ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি
Nagad desktop

ক্যারিয়ার ও সম্পর্কের রসায়ন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ক্যারিয়ার ও সম্পর্কের রসায়ন
প্রেম মানে কেবল সময় কাটানো নয়, প্রেম মানে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী পাওয়া। ছবি এআই

একবিংশ শতাব্দীর তরুণ প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে সমানতালে এগিয়ে নেওয়া। একদিকে আকাশছোঁয়া ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রিয় মানুষের সঙ্গে একটি সুন্দর সম্পর্কের টান। অনেক সময় মনে হয়, একটিকে বেছে নিতে গেলে অন্যটি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যিই কি ক্যারিয়ার আর প্রেম একে অপরের শত্রু? সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে প্রেম আপনার লক্ষ্যের পথে বাধা না হয়ে বরং হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

সময়ের অভাব ও প্রত্যাশার চাপ
তরুণ বয়সে ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করতে প্রচুর সময় এবং মনোযোগ দিতে হয়। ঠিক এই সময়ে মানুষের জীবনে প্রেম আসে। পত্রিকার পাতায় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা প্রায়ই দেখি, সম্পর্কের টানাপোড়েনে কারও ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আবার ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে কেউ হারিয়ে ফেলছেন প্রিয় মানুষটিকে। এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ হলো ‘সময় ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘অবাস্তব প্রত্যাশা’। আমরা যখন মনে করি প্রেম মানেই সারাক্ষণ চ্যাটিং বা ঘুরে বেড়ানো, তখনই ক্যারিয়ারের সঙ্গে তার সংঘাত শুরু হয়।

প্রেম যখন অনুপ্রেরণা
প্রেম মানে কেবল সময় কাটানো নয়, প্রেম মানে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী পাওয়া, যে আপনার লক্ষ্যকে নিজের মনে করবে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বের সফলতম ব্যক্তিদের পেছনে প্রায়ই একজন ধৈর্যশীল সঙ্গীর অবদান থাকে। যখন আপনার সঙ্গী আপনার ক্লান্তি বোঝেন, আপনার পরীক্ষার আগে আপনাকে পড়তে উৎসাহ দেন কিংবা আপনার ছোটখাটো সাফল্যে আনন্দিত হন, তখন সেই সম্পর্ক আপনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে। এই মানসিক প্রশান্তি আপনাকে কাজে আরও বেশি মনোযোগী করে তোলে। প্রেম যখন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তখন সেটি আর বোঝা থাকে না, হয়ে ওঠে এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি।

ভারসাম্য রক্ষার কৌশল
ক্যারিয়ার এবং প্রেম–দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হলে কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এর নাম ‘বাউন্ডারি’ বা সীমানা নির্ধারণ।
• কাজের সময় কাজ: যখন আপনি পড়াশোনা বা অফিসের কাজ করছেন, তখন ফোন দূরে রাখুন। সঙ্গীকে আগেভাগেই জানিয়ে দিন আপনার ব্যস্ততার সময়টুকু।
• কোয়ালিটি টাইম: দিনের শেষে সময় নিয়ে কথা বলা সারা দিন চ্যাটিং করার চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। পরিমাণে নয়, সময়ের গুণগত মানে বিশ্বাসী হোন।
• স্বপ্ন ভাগ করে নেওয়া: আপনার লক্ষ্য কী, আপনি ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান—তা সঙ্গীকে জানান। তিনি যদি আপনার স্বপ্নের গুরুত্ব বোঝেন, তবে তিনি কখনোই আপনার সময়ের জন্য অযৌক্তিক দাবি করবেন না।

টক্সিক রিলেশনশিপ বনাম সুস্থ সম্পর্ক
আমাদের বুঝতে হবে কোন সম্পর্কটি আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর। যদি আপনার সঙ্গী আপনার সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত হন, আপনার কাজের সময় বারবার ঝগড়া করেন কিংবা আপনাকে লক্ষ্যচ্যুত করার চেষ্টা করেন, তবে সেটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’। সুস্থ সম্পর্ক কখনোই আপনার ক্যারিয়ারকে ছোট করে দেখে না। বরং একজন সঠিক সঙ্গী আপনার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে আপনার সবচেয়ে বড় ‘চিয়ারলিডার’ হিসেবে পাশে থাকেন। মনে রাখবেন, যে প্রেম আপনাকে ছোট করে বা আপনার স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে চায়, তা আসলে প্রেম নয়, বরং এক ধরনের মোহ বা নিয়ন্ত্রণ।

প্রতিযোগিতার যুগে মানসিক প্রশান্তি
বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। সারা দিন ইঁদুর দৌড় দৌড়ে দিনশেষে এমন একজনকে প্রয়োজন হয় যার কাছে মনের কথা খুলে বলা যায়। ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা আসতেই পারে, কিন্তু সেই কঠিন সময়ে যদি কেউ পাশে থেকে বলে–‘ঠিক আছে, আমি আছি তোমার সঙ্গে’, তবে সেই সাহস নিয়ে নতুন করে লড়াই শুরু করা যায়। এই মানসিক স্থিতিশীলতা একজন সিঙ্গেল মানুষের চেয়ে একজন সুখী সম্পর্কে থাকা মানুষের বেশি থাকে। তাই ক্যারিয়ারের সাফল্যের জন্য প্রেমের বিসর্জন সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সমন্বয়ই চাবিকাঠি
জীবন মানেই ব্যালেন্স বা ভারসাম্য। ক্যারিয়ার আপনার পরিচয় তৈরি করবে, আর ভালোবাসা আপনার জীবনকে পূর্ণতা দেবে। দুটির কোনোটিই অন্যটির পরিপূরক নয়। তাই ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রেমকে ভয় না পেয়ে বরং একে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে শিখুন। আপনার লক্ষ্য পরিষ্কার রাখুন এবং সঙ্গীকে সেই লক্ষ্যের অংশীদার করুন।
পরিশেষে বলা যায়, প্রেম এবং ক্যারিয়ার মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সঠিক মানুষের হাত ধরে ক্যারিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অনেক বেশি সহজ এবং আনন্দের। প্রেম যেন আপনার শিকল না হয়, বরং তা যেন আপনার ডানায় বাড়তি পালক যোগ করে। সুস্থ সুন্দর একটি সম্পর্কের মাধ্যমেই সম্ভব সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো।

কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট
মানসিক ফিটনেস মানে, জীবনের সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা।

শারীরিক সুস্থতা নিয়ে আমরা যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঠিক ততটাই উদাসীন। জিম করা, ডায়েট চার্ট মেনে চলা কিংবা ওজন মাপা–শরীরের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য কত উপায়ই না আমরা খুঁজি। কিন্তু আমাদের মনটা কতটা ফিট বা সুস্থ আছে, তার খবর কি আমরা রাখি? বিশেষ করে আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে তরুণ প্রজন্মের ওপর পড়ালেখা, ক্যারিয়ার আর সামাজিক মাধ্যমের এক অদৃশ্য চাপ প্রতিনিয়ত কাজ করে। শরীর ভালো না থাকলে যেমন জ্বর বা ব্যথা হয়, মনের অসুস্থতারও কিছু লক্ষণ থাকে। কিন্তু আপনি যে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ বা ‘মেন্টালি ফিট’, তা বুঝবেন কী করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু লক্ষণ, যা দেখে বুঝবেন আপনার মন দারুণ ফর্মে আছে। 


আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা

মেন্টালি ফিট থাকার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো নিজের আবেগকে বুঝতে পারা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। জীবনে উত্থান-পতন আসবেই, কখনো রাগ বা মন খারাপ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মানসিকভাবে ফিট তরুণ এই আবেগগুলোর কাছে হেরে যান না। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে তারা শান্ত মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন। যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তন বা প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা রেজিলিয়েন্স তাদের মধ্যে চমৎকার থাকে।

 

মানসিকভাবে সুস্থ মানুষরা নিজের মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি চেনেন।

 

নিজের যত্ন নেওয়া এবং ‘না’ বলতে পারা

অনেকেই ভাবেন সবার সব আবদার পূরণ করাই হয়তো সুস্থতা। আসলে তা নয়। মানসিকভাবে সুস্থ মানুষরা নিজের মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি চেনেন। নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা বিশ্রামের ক্ষতি করে অন্যের সব আবদারে সায় দেওয়া মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। যখন আপনি নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনম্রভাবে কোনো কিছুতে ‘না’ বলতে পারবেন, তখন বুঝবেন আপনি মানসিকভাবে বেশ পরিপক্ব ও ফিট।

সমালোচনা গ্রহণ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

আপনার চারপাশের সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না, এটাই বাস্তব। একজন মেন্টালি ফিট মানুষ অন্যের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেন এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করেন। আবার কেউ হিংসাবশত কটূক্তি করলে তা নিয়ে সারা দিন মন খারাপ করে বসে থাকেন না। তারা বোঝেন, অন্যের মতামত তাদের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে না। জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা আশার আলো খোঁজেন এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।

গভীর ঘুম ও বর্তমান মুহূর্তে বাঁচা

মানসিক ফিটনেসের একটি বড় প্রমাণ লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের ঘুমে। যদি বিছানায় যাওয়ার পর সারা দিনের দুশ্চিন্তা বা ভবিষ্যতের ভয় আপনার মাথা থেকে দূরে থাকে এবং আপনি একটি শান্তির গভীর ঘুম দিতে পারেন, তবে আপনার মন অনেকটাই সুস্থ। তা ছাড়া, অতীত নিয়ে আফসোস আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত প্যানিক না করে বর্তমান মুহূর্তটাকে যারা উপভোগ করতে পারেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সাধারণত খুব ভালো থাকে।


মনে রাখবেন, মানসিক ফিটনেস মানে এই নয় যে আপনার জীবনে কোনো সমস্যা থাকবে না কিংবা আপনি কখনো কাঁদবেন না। এর আসল অর্থ হলো, জীবনের সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। শরীর যেমন যত্ন না নিলে অসুস্থ হয়, মনের ক্ষেত্রেও তাই। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন, নিজের পছন্দের কাজ করুন এবং নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখুন। আপনার মন যদি ফিট থাকে, তবে পুরো পৃথিবী জয় করার আত্মবিশ্বাস আপনি নিজের ভেতরেই খুঁজে পাবেন।

যে কারণে মুভি দেখব

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
যে কারণে মুভি দেখব
ছবি এআই

ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে বিনোদনের নানা মাধ্যম আমাদের সামনে রয়েছে। বই পড়া, গান শোনা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা–সবকিছুরই একটা আলাদা আবেদন আছে। তবে আধুনিক যুগে বিনোদন ও শেখার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলোর একটি হলো চলচ্চিত্র বা মুভি। একটি ভালো মুভি কেবল দুই-আড়াই ঘণ্টার গল্প নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা কেন মুভি দেখব? সিনেমা দেখা কি শুধুই সময় কাটানোর মাধ্যম, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে? বিশেষ করে নিজের দেশের মুভি দেখার প্রয়োজনীয়তাটাই বা কী? বিস্তারিত জানাচ্ছেন হেলেনা পারভীন


জীবনের প্রতিচ্ছবি ও মানসিক রিফ্রেশমেন্ট

মুভি দেখার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এটি আমাদের চেনা জীবনেরই নানা দিক রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলে। দৈনন্দিন পড়াশোনা বা কাজের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে একটি দারুণ মুভি চমৎকার টনিক হিসেবে কাজ করে। সিনেমা আমাদের হাসায়, কাঁদায়, কখনো-বা কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। বড় পর্দায় যখন কোনো গল্প জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন আমরা সাময়িকভাবে নিজেদের বাস্তব জগৎ থেকে একটু দূরে সরিয়ে নিতে পারি, যা মানসিক ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি দেয়।

দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ও নতুন কিছু শেখা

চলচ্চিত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। একটি ভালো সিনেমা আমাদের এমন অনেক বিষয়ের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যা হয়তো আমরা কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখিনি। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সমাজব্যবস্থা কিংবা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা–নানা বিষয়ের ওপর নির্মিত সিনেমা আমাদের চিন্তার খোরাক জোগায়। বিভিন্ন দেশের মুভি দেখার মাধ্যমে আমরা সেই দেশের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার মান এবং মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারি, যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও উদার ও বৈশ্বিক করে তোলে।

দেশীয় মুভি কেন দেখব?

বিদেশি সিনেমা আমাদের যতই বিনোদন দিক না কেন, নিজের শেকড়কে চিনতে হলে দেশীয় সিনেমার কোনো বিকল্প নেই। দেশীয় মুভি দেখার প্রয়োজনীয়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ–
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের লালন: আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ, লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ ও শহরের জীবনের আসল রূপ কেবল আমাদের দেশের পরিচালকরাই নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারেন। নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশীয় সিনেমা দেখা জরুরি।
ভাষার টান: মায়ের ভাষায় ডায়ালগ শোনার এবং চরিত্রগুলোর আবেগের সঙ্গে মিশে যাওয়ার যে আনন্দ, তা সাবটাইটেল দেখে বিদেশি সিনেমা উপভোগ করার চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।
অর্থনৈতিক ও ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন: আমরা যখন টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেশীয় সিনেমা দেখি, তখন আমাদের সিনেমার বাজার বড় হয়। একটি সিনেমা হিট হলে শুধু পরিচালক বা নায়ক-নায়িকা লাভবান হন না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্পট বয় থেকে শুরু করে শত শত কলাকুশলীর রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। দর্শক পাশে থাকলেই নির্মাতারা বিশ্বমানের সিনেমা বানানোর সাহস পাবেন।

তারুণ্যের দায়বদ্ধতা

আজকের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ বিদেশি সিরিজের প্রতি দারুণভাবে ঝুঁকছে, যা খারাপ কিছু নয়। তবে একই সঙ্গে দেশীয় চলচ্চিত্রের এই নতুন জোয়ারে শামিল হওয়াটাও আমাদের দায়িত্ব। বর্তমানে আমাদের দেশেও চমৎকার সব গল্প আর আধুনিক নির্মাণশৈলী নিয়ে একঝাঁক তরুণ নির্মাতা কাজ করছেন। আমাদের সিনেমাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে হলে সবার আগে দেশের দর্শকদের হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে হবে।
মনে রাখতে হবে, মুভি দেখা কেবল চোখজুড়ানো বিনোদন নয়, এটি মনকে সমৃদ্ধ করার একটি দারুণ উপায়। তাই অবসরে রুচিশীল সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আর সেই সিনেমা যদি হয় নিজের দেশের, তবে বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত হয় দেশপ্রেমের এক অন্যরকম অনুভূতি। তাই আসুন, ভালো সিনেমাকে উদযাপিত করি এবং আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের পাশে দাঁড়িয়ে একে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাই।

হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা

আজকের দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক বা পত্রিকার পাতায় চোখ বোলাতেই অনেকের নজর চলে যায় নিজের রাশিফলের ওপর। ‘আজ আপনার লটারি জেতার যোগ আছে’ কিংবা ‘আজ প্রিয় মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে’–এমন কথা পড়ে মনে মনে একটু রোমাঞ্চ বা দুশ্চিন্তা কাজ করাটা খুব স্বাভাবিক। 
তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই হরোস্কোপ বা রাশিফল নিয়ে এক ধরনের অদ্ভুত কৌতূহল কাজ করে। কেউ এটাকে স্রেফ বিনোদন মনে করে উড়িয়ে দেয়, আবার কেউ হয়তো দিনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার রাশির পূর্বাভাস মিলিয়ে নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হরোস্কোপ আসলে কী? এর পেছনে কি কোনো বিজ্ঞান আছে, নাকি এটি শুধুই এক ধরনের মানসিক মনস্তত্ত্ব?

হরোস্কোপ কি এবং এর পথচলা কীভাবে শুরু?

খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, হরোস্কোপ হলো একজন মানুষের জন্মের সুনির্দিষ্ট সময়ে মহাকাশে সূর্য, চন্দ্র এবং বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান কেমন ছিল, তার একটি মানচিত্র বা চিত্ররূপ। জ্যোতিষশাস্ত্রের (Astrology) মতে, এই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান মানুষের চরিত্র, মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে।
এই হরোস্কোপের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরোনো। আজ থেকে প্রায় হাজার চারেক বছর আগে প্রাচীন ব্যাবিলন ও মেসোপটেমিয়ায় এই চর্চার সূত্রপাত হয়েছিল। প্রাচীনকালের মানুষ যখন রাতের আকাশে তারার মেলা দেখত, তখন তারা ঋতু পরিবর্তন বা কৃষিকাজের সুবিধার জন্য নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। পরবর্তী সময়ে প্রাচীন গ্রিক, রোমান, মিশরীয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এটি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রিক শব্দ ‘হরোস্কোপোস’ (Horoskopos) থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ ‘সময়ের পর্যবেক্ষণ’।

 

হরোস্কোপ কীভাবে কাজ করে (দাবি বনাম বাস্তব)?

জ্যোতিষীদের দাবি অনুযায়ী, পুরো আকাশমণ্ডলকে ১২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যা ‘রাশিচক্র’ (Zodiac) নামে পরিচিত। মেষ, বৃষ, মিথুন থেকে শুরু করে মীন পর্যন্ত এই ১২টি রাশির একেকটির ওপর আরেকটি গ্রহের প্রভাব থাকে। বলা হয়ে থাকে, আপনার জন্মের সময় সূর্য যে রাশিতে অবস্থান করছিল, সেটাই আপনার মূল রাশি বা ‘সান সাইন’ (Sun Sign)।
তবে মজার বিষয় হলো, হরোস্কোপ যেভাবে আমাদের মনে জায়গা করে নেয়, তার পেছনে গ্রহ-নক্ষত্রের চেয়ে বেশি কাজ করে মানুষের মনস্তত্ত্ব। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘বারনাম ইফেক্ট’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো মানুষের সামনে এমন কিছু সাধারণ ও অস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয় যা প্রায় সবার জীবনের সঙ্গেই মিলে যায়, তখন মানুষ মনে করে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে কেবল তার জন্যই বলা হয়েছে। যেমন- যদি বলা হয়, ‘আপনি বাইরে থেকে খুব শক্ত হলেও ভেতরে ভেতরে বেশ আবেগপ্রবণ’–এই বাক্যটি পৃথিবীর ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই সত্যি! হরোস্কোপ মূলত এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলেই মানুষের অবচেতনে কাজ করে।

হরোস্কোপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

একদম সোজাসুজি উত্তর দিলে–না, হরোস্কোপ বা জ্যোতিষশাস্ত্রের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি ‘ছদ্মবিজ্ঞান’ বা Pseudo-science।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, রাশিচক্রের নক্ষত্রমণ্ডলগুলো পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এই দূরবর্তী নক্ষত্র বা গ্রহগুলোর মহাকর্ষীয় বল এতটাই দুর্বল যে, তা পৃথিবীর কোনো নবজাতকের চরিত্র বা ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। বিজ্ঞানের যুক্তি হলো, একই দিনে একই সময়ে জন্ম নেওয়া দুটি যমজ শিশুর জীবন ও ভাগ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মানুষের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়াটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

 

তা হলে কি বিশ্বাস করব, নাকি করব না?

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, বিজ্ঞান যখন একে স্বীকৃতি দেয় না, তখন মানুষ কেন এতে বিশ্বাস করে? আসলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা জানার এক ধরনের আদিম কৌতূহল মানুষের জন্মগত। পরীক্ষা কেমন হবে, ক্যারিয়ারে কী অপেক্ষা করছে, কিংবা পছন্দের মানুষটি তাকে ভালোবাসে কি না–এসব দোলাচলের মাঝে হরোস্কোপ যখন একটু ইতিবাচক আশার বাণী শোনায়, তখন মনটা হালকা হয়।
তরুণদের জন্য পরামর্শ হলো, হরোস্কোপকে আপনি যদি সকালের এক কাপ চায়ের সঙ্গে একটু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নেন, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। একটা পজিটিভ প্রেডিকশন যদি আপনার সারা দিনের কাজের অনুপ্রেরণা দেয়, তবে সেটাকে ভালো মনে করতেই পারেন। কিন্তু সমস্যা তখন হয়, যখন মানুষ এর ওপর অন্ধভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রাশিফলে ‘আজ যাত্রা অশুভ’ দেখে যদি কেউ ইন্টারভিউ দিতে না যায়, কিংবা ‘আজ সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে’ ভেবে যদি বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে–তবে সেটা হবে চরম বোকামি।

নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ো

তারুণ্যের মূল শক্তিই হলো আত্মবিশ্বাস আর যুক্তি দিয়ে পৃথিবীকে চেনা। গ্রহ-নক্ষত্র বা রাশিফলে দেওয়া চার লাইনের ভবিষ্যদ্বাণী কখনই আপনার যোগ্যতা বা পরিশ্রমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নির্ভর করে আমাদের আজকের কর্ম, সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং কঠোর অধ্যবসায়ের ওপর। তাই হরোস্কোপের পাতায় নিজের ভাগ্য না খুঁজে, নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখাই একজন তরুণের আসল পরিচয়। বিনোদনের ছলে রাশিফল পড়ুন, হাসুন, কিন্তু নিজের জীবনের স্টিয়ারিংটা সব সময় নিজের হাতেই রাখুন!

ভুল হয়ে গেছে, এখন...!

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ভুল হয়ে গেছে, এখন...!
কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। ছবি এআই

মানুষ মাত্রই ভুল। চলার পথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বা আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা মাঝে মধ্যে এমন কিছু করে ফেলি, যা অন্যায়। সেই ভুলের বোঝা বয়ে বেড়ানোটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অন্যায় করার চেয়েও বড় অন্যায় হলো সেই ভুল নিয়ে জেদ ধরে বসে থাকা বা তা অস্বীকার করা। তারুণ্যের এই বয়সে ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করাই হলো প্রকৃত সাহসিকতা। জানাচ্ছেন আশরাফ হোসেন


অপরাধবোধকে ইতিবাচকভাবে নিন

কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। এই অপরাধবোধ আপনাকে অপরাধী বানানোর জন্য নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বিষণ্নতায় না ভুগে বরং ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন আপনি ঠিক কোথায় ভুল করেছেন। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি মানসিক শক্তির পরিচয়।

দায়বদ্ধতা স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

অন্যায়টি যদি অন্য কারও সঙ্গে হয়ে থাকে, তবে প্রথম কাজ হলো নিঃসংকোচে ক্ষমা চাওয়া। অজুহাত না দেখিয়ে সরাসরি নিজের দোষ স্বীকার করুন। অনেক সময় আমরা ‘কিন্তু’ বা ‘তবে’ যোগ করে নিজের অন্যায়কে হালকা করার চেষ্টা করি, যা সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ায়। আপনি যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন বা কারও ক্ষতি করে থাকেন, তবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন, একটি ছোট্ট ‘সরি’ অনেক বড় বিবাদ মিটিয়ে দিতে পারে।

ক্ষতিপূরণের চেষ্টা

শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, যদি সম্ভব হয় তবে সেই অন্যায়ের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কারও কোনো বস্তুগত ক্ষতি করেন, তবে তা সারিয়ে দিন বা বদলে দিন। আর যদি মানসিকভাবে কাউকে আঘাত করেন, তবে আপনার ভালো ব্যবহার দিয়ে সেই ক্ষত ভরাট করার চেষ্টা করুন। আপনার কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হওয়া উচিত যে আপনি সত্যিই অনুতপ্ত।

নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন

অন্যের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের কাছেও ক্ষমা পাওয়া জরুরি। অনেকেই আছেন যারা একটি ভুলের জন্য মাসের পর মাস নিজেকে দোষারোপ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। এতে জীবন থমকে যায়। মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিন কিন্তু সেই ভুলকে আপনার পরিচয় হতে দেবেন না। নিজেকে কথা দিন যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অন্যায় আপনি আর করবেন না।

নতুন শুরুর সংকল্প

অতীতকে আমরা বদলাতে পারব না, কিন্তু বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। যে পরিস্থিতির কারণে আপনি অন্যায়টি করেছিলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড় কেউ বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। জীবন আমাদের প্রতিটা মোড়েই নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একজন উন্নত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হোক লক্ষ্য।

মেকআপ বনাম ন্যাচারাল লুক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
মেকআপ বনাম ন্যাচারাল লুক
ছবি এআই

বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীদের কাছে নিজেদের উপস্থাপন করার ধরনটি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় ভুগি–একটু কি মেকআপের ছোঁয়া দেব, নাকি একেবারে ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক সাজেই বাইরে বের হব? সৌন্দর্য আসলে আপেক্ষিক, তবে নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কোনটি বেশি মানানসই, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। লিখেছেন ফিজা হাফিজা

মেকআপ: আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা

মেকআপ মানেই কিন্তু মুখমণ্ডল পাল্টে ফেলা নয়। বরং মেকআপ হলো নিজের সেরা বৈশিষ্ট্যগুলোকে ফুটিয়ে তোলার একটি শিল্প। অনেক সময় রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে চোখের নিচে কালি পড়ে বা ক্লান্তির ছাপ দেখা দেয়; সামান্য কনসিলার বা কাজল সেই ক্লান্তি ঢেকে দিয়ে নিমেষেই এক চিলতে সতেজতা এনে দেয়। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, উৎসব বা ফটোশুটের ক্ষেত্রে মেকআপ আমাদের আত্মবিশ্বাসকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া বর্তমানে ‘নো মেকআপ’ মেকআপ লুক বেশ জনপ্রিয়, যা মেকআপ ব্যবহার করেও আপনাকে একটি স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক চেহারা উপহার দেয়।

ন্যাচারাল লুক: স্বকীয়তার জয়গান

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল লুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সারল্য। যখন আপনি কোনো প্রসাধন ছাড়াই বাইরে বের হন, তখন আপনি নিজের আসল ত্বকের ওপর আপনার আস্থার পরিচয় দেন। ন্যাচারাল লুকে থাকার মানে হলো নিজের খুঁতগুলোকে (যেমন–তিল বা দাগ) ভালোবেসে গ্রহণ করা।
আজকালকার কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ভারী মেকআপ করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ন্যাচারাল লুকে থাকলে ত্বক প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে এবং লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ভয় থাকে না। যারা কৃত্রিমতার চেয়ে স্নিগ্ধতাকে বেশি প্রাধান্য দেন, তাদের কাছে ন্যাচারাল লুকই সেরা।

কোনটা ভালো এবং কেন?

আসলে কোনটি ভালো, তা নির্ভর করে সময় এবং পরিস্থিতির ওপর।
ত্বকের স্বাস্থ্য: নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকে ব্রণ বা র‍্যাশ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুস্থ ত্বকের জন্য ন্যাচারাল থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিবেশ: বিয়েবাড়ি বা আড্ডায় একটু মেকআপ মানিয়ে গেলেও ক্লাস বা নিয়মিত অফিসে হালকা সাজ বা ন্যাচারাল থাকাই স্বস্তিদায়ক।
ব্যক্তিত্ব: আপনার যদি রং নিয়ে খেলতে ভালো লাগে, তবে মেকআপ আপনার জন্য একটি মাধ্যম। আর যদি আপনি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন, তবে ন্যাচারাল লুকই আপনার পরিচয়।

ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি

সৌন্দর্যের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি যদি মেকআপ করতে ভালোবাসেন, তবে অবশ্যই ভালো মানের প্রসাধন ব্যবহার করবেন এবং দিন শেষে তা পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। আর যদি ন্যাচারাল থাকতে চান, তবে সঠিক স্কিনকেয়ার বা ত্বকের যত্ন নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বকই হলো আসল সৌন্দর্য।

পরিশেষে বলা যায়, আপনি কাজল মাখা চোখ বা একদম সাদামাটা মুখ–যেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করুন না কেন, আপনার আত্মবিশ্বাসই হবে আপনার আসল সৌন্দর্য। নিজেকে ভালোবাসুন এবং নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন, কারণ আপনি যেমন, আপনি তেমনই সুন্দর।