলামেন্টের ব্যাস পাঁচ মাইক্রোমিটারেরও কম, যা মানুষের চুলের পুরুত্বের প্রায় এক-দশমাংশ। সূক্ষ্ম হলেও এর টেনসাইল শক্তি ৬.৫ গিগাপাস্কালের বেশি, যা প্রায় ১০ টন ওজনের একটি ট্রাক টানতে সক্ষম।
ইস্পাতের তুলনায় এর ঘনত্ব এক-চতুর্থাংশেরও কম, কিন্তু শক্তি সাত থেকে নয় গুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি ক্ষয়রোধী ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন, ইভিটিওএল উড়োজাহাজ এবং উন্নত রোবট নির্মাণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


সিনোপেক শাংহাই পেট্রোকেমিক্যাল জানিয়েছে, প্রায় দুই দশকের গবেষণার ফল হিসেবে এই কার্বন ফাইবার তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ‘ওয়েট-স্পিনিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফাইবারের পৃষ্ঠে বিশেষ খাঁজ তৈরি করে এবং কম্পোজিট উপাদানে রজনের সঙ্গে সংযোগ আরও শক্তিশালী করে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ, উপগ্রহ, ড্রোন ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন হালকা কিন্তু শক্তিশালী কাঠামো তৈরিতে এই উপাদানের ব্যাপক ব্যবহার হবে। একটি বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ নির্মাণে ৮ থেকে ১০ টন পর্যন্ত কার্বন ফাইবার প্রয়োজন হতে পারে।
সিনোপেকের কর্মকর্তারা জানান, এই কার্বন ফাইবারের সম্পূর্ণ মেধাস্বত্ব চীনের নিজস্ব এবং বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: সিএমজি