দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার মানুষের জীবনধারা ও সংস্কৃতিও বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার কিশোর-কিশোরীরা তাদের ব্যস্ত কিন্তু রঙিন দিন যাপনের মধ্য দিয়ে এক অনন্য সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি বহন করে। তারা যা খায়, যেভাবে সময় কাটায় এবং পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন- সবকিছুতেই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
সকালের শুরু
ইন্দোনেশিয়ার কিশোর-কিশোরীদের সকাল শুরু হয় খুব ভোরে। সাধারণত ভোর ৫টার মধ্যেই ঘুম থেকে উঠে তারা নামাজ আদায় করে, তারপর হালকা নাশতা খায়। নাশতায় থাকে ভাত-ভাজি, নুডলস বা কখনো ডিম ও টোফুর সঙ্গে ভাত। চা বা কফিও জনপ্রিয়। নাশতা শেষে তারা স্কুলের জন্য প্রস্তুত হয়।
স্কুলের সময় ও পরিবেশ
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল সাধারণত সকাল ৭টার দিকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। কিশোর-কিশোরীরা ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যায়, যা তাদের শৃঙ্খলার প্রতীক। সকালে ক্লাসে থাকে গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা, ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়। বিশেষ করে ‘ভাষা ইন্দোনেশিয়া’ (ইন্দোনেশিয়ান ভাষা) ও ইংরেজি পড়ানো হয় গুরুত্ব দিয়ে। স্কুলে সকালের মাঝামাঝি একটি বিরতি থাকে, যেখানে তারা স্ন্যাক্স খায় যেমন- রুটি, কলা, সাটে বা স্যুপ জাতীয় খাবার।
সহপাঠ কার্যক্রম
শুধু পড়াশোনাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার স্কুলগুলোতে কিশোর-কিশোরীরা খেলাধুলা, সংগীত, নাচ ও শিল্পচর্চায়ও যুক্ত হয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী নাচ, গামেলান নামের বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা আধুনিক ব্যান্ড সংগীতে অংশ নেওয়া জনপ্রিয়। অনেকেই স্কুলের পরে স্কাউট বা ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রমে যোগ দেয়।
দুপুর ও বিকেলবেলা
স্কুল শেষে কিশোর-কিশোরীরা বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার খায়। তাদের দুপুরের খাবারে থাকে ভাত, মাছ, মুরগি, সবজি ও মসলাদার সস। দুপুরের খাবার শেষে কেউ বিশ্রাম নেয়, আবার কেউ প্রাইভেট টিউশনে যায়। বিকেলের দিকে তারা বন্ধুরা মিলে ফুটবল খেলে, সাইকেল চালায় বা স্থানীয় মাঠে আড্ডা দেয়। মেয়েদের মধ্যে নাচ শেখা ও হস্তশিল্পের প্রতি আগ্রহ বেশি।
প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যম
ইন্দোনেশিয়ার কিশোর-কিশোরীরা প্রযুক্তিপ্রেমী। তারা বিকেলের সময় বা রাতে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। অনেকে অনলাইন গেম খেলতেও ভালোবাসে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের কিশোররা বাইরে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দেয়।
ধর্মীয় জীবন
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তাই কিশোর-কিশোরীদের জীবনযাত্রায় ধর্মীয় অনুশীলনের প্রভাব প্রবল। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, মসজিদে যাওয়া, রমজান মাসে রোজা রাখা- এসব তাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্মীয় শিক্ষা স্কুল ও পরিবারের কাছ থেকেও তারা নিয়মিত পায়।
পারিবারিক বন্ধন
ইন্দোনেশিয়ার কিশোররা পরিবারকেন্দ্রিক। পড়াশোনা ও খেলার পাশাপাশি তারা বাবা-মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করে। বিশেষ করে মেয়েরা রান্নায় সাহায্য করে আর ছেলেরা বাজার বা বাইরের কাজে সহায়তা করে। পরিবারের সঙ্গে খাওয়া ও একসঙ্গে সময় কাটানো তাদের কাছে মূল্যবান।
সন্ধ্যা ও রাত
সন্ধ্যা নামতেই অনেক কিশোর-কিশোরী পড়ার টেবিলে বসে যায়। স্কুল থেকে দেওয়া হোমওয়ার্ক শেষ করার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেয়। রাতের খাবার সাধারণত রাত ৮টার দিকে খাওয়া হয়। এতে থাকে ভাত, মাছ বা মুরগির তরকারি, স্যুপ ও সালাদ। খাবার শেষে তারা টেলিভিশন দেখে, বই পড়ে বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়। রাত ১০টার মধ্যেই বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরী ঘুমাতে যায়।

