ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গৌরীপুরে রিপোর্টার্স ক্লাবের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তৃতীয়বার মা হচ্ছেন অ্যানি হ্যাথাওয়ে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও, সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন জনাব মো. ফজলুর রহমান ব্রিটিশ ভারতের পথিকৃৎ নারী চিকিৎসক ডা. যামিনী সেন আমার ‘দুই’ বাবা: রক্তের সম্পর্কে একজন, ভালোবাসায় আরেকজন জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, আখাউড়া থানায় অভিযোগ নারীর সফল ক্যারিয়ারের ৬ টিপস রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল জাপান বদলির সাড়ে চার মাসেও দায়িত্বভার হস্তান্তরে গড়িমসি ইউএইচএফপিওর ইরাক ম্যাচের আগে ছোটখাটো পরিবর্তনের পথে ফ্রান্স শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী নিউমার্কেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ৪ শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন চলতি বছরেই: বিমানমন্ত্রী রূপগঞ্জে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস পালিত প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জার্মানদের ওপর চটেছেন আইভরি কোস্টের কোচ নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোচালক নিহত, সড়ক অবরোধ লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের বেফাঁস মন্তব্যে প্রত্যাহার কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে

ক্লাসে দেরি? যেভাবে সামলাবে পরিস্থিতি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৭ পিএম
ক্লাসে দেরি? যেভাবে সামলাবে পরিস্থিতি
ক্লাসে দেরি করা কোনো শিক্ষার্থীরই কাম্য নয়, তবে জীবনযাত্রায় অনেক সময় তা অনিবার্য হয়ে ওঠে। ছবি এআই

শিক্ষার্থীদের জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে যখন নানা কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। ট্রাফিক জ্যাম, অসুস্থতা, বাসা থেকে দেরিতে বের হওয়া কিংবা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, দেরি করে ক্লাসে প্রবেশ করা সব সময় বিব্রতকর। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর কিছু ভদ্র ও বুদ্ধিদীপ্ত উপায় আছে।

স্যারকে ম্যানেজ করবে
যদি কোনো কারণে দেরি হয়ে যায়, প্রথমেই স্যারকে সত্যি কারণটি ভদ্রভাবে জানানো উচিত। অকারণে অজুহাত তৈরি করা ভালো নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ‘স্যার, আজ রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম ছিল, তাই দেরি হয়ে গেল। ভবিষ্যতে চেষ্টা করব সময়মতো আসতে।’ স্যার যদি আন্তরিকতা ও ভদ্রতা দেখেন, তবে অনেক সময় কঠোর হবেন না।

স্যার রেগে গেলে কী করবে
যদি স্যার দেরি করার কারণে রেগে যান, তখন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত থাকা সবচেয়ে ভালো উপায়। কখনোই প্রতিবাদ করা বা অযথা তর্কে জড়ানো উচিত নয়। স্যারের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মাথা নেড়ে সম্মতি জানানো পরিস্থিতিকে সহজ করে দেয়। পরে সুযোগ পেলে আলাদাভাবে গিয়ে কারণটি বিনয়ের সঙ্গে বলা যেতে পারে।

স্যার শাস্তি দিলে কী করবে
অনেক সময় দেরি করলে স্যার শাস্তি দেন। এটি দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত কাজ দেওয়া বা কোনো নোট লিখে আনার মতো হতে পারে। এসব শাস্তি মেনে নেওয়া এবং বিনয়ের সঙ্গে পালন করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে স্যারের কাছে দায়িত্বশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, শাস্তির উদ্দেশ্য অপমান নয়; বরং শিক্ষা দেওয়া।

ভবিষ্যতে দেরি না করার উপায়
একই ভুল বারবার হলে স্যারের কাছে ভাবমূর্তি খারাপ হয়। তাই সময়মতো ক্লাসে আসার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য–
• আগের রাতে পড়াশোনা ও ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে হবে।
• নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে।
• বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কিছুটা আগেভাগে পরিকল্পনা করতে হবে।
• ট্রাফিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখতে হবে।

মনে রাখবে...
ক্লাসে দেরি করা কোনো শিক্ষার্থীরই কাম্য নয়, তবে জীবনযাত্রায় অনেক সময় তা অনিবার্য হয়ে ওঠে। তখন ভদ্রতা, আন্তরিকতা ও ধৈর্য দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হয়। স্যারের প্রতি সম্মান দেখানো, শাস্তি মেনে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে দেরি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া— এই তিনটি জিনিস একজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরে।

টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার
বাম দিক থেকে  আর্লিং হলান্ড, লামিনে ইয়ামাল ও নিকো পাজ।

বিশ্ব ফুটবলে এখন তরুণদের জয়জয়কার। মাত্র ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সে অনেক ফুটবলার বিশ্বজুড়ে তুমুল পরিচিতি পাচ্ছেন। কৈশোর পার না হতেই তারা নাম লেখাচ্ছেন ইউরোপের নামি সব ক্লাবে। তাদের সঙ্গে হচ্ছে কোটি কোটি ইউরো বা ডলারের চুক্তি। মাঠের দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে তারা জয় করছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। এমন তিন ফুটবলার হচ্ছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও আর্জেন্টিনার নিকো পাজ। 

কিন্তু এই চোখধাঁধানো সাফল্যের আড়ালে রয়েছে এক কঠিন মানসিক যুদ্ধ। অল্প বয়সে বিশাল খ্যাতি আর আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হচ্ছে এই তরুণদের। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দেশের হয়ে খেলার মানসিক চাপ তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

একটি বড় চুক্তির পর একজন তরুণ খেলোয়াড়ের জীবন রাতারাতি বদলে যায়। সাধারণ জীবন থেকে তারা সরাসরি চলে আসেন সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার আলোয়। প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য তাদের ওপর প্রবল চাপ থাকে। ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। সামান্য ভুলের জন্য নানারকম ট্রল এবং কটূক্তির শিকার হতে হয় তাদের। এই অল্প বয়সে এমন কঠোর সমালোচনা সামলানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। অনেক সময় একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে একজন তরুণ ফুটবলারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খলনায়ক বানিয়ে দেওয়া হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাদের স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত হানে।

ক্রীড়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় অকালে ঝরে পড়েন। মাঠের শারীরিক লড়াইয়ের চেয়েও তাদের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা অনেক বেশি জটিল হয়। বিষণ্নতা, একাকিত্ব এবং পারফরম্যান্সের দুশ্চিন্তা তাদের স্বাভাবিক খেলার ছন্দ নষ্ট করে। বড় টুর্নামেন্টে পেনাল্টি মিস করা বা চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয় তাদের তাড়া করে বেড়ায়। এই বয়সে যখন তাদের সমবয়সীরা পড়াশোনা বা সাধারণ জীবন উপভোগ করে, তখন এই ফুটবলারদের কাঁধে থাকে ক্লাবের সাফল্য ও দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের গুরুদায়িত্ব।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক ফুটবল বিশ্ব এখন মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রায় প্রতিটি বড় ক্লাবে এখন স্থায়ীভাবে পেশাদার ক্রীড়া মনোবিদ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষজ্ঞরা তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ মোকাবিলার বৈজ্ঞানিক কৌশলগুলো শেখান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক সমালোচনা কীভাবে উপেক্ষা করতে হয় এবং মাঠে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সেই বিষয়ে তাদের নিয়মিত থেরাপি ও কাউন্সিলিং করা হয়। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রাও তরুণদের আগলে রাখেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাদের মানসিকভাবে চাঙা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেন।

তবে ক্লাবের পেশাদার সহায়তার চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করে খেলোয়াড়ের নিজস্ব পরিবার। কোটি টাকার চুক্তি আর প্রচারমাধ্যমের আলোর মাঝে পরিবার তরুণ ফুটবলারদের স্বাভাবিক মাটিতে পা দিয়ে চলতে সাহায্য করে। মাঠের বাইরের সাধারণ পারিবারিক পরিবেশ তাদের বড় ধরনের মানসিক শান্তি দেয়। পরিবারের সদস্যরা তাদের এমন একটি আবেগের জায়গা তৈরি করে দেন, যেখানে ফুটবল নিয়ে কোনো মানসিক চাপ থাকে না। এটি তাদের দীর্ঘদিনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ে পরিবারের নিঃশর্ত সমর্থন ও ভালোবাসা একজন তরুণ খেলোয়াড়কে দ্রুত মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে মূল শক্তি জোগায়।

টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার হয়ে ওঠার এই পথটি মোটেও মসৃণ নয়। এটি কেবল শারীরিক দক্ষতার পরীক্ষা নয়, বরং মানসিক দায়িত্বের এক বড় পরীক্ষা। আধুনিক ফুটবলে শুধু পায়ে ফুটবল জাদু থাকলে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা যায় না, বরং তীব্র স্নায়ুচাপ ধরে রাখার ক্ষমতাও থাকতে হয়। ক্লাব ও পরিবারের সমন্বিত মানসিক সহায়তাই পারে একজন তরুণ প্রতিভাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্বমঞ্চের মহাতারকা বানিয়ে রাখতে। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি এই ক্রমবর্ধমান সচেতনতা ফুটবলকে আরও মানবিক করে তুলছে। তরুণদের এই ভেতরের লড়াইয়ের গল্পই আধুনিক ফুটবলের এক নতুন বাস্তব চিত্র।

/আবরার জাহিন

ফুটবল যখন ক্যারিয়ার ও স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ফুটবল যখন ক্যারিয়ার ও স্বপ্ন
ছবি: সংগৃহীত


বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর কিংবা ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের রোমাঞ্চ সবকিছুই বিশ্বজুড়ে তরুণদের দারুণভাবে আলোড়িত করে। মাঠের সেই গতি, নিখুঁত কৌশল আর গ্যালারির উন্মাদনা তরুণদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তবে আধুনিক যুগে ফুটবল শুধু মাঠের বিনোদন বা নিছক শখের খেলা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফুটবল এখন একটি আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পেশা। বিশ্বমঞ্চের তারকাদের অভাবনীয় সাফল্য দেখে বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বের তরুণরা ফুটবলকে জীবন গড়ার মূল মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে এই খেলার পেশাদার রূপ তরুণদের নতুন পথ দেখাচ্ছে।

বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চগুলো তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখতে শেখায়। কিলিয়ান এমবাপ্পে বা লামিন ইয়ামালের মতো তরুণদের অল্প বয়সে বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে দেখে সাধারণ কিশোররাও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়। আধুনিক ফুটবলে পেশাদারত্ব এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। একটি নামি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি কিংবা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া একজন ফুটবলারের জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। এই পেশায় যেমন রয়েছে বিশ্বব্যাপী বিপুল খ্যাতি, তেমন রয়েছে উন্নত জীবনযাত্রার টেকসই নিশ্চয়তা। ফলে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের নানা সুবিধা নিয়ে তরুণরা শৈশব থেকে নিজেদের দক্ষ পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার নিয়মতান্ত্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই উন্নয়নশীল চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। একসময় এ দেশে ফুটবলকে শুধু বিকেলবেলার বিনোদন বা শখ মনে করা হতো। কিন্তু এখন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন নিয়ে অনেক তরুণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আসছে। দেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগগুলোর মান ও পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং বিভিন্ন করপোরেট লিগের প্রসারের কারণে ফুটবলারদের নিয়মিত আয়ের একটি ভালো পথ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ তরুণেরা এখন ফুটবলকে দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে ভাবার সাহস পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের নারী ফুটবলারদের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক জয় তরুণদের মনে নতুন আশার আলো জুগিয়েছে।

এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও তরুণরা আধুনিক ফুটবল একাডেমিতে যোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নিজস্ব একাডেমি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে চমৎকার ফুটবল একাডেমি গড়ে উঠছে। এসব একাডেমিতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তরুণ ফুটবলাররা প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মাঠের প্রশিক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। অভিভাবকরা এখন আর ফুটবল খেলাকে কেবল সময় নষ্ট মনে করছেন না। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার সন্তানের ফুটবলার হওয়ার এই বৈশ্বিক স্বপ্নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে এবং তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

অবশ্য পেশা হিসেবে ফুটবলকে বেছে নেওয়ার এই পথটি মোটেও সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর শারীরিক পরিশ্রম, কড়া নিয়মানুবর্তিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুশৃঙ্খল অনুশীলন। প্রতিটি সফল ফুটবলারকে কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই সঙ্গে রয়েছে গুরুতর ইনজুরির বড় ধরনের ঝুঁকি। একটিমাত্র বড় চোট পুরো ক্যারিয়ার সাময়িকভাবে বা চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখেই এ যুগের তরুণরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বোঝে যে, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা করতে হলে কেবল সহজাত প্রতিভা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আধুনিক পেশাদার মানসিকতা। সঠিক সময়ে সঠিক নির্দেশনা পেলে এই তরুণরা আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হতে পারে।

ফুটবল এখন শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি একটি বিশাল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শিল্প। বিশ্বমঞ্চের উত্তেজনা তরুণদের মনে যে তীব্র প্রেরণা জোগায়, তা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। মাঠের সবুজ ঘাসে বল পায়ে দৌড়ানোর স্বপ্ন এখন জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠছে। দেশের সামগ্রিক পেশাদার ফুটবল কাঠামোর আরও উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণ প্রজন্ম ফুটবলকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্বপ্ন আর ক্যারিয়ারের এই চমৎকার মেলবন্ধন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ও উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল সারা বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে এক অনন্য আয়োজন। তবে এই আয়োজনকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যরকম উদ্দীপনা কাজ করে। খেলাধুলা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আর সেই খেলা যদি হয় ফুটবল, তবে আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। চার বছর পরপর আসা এই আসরকে তরুণরা নিজেদের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে উদযাপন করেন। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এই সময় এক আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না। এ দেশের তরুণদের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক উৎসব।

বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই তরুণদের মাঝে প্রস্তুতির আমেজ লক্ষ করা যায়। প্রিয় দলের জার্সি কেনা থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় পতাকা উড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, সবখানে ফুটবলের আলোচনা প্রাধান্য পায়। চায়ের দোকানগুলোয় প্রতিদিন বিকেলে ও সন্ধ্যায় প্রিয় দলের শক্তিমত্তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তরুণরা নিজেদের দলের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। কে সেরা খেলোয়াড়, কোন দলের রক্ষণভাগ সবচেয়ে শক্তিশালী, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। এই বিতর্ক কখনো কখনো মজার ছলে হয়, আবার কখনো বেশ সিরিয়াস রূপ নেয়। তবে দিন শেষে সবাই খেলার আনন্দ উপভোগ করেন।

একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তরুণরা দলবেঁধে খেলা দেখার জন্য নানা পরিকল্পনা করেন। বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। ক্লাবের মাঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অথবা পাড়ার কোনো খোলা জায়গায় প্রজেক্টর বসানো হয়। গভীর রাতে যখন খেলা চলে, তখনো তরুণদের চোখে ঘুম থাকে না। প্রিয় দল গোল করলে উল্লাসে ফেটে পড়ে চারপাশ। আবার দল হেরে গেলে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। এই হাসি, কান্না আর উত্তেজনার মধ্য দিয়েই তরুণরা এক মাস পার করে। খেলা দেখার এই সময়টুকু তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে তরুণদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনও দেখা যায়। খেলার সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বৃদ্ধি পায়। তরুণরা নিজেদের দলের জার্সি, স্কার্ফ, ব্যান্ড কিংবা অন্যান্য সামগ্রী কিনতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। স্থানীয় দর্জিরা বিভিন্ন দেশের পতাকা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করেন। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তরুণদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া খেলা উপলক্ষে তরুণরা বিভিন্ন দাতব্য কাজেও অংশ নেয়। অনেক সময় তারা প্রিয় দলের বিজয়ে আনন্দ মিছিল করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ তরুণদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। এই খেলার মাধ্যমে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, তাদের সংস্কৃতি ও মানুষ সম্পর্কে জানতে পারেন। যেসব দেশের নাম তারা আগে কখনো শোনেননি, ফুটবলের সুবাদে সেসব দেশের অবস্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা তৈরি হয়। খেলোয়াড়দের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তারা বুঝতে শেখে যে, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া ফুটবলের মাঠে বর্ণবাদবিরোধী ও শান্তির বার্তা তরুণদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে শেখে এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল তরুণদের জন্য এক মহামিলনমেলা। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর করতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনা বা কাজের চাপের মাঝে এক মাসের এই উৎসব তাদের নতুন করে বাঁচার আনন্দ দেয়। জয় বা পরাজয় ছাপিয়ে খেলার মূল চেতনা তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। হার জিত থাকবেই, তবে খেলায় অংশগ্রহণ ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সবচেয়ে বড় কথা। তরুণরা এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এক বিশাল উৎসব। এই উৎসবের রেশ তাদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট
মানসিক ফিটনেস মানে, জীবনের সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা।

শারীরিক সুস্থতা নিয়ে আমরা যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঠিক ততটাই উদাসীন। জিম করা, ডায়েট চার্ট মেনে চলা কিংবা ওজন মাপা–শরীরের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য কত উপায়ই না আমরা খুঁজি। কিন্তু আমাদের মনটা কতটা ফিট বা সুস্থ আছে, তার খবর কি আমরা রাখি? বিশেষ করে আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে তরুণ প্রজন্মের ওপর পড়ালেখা, ক্যারিয়ার আর সামাজিক মাধ্যমের এক অদৃশ্য চাপ প্রতিনিয়ত কাজ করে। শরীর ভালো না থাকলে যেমন জ্বর বা ব্যথা হয়, মনের অসুস্থতারও কিছু লক্ষণ থাকে। কিন্তু আপনি যে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ বা ‘মেন্টালি ফিট’, তা বুঝবেন কী করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু লক্ষণ, যা দেখে বুঝবেন আপনার মন দারুণ ফর্মে আছে। 


আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা

মেন্টালি ফিট থাকার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো নিজের আবেগকে বুঝতে পারা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। জীবনে উত্থান-পতন আসবেই, কখনো রাগ বা মন খারাপ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মানসিকভাবে ফিট তরুণ এই আবেগগুলোর কাছে হেরে যান না। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে তারা শান্ত মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন। যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তন বা প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা রেজিলিয়েন্স তাদের মধ্যে চমৎকার থাকে।

 

মানসিকভাবে সুস্থ মানুষরা নিজের মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি চেনেন।

 

নিজের যত্ন নেওয়া এবং ‘না’ বলতে পারা

অনেকেই ভাবেন সবার সব আবদার পূরণ করাই হয়তো সুস্থতা। আসলে তা নয়। মানসিকভাবে সুস্থ মানুষরা নিজের মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি চেনেন। নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা বিশ্রামের ক্ষতি করে অন্যের সব আবদারে সায় দেওয়া মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। যখন আপনি নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনম্রভাবে কোনো কিছুতে ‘না’ বলতে পারবেন, তখন বুঝবেন আপনি মানসিকভাবে বেশ পরিপক্ব ও ফিট।

সমালোচনা গ্রহণ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

আপনার চারপাশের সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না, এটাই বাস্তব। একজন মেন্টালি ফিট মানুষ অন্যের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেন এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করেন। আবার কেউ হিংসাবশত কটূক্তি করলে তা নিয়ে সারা দিন মন খারাপ করে বসে থাকেন না। তারা বোঝেন, অন্যের মতামত তাদের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে না। জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা আশার আলো খোঁজেন এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।

গভীর ঘুম ও বর্তমান মুহূর্তে বাঁচা

মানসিক ফিটনেসের একটি বড় প্রমাণ লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের ঘুমে। যদি বিছানায় যাওয়ার পর সারা দিনের দুশ্চিন্তা বা ভবিষ্যতের ভয় আপনার মাথা থেকে দূরে থাকে এবং আপনি একটি শান্তির গভীর ঘুম দিতে পারেন, তবে আপনার মন অনেকটাই সুস্থ। তা ছাড়া, অতীত নিয়ে আফসোস আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত প্যানিক না করে বর্তমান মুহূর্তটাকে যারা উপভোগ করতে পারেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সাধারণত খুব ভালো থাকে।


মনে রাখবেন, মানসিক ফিটনেস মানে এই নয় যে আপনার জীবনে কোনো সমস্যা থাকবে না কিংবা আপনি কখনো কাঁদবেন না। এর আসল অর্থ হলো, জীবনের সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। শরীর যেমন যত্ন না নিলে অসুস্থ হয়, মনের ক্ষেত্রেও তাই। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন, নিজের পছন্দের কাজ করুন এবং নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখুন। আপনার মন যদি ফিট থাকে, তবে পুরো পৃথিবী জয় করার আত্মবিশ্বাস আপনি নিজের ভেতরেই খুঁজে পাবেন।

যে কারণে মুভি দেখব

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
যে কারণে মুভি দেখব
ছবি এআই

ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে বিনোদনের নানা মাধ্যম আমাদের সামনে রয়েছে। বই পড়া, গান শোনা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা–সবকিছুরই একটা আলাদা আবেদন আছে। তবে আধুনিক যুগে বিনোদন ও শেখার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলোর একটি হলো চলচ্চিত্র বা মুভি। একটি ভালো মুভি কেবল দুই-আড়াই ঘণ্টার গল্প নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা কেন মুভি দেখব? সিনেমা দেখা কি শুধুই সময় কাটানোর মাধ্যম, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে? বিশেষ করে নিজের দেশের মুভি দেখার প্রয়োজনীয়তাটাই বা কী? বিস্তারিত জানাচ্ছেন হেলেনা পারভীন


জীবনের প্রতিচ্ছবি ও মানসিক রিফ্রেশমেন্ট

মুভি দেখার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এটি আমাদের চেনা জীবনেরই নানা দিক রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলে। দৈনন্দিন পড়াশোনা বা কাজের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে একটি দারুণ মুভি চমৎকার টনিক হিসেবে কাজ করে। সিনেমা আমাদের হাসায়, কাঁদায়, কখনো-বা কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। বড় পর্দায় যখন কোনো গল্প জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন আমরা সাময়িকভাবে নিজেদের বাস্তব জগৎ থেকে একটু দূরে সরিয়ে নিতে পারি, যা মানসিক ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি দেয়।

দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ও নতুন কিছু শেখা

চলচ্চিত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। একটি ভালো সিনেমা আমাদের এমন অনেক বিষয়ের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যা হয়তো আমরা কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখিনি। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সমাজব্যবস্থা কিংবা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা–নানা বিষয়ের ওপর নির্মিত সিনেমা আমাদের চিন্তার খোরাক জোগায়। বিভিন্ন দেশের মুভি দেখার মাধ্যমে আমরা সেই দেশের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার মান এবং মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারি, যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও উদার ও বৈশ্বিক করে তোলে।

দেশীয় মুভি কেন দেখব?

বিদেশি সিনেমা আমাদের যতই বিনোদন দিক না কেন, নিজের শেকড়কে চিনতে হলে দেশীয় সিনেমার কোনো বিকল্প নেই। দেশীয় মুভি দেখার প্রয়োজনীয়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ–
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের লালন: আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ, লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ ও শহরের জীবনের আসল রূপ কেবল আমাদের দেশের পরিচালকরাই নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারেন। নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশীয় সিনেমা দেখা জরুরি।
ভাষার টান: মায়ের ভাষায় ডায়ালগ শোনার এবং চরিত্রগুলোর আবেগের সঙ্গে মিশে যাওয়ার যে আনন্দ, তা সাবটাইটেল দেখে বিদেশি সিনেমা উপভোগ করার চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।
অর্থনৈতিক ও ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন: আমরা যখন টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেশীয় সিনেমা দেখি, তখন আমাদের সিনেমার বাজার বড় হয়। একটি সিনেমা হিট হলে শুধু পরিচালক বা নায়ক-নায়িকা লাভবান হন না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্পট বয় থেকে শুরু করে শত শত কলাকুশলীর রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। দর্শক পাশে থাকলেই নির্মাতারা বিশ্বমানের সিনেমা বানানোর সাহস পাবেন।

তারুণ্যের দায়বদ্ধতা

আজকের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ বিদেশি সিরিজের প্রতি দারুণভাবে ঝুঁকছে, যা খারাপ কিছু নয়। তবে একই সঙ্গে দেশীয় চলচ্চিত্রের এই নতুন জোয়ারে শামিল হওয়াটাও আমাদের দায়িত্ব। বর্তমানে আমাদের দেশেও চমৎকার সব গল্প আর আধুনিক নির্মাণশৈলী নিয়ে একঝাঁক তরুণ নির্মাতা কাজ করছেন। আমাদের সিনেমাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে হলে সবার আগে দেশের দর্শকদের হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে হবে।
মনে রাখতে হবে, মুভি দেখা কেবল চোখজুড়ানো বিনোদন নয়, এটি মনকে সমৃদ্ধ করার একটি দারুণ উপায়। তাই অবসরে রুচিশীল সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আর সেই সিনেমা যদি হয় নিজের দেশের, তবে বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত হয় দেশপ্রেমের এক অন্যরকম অনুভূতি। তাই আসুন, ভালো সিনেমাকে উদযাপিত করি এবং আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের পাশে দাঁড়িয়ে একে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাই।