ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

সময়ের আয়নায় তারুণ্য বদলে যাওয়া জীবন ও আগামীর পথচলা

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
বদলে যাওয়া জীবন ও আগামীর পথচলা
ছবি এআই

তারুণ্য মানেই উদ্দামতা, তারুণ্য মানেই নতুন কিছু গড়ার কারিগর। নদীর স্রোতের মতো সময় বয়ে চলে। আর সেই স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যায় প্রজন্মের রুচি, চিন্তা এবং জীবনধারা। বিশ-ত্রিশ বছর আগের একজন তরুণ আর বর্তমানের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) বা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই পরিবর্তন কেবল পোশাকে নয়, বরং তাদের মনস্তত্ত্ব, খাদ্যাভ্যাস এবং দৃষ্টিভঙ্গিতেও স্পষ্ট। আজকের নিবন্ধে আমরা আলোকপাত করব কীভাবে সময়ের আবর্তে বদলে গেছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম।

কেমন ছিল আগের প্রজন্ম?
নব্বইয়ের দশক বা তারও আগের তরুণ প্রজন্মের কথা ভাবলে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক অন্যরকম শান্ত অথচ প্রাণবন্ত ছবি। তখন বিনোদনের মাধ্যম ছিল সীমিত। বিকেলে মাঠে গিয়ে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা ছিল নেশা। আড্ডা মানেই ছিল পাড়ার মোড়ে বা চা-দোকানের বেঞ্চে বসে অফুরন্ত গল্প। তথ্যের প্রধান উৎস ছিল সংবাদপত্র এবং রেডিও-টেলিভিশন। সে সময় তারুণ্যের মধ্যে একটা ‘সামষ্টিক চেতনা’ কাজ করত। সবাই মিলে কোনো কাজ করা, পাড়ার বড় ভাইদের শ্রদ্ধা করা এবং একান্নবর্তী পরিবারের মূল্যবোধ ছিল তাদের চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিঠিপত্র আদান-প্রদান আর বিটিভির সাপ্তাহিক নাটকের অপেক্ষায় কাটত তাদের রঙিন প্রহর।

ডিজিটাল বিপ্লব ও নতুন জীবনধারা
বর্তমান প্রজন্মের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রযুক্তি। এখনকার তরুণদের জীবন শুরু হয় স্মার্টফোনের অ্যালার্মে এবং শেষ হয় স্ক্রল করতে করতে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা তাদের পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। এখন আড্ডা মানে কেবল সশরীরে উপস্থিতি নয়, বরং ডিসকর্ড সার্ভার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গভীর রাত পর্যন্ত কল। আগের প্রজন্মের মতো তারা কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; তারা এখন বৈশ্বিক নাগরিক। তাদের জীবনধারা অনেক বেশি গতিশীল এবং কিছুটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক। নিজের ক্যারিয়ার, শখ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।

খাদ্যাভ্যাস: জিভে যখন বিশ্বসেরা স্বাদ
আগের প্রজন্মের প্রিয় খাবার ছিল মায়ের হাতের খিচুড়ি বা বিকেলের মুড়ি মাখা। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। ঘরোয়া খাবারের চেয়ে এখনকার তরুণরা ‘কন্টিনেন্টাল’ বা ‘ফিউশন’ ফুড বেশি পছন্দ করেন।
ফাস্ট ফুড ও ক্যাফে সংস্কৃতি: পিৎজা, বার্গার, মোমো কিংবা পেরি-পেরি চিকেন এখন তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায়।
কফি প্রেম: চায়ের কাপের জায়গা দখল করে নিয়েছে কোল্ড কফি বা ক্যাপুচিনো। বিভিন্ন থিম-ভিত্তিক ক্যাফে এখন তরুণদের প্রধান মিলনস্থল।
স্বাস্থ্য সচেতনতা: মজার বিষয় হলো, একদল তরুণ যেমন জাঙ্ক ফুডে অভ্যস্ত, অন্যদল আবার ভীষণ স্বাস্থ্যসচেতন। ডায়েট চার্ট মেনে চলা, ওটস বা সালাদ খাওয়া এবং জিম কালচার বর্তমান প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কাজের দুনিয়া
কাজের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্ম অনেক বেশি সাহসী। কেবল বিসিএস বা ব্যাংক জব নয়, তারা এখন নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জনের পথ খুঁজছে।
ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ: ঘরে বসে বিদেশের কোম্পানির কাজ করা বা নিজেই ছোটখাটো উদ্যোগ শুরু করা এখনকার তরুণদের বড় অংশ বেছে নিচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েশন: ইউটিউব বা টিকটকের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করা এখন কেবল শখ নয়, একটি লাভজনক পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
মাল্টি-টাস্কিং: তারা একই সঙ্গে পড়াশোনা করছে, আবার পার্ট-টাইম কাজ বা ভলান্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে।

কী দেখে আর কী পড়ে বর্তমান প্রজন্ম?
বিনোদনের সংজ্ঞাই বদলে গেছে গত এক দশকে। টেলিভিশন এখন ড্রয়িংরুমের শো-পিস ছাড়া আর কিছুই নয়। ওটিটি ও স্ট্রিমিং যেমন নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম বা ইউটিউব হলো তাদের প্রধান বিনোদনের উৎস। তারা এখন হলিউড বা বলিউডের পাশাপাশি কোরিয়ান ড্রামা বা তুর্কি সিরিজ গোগ্রাসে গিলছে। অন্যদিকে গেমিং জগতেও তাদের অবাধ আনাগোনা। পাবজি, ফিফা বা ভ্যালোরেন্টের মতো অনলাইন গেমগুলো তাদের অবসর সময়ের বড় অংশ দখল করে আছে।
বই পড়ার অভ্যাস কমেছে— এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে মাধ্যম বদলেছে। কাগুজে বইয়ের চেয়ে তারা কিউবে (Kindle) বই পড়া বা অডিও বুক শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। থ্রিলার, ফ্যান্টাসি এবং সেলফ-হেল্প বা মোটিভেশনাল বই এখনকার তরুণদের প্রথম পছন্দ।

সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবনা
বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতি নিয়ে অনীহা থাকলেও সামাজিক ইস্যুতে তারা দারুণ সোচ্চার। জলবায়ু পরিবর্তন, নারী অধিকার কিংবা কোটা সংস্কারের মতো ইস্যুতে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। তারা কোনো কিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না; বরং যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চায়। তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে তারা আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ এবং সচেতন।

এই পরিবর্তন ভালো না মন্দ?
যেকোনো বড় পরিবর্তনেরই দুটি দিক থাকে। বর্তমান প্রজন্মের এই বদলে যাওয়াও তার ব্যতিক্রম নয়।
ইতিবাচক দিক: এখনকার তরুণরা অনেক বেশি দক্ষ, প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন এবং সাহসী। তারা বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রমাণ করছে। তারা কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং অভিযোজন ক্ষমতা তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
নেতিবাচক দিক: অত্যধিক স্ক্রিন টাইম তরুণদের মধ্যে একাকিত্ব এবং বিষণ্নতা বাড়াচ্ছে। তাদের ধৈর্য কিছুটা কমেছে। সবকিছু তারা দ্রুত বা ‘ইনস্ট্যান্ট’ পেতে চায়। পারিবারিক বন্ধন আগের চেয়ে কিছুটা আলগা হয়ে পড়েছে এবং কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে তাদের নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি প্রজন্মই তার নিজস্ব সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে। আগের প্রজন্মের মতো আবেগ আর এখনকার প্রজন্মের মতো বুদ্ধিমত্তা— এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম মেধাবী; তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিলে তারাই বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পরিবর্তন অনিবার্য, কিন্তু সেই পরিবর্তনের মাঝেও আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আর মানবিক মূল্যবোধগুলো টিকিয়ে রাখাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। তারুণ্যের জয়গান তখনই সার্থক হবে, যখন প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর হৃদয়ের আবেগ হাত ধরাধরি করে চলবে।

ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা
ছবি: এআই

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উৎসব। তবে সময় বদলেছে। বদলে গেছে এই উৎসব উদযাপনের ধরন। একটা সময় ছিল, যখন বিশ্বকাপ মানেই পাড়ার মোড়ে বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা। কিংবা ড্রয়িংরুমে পরিবারের সবাই মিলে টিভির সামনে অধীর আগ্রহে বসে পড়া। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিশ্বকাপ দেখার সেই চেনা ছবি অনেকটাই বদলে গেছে।

এখন তাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে খেলা দেখার মূল মাধ্যম। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে তরুণ প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এসেছে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা। তারা এখন শুধু সাধারণ দর্শক হিসেবে বসে থাকতে রাজি নন। তারা এখন এই বিশাল আয়োজনের সক্রিয় অংশীদার। স্ক্রিন ছোট হলেও তাদের অভিজ্ঞতার পরিধি এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পরিবর্তনকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করেছে। এখন খেলা চলাকালীন মাঠের উত্তেজনার চেয়ে অনলাইনের উত্তেজনা কোনো অংশে কম থাকে না। তরুণরা খেলা দেখার পাশাপাশি মেতে ওঠেন সরাসরি আলোচনায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা এক্সে প্রতি মুহূর্তের খেলার আপডেট শেয়ার করা হয়। কোনো দল দারুণ গোল করলে বা সহজ সুযোগ মিস করলে সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য মিম। মজার সব ট্রল আর হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে নেট দুনিয়ায়। আগের দিনের মতো চায়ের দোকানের আড্ডা বা রাস্তার মোড়ের আলোচনা এখন স্থানান্তরিত হয়েছে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও পেজে। সেখানে যুক্তির কঠিন লড়াই চলে। চলে আগের ম্যাচের পরিসংখ্যান নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক।

শুধু খেলা দেখা আর ভার্চুয়াল আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই প্রজন্মের তরুণরা। তারা ব্যাপকভাবে যুক্ত হচ্ছেন ই-স্পোর্টস এবং ফ্যান্টাসি লিগে। ফিফা বা ই-ফুটবলের মতো গেমগুলো তাদের এই উন্মাদনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মূল খেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই তারা ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের প্রিয় দলের হয়ে খেলতে শুরু করেন। ফ্যান্টাসি লিগগুলোর কারণে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেখানে তারা নিজেদের পছন্দমতো দল গঠন করেন এবং ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাস্তব মাঠের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তারা ফ্যান্টাসি পয়েন্ট পান। বন্ধুদের সঙ্গে প্রাইভেট লিগ তৈরি করে পয়েন্টের প্রতিযোগিতা করেন। ফলে যে দলগুলোর খেলা হয়তো তারা আগে দেখতেন না, ফ্যান্টাসি লিগে পয়েন্ট পাওয়ার আশায় সেই ম্যাচগুলোও তারা প্রবল আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন।

ভৌগোলিক সীমানাও এখন আর একসঙ্গে খেলা দেখার পথে কোনো বাধা নয়। প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বন্ধুরা এখন সহজে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন। লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখার পাশাপাশি তারা ডিসকর্ড, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ কল চালু রাখেন। ভার্চুয়াল ওয়াচ পার্টির মাধ্যমে সবাই মিলে একযোগে খেলা দেখেন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মনে হয় যেন সবাই একই ঘরে বসে খেলা দেখছেন। কোনো একটি দারুণ শট, দুর্দান্ত সেভ বা বিতর্কিত ফাউল নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মধ্যে মতামত আদান-প্রদান করেন। নিজের ঘরে একা বসে খেলা দেখলেও অনলাইনের এই বিশাল কমিউনিটির কারণে তরুণরা কখনোই একাকিত্ব অনুভব করেন না।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তরুণদের কাছে বিশ্বকাপ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের বিনোদন নয়, বরং এটি একটি সার্বক্ষণিক ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা। স্মার্টফোন এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট তাদের এই অসাধারণ সুযোগ করে দিয়েছে। আগে যেখানে দর্শকরা শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবে খেলা উপভোগ করতেন, এখন তারা সেখানে সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। নিজেদের মতো করে কনটেন্ট তৈরি করছেন। একই সঙ্গে সারা বিশ্বের লাখো মানুষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। খেলার মাঠের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বকাপ এখন ডিজিটাল দুনিয়ার বিশাল আঙিনায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত ডিজিটাল অংশগ্রহণ বিশ্বকাপ ফুটবলকে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং সর্বজনীন করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোয় প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের এই বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতায় যে আরও নতুনত্ব আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার
বাম দিক থেকে  আর্লিং হলান্ড, লামিনে ইয়ামাল ও নিকো পাজ।

বিশ্ব ফুটবলে এখন তরুণদের জয়জয়কার। মাত্র ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সে অনেক ফুটবলার বিশ্বজুড়ে তুমুল পরিচিতি পাচ্ছেন। কৈশোর পার না হতেই তারা নাম লেখাচ্ছেন ইউরোপের নামি সব ক্লাবে। তাদের সঙ্গে হচ্ছে কোটি কোটি ইউরো বা ডলারের চুক্তি। মাঠের দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে তারা জয় করছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। এমন তিন ফুটবলার হচ্ছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও আর্জেন্টিনার নিকো পাজ। 

কিন্তু এই চোখধাঁধানো সাফল্যের আড়ালে রয়েছে এক কঠিন মানসিক যুদ্ধ। অল্প বয়সে বিশাল খ্যাতি আর আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হচ্ছে এই তরুণদের। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দেশের হয়ে খেলার মানসিক চাপ তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

একটি বড় চুক্তির পর একজন তরুণ খেলোয়াড়ের জীবন রাতারাতি বদলে যায়। সাধারণ জীবন থেকে তারা সরাসরি চলে আসেন সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার আলোয়। প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য তাদের ওপর প্রবল চাপ থাকে। ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। সামান্য ভুলের জন্য নানারকম ট্রল এবং কটূক্তির শিকার হতে হয় তাদের। এই অল্প বয়সে এমন কঠোর সমালোচনা সামলানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। অনেক সময় একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে একজন তরুণ ফুটবলারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খলনায়ক বানিয়ে দেওয়া হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাদের স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত হানে।

ক্রীড়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় অকালে ঝরে পড়েন। মাঠের শারীরিক লড়াইয়ের চেয়েও তাদের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা অনেক বেশি জটিল হয়। বিষণ্নতা, একাকিত্ব এবং পারফরম্যান্সের দুশ্চিন্তা তাদের স্বাভাবিক খেলার ছন্দ নষ্ট করে। বড় টুর্নামেন্টে পেনাল্টি মিস করা বা চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয় তাদের তাড়া করে বেড়ায়। এই বয়সে যখন তাদের সমবয়সীরা পড়াশোনা বা সাধারণ জীবন উপভোগ করে, তখন এই ফুটবলারদের কাঁধে থাকে ক্লাবের সাফল্য ও দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের গুরুদায়িত্ব।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক ফুটবল বিশ্ব এখন মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রায় প্রতিটি বড় ক্লাবে এখন স্থায়ীভাবে পেশাদার ক্রীড়া মনোবিদ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষজ্ঞরা তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ মোকাবিলার বৈজ্ঞানিক কৌশলগুলো শেখান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক সমালোচনা কীভাবে উপেক্ষা করতে হয় এবং মাঠে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সেই বিষয়ে তাদের নিয়মিত থেরাপি ও কাউন্সিলিং করা হয়। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রাও তরুণদের আগলে রাখেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাদের মানসিকভাবে চাঙা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেন।

তবে ক্লাবের পেশাদার সহায়তার চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করে খেলোয়াড়ের নিজস্ব পরিবার। কোটি টাকার চুক্তি আর প্রচারমাধ্যমের আলোর মাঝে পরিবার তরুণ ফুটবলারদের স্বাভাবিক মাটিতে পা দিয়ে চলতে সাহায্য করে। মাঠের বাইরের সাধারণ পারিবারিক পরিবেশ তাদের বড় ধরনের মানসিক শান্তি দেয়। পরিবারের সদস্যরা তাদের এমন একটি আবেগের জায়গা তৈরি করে দেন, যেখানে ফুটবল নিয়ে কোনো মানসিক চাপ থাকে না। এটি তাদের দীর্ঘদিনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ে পরিবারের নিঃশর্ত সমর্থন ও ভালোবাসা একজন তরুণ খেলোয়াড়কে দ্রুত মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে মূল শক্তি জোগায়।

টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার হয়ে ওঠার এই পথটি মোটেও মসৃণ নয়। এটি কেবল শারীরিক দক্ষতার পরীক্ষা নয়, বরং মানসিক দায়িত্বের এক বড় পরীক্ষা। আধুনিক ফুটবলে শুধু পায়ে ফুটবল জাদু থাকলে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা যায় না, বরং তীব্র স্নায়ুচাপ ধরে রাখার ক্ষমতাও থাকতে হয়। ক্লাব ও পরিবারের সমন্বিত মানসিক সহায়তাই পারে একজন তরুণ প্রতিভাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্বমঞ্চের মহাতারকা বানিয়ে রাখতে। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি এই ক্রমবর্ধমান সচেতনতা ফুটবলকে আরও মানবিক করে তুলছে। তরুণদের এই ভেতরের লড়াইয়ের গল্পই আধুনিক ফুটবলের এক নতুন বাস্তব চিত্র।

/আবরার জাহিন

ফুটবল যখন ক্যারিয়ার ও স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ফুটবল যখন ক্যারিয়ার ও স্বপ্ন
ছবি: সংগৃহীত


বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর কিংবা ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের রোমাঞ্চ সবকিছুই বিশ্বজুড়ে তরুণদের দারুণভাবে আলোড়িত করে। মাঠের সেই গতি, নিখুঁত কৌশল আর গ্যালারির উন্মাদনা তরুণদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তবে আধুনিক যুগে ফুটবল শুধু মাঠের বিনোদন বা নিছক শখের খেলা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফুটবল এখন একটি আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পেশা। বিশ্বমঞ্চের তারকাদের অভাবনীয় সাফল্য দেখে বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বের তরুণরা ফুটবলকে জীবন গড়ার মূল মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে এই খেলার পেশাদার রূপ তরুণদের নতুন পথ দেখাচ্ছে।

বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চগুলো তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখতে শেখায়। কিলিয়ান এমবাপ্পে বা লামিন ইয়ামালের মতো তরুণদের অল্প বয়সে বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে দেখে সাধারণ কিশোররাও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়। আধুনিক ফুটবলে পেশাদারত্ব এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। একটি নামি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি কিংবা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া একজন ফুটবলারের জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। এই পেশায় যেমন রয়েছে বিশ্বব্যাপী বিপুল খ্যাতি, তেমন রয়েছে উন্নত জীবনযাত্রার টেকসই নিশ্চয়তা। ফলে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের নানা সুবিধা নিয়ে তরুণরা শৈশব থেকে নিজেদের দক্ষ পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার নিয়মতান্ত্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই উন্নয়নশীল চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। একসময় এ দেশে ফুটবলকে শুধু বিকেলবেলার বিনোদন বা শখ মনে করা হতো। কিন্তু এখন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন নিয়ে অনেক তরুণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আসছে। দেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগগুলোর মান ও পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং বিভিন্ন করপোরেট লিগের প্রসারের কারণে ফুটবলারদের নিয়মিত আয়ের একটি ভালো পথ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ তরুণেরা এখন ফুটবলকে দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে ভাবার সাহস পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের নারী ফুটবলারদের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক জয় তরুণদের মনে নতুন আশার আলো জুগিয়েছে।

এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও তরুণরা আধুনিক ফুটবল একাডেমিতে যোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নিজস্ব একাডেমি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে চমৎকার ফুটবল একাডেমি গড়ে উঠছে। এসব একাডেমিতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তরুণ ফুটবলাররা প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মাঠের প্রশিক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। অভিভাবকরা এখন আর ফুটবল খেলাকে কেবল সময় নষ্ট মনে করছেন না। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার সন্তানের ফুটবলার হওয়ার এই বৈশ্বিক স্বপ্নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে এবং তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

অবশ্য পেশা হিসেবে ফুটবলকে বেছে নেওয়ার এই পথটি মোটেও সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর শারীরিক পরিশ্রম, কড়া নিয়মানুবর্তিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুশৃঙ্খল অনুশীলন। প্রতিটি সফল ফুটবলারকে কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই সঙ্গে রয়েছে গুরুতর ইনজুরির বড় ধরনের ঝুঁকি। একটিমাত্র বড় চোট পুরো ক্যারিয়ার সাময়িকভাবে বা চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখেই এ যুগের তরুণরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বোঝে যে, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা করতে হলে কেবল সহজাত প্রতিভা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আধুনিক পেশাদার মানসিকতা। সঠিক সময়ে সঠিক নির্দেশনা পেলে এই তরুণরা আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হতে পারে।

ফুটবল এখন শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি একটি বিশাল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শিল্প। বিশ্বমঞ্চের উত্তেজনা তরুণদের মনে যে তীব্র প্রেরণা জোগায়, তা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। মাঠের সবুজ ঘাসে বল পায়ে দৌড়ানোর স্বপ্ন এখন জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠছে। দেশের সামগ্রিক পেশাদার ফুটবল কাঠামোর আরও উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণ প্রজন্ম ফুটবলকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্বপ্ন আর ক্যারিয়ারের এই চমৎকার মেলবন্ধন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ও উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল সারা বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে এক অনন্য আয়োজন। তবে এই আয়োজনকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যরকম উদ্দীপনা কাজ করে। খেলাধুলা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আর সেই খেলা যদি হয় ফুটবল, তবে আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। চার বছর পরপর আসা এই আসরকে তরুণরা নিজেদের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে উদযাপন করেন। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এই সময় এক আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না। এ দেশের তরুণদের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক উৎসব।

বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই তরুণদের মাঝে প্রস্তুতির আমেজ লক্ষ করা যায়। প্রিয় দলের জার্সি কেনা থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় পতাকা উড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, সবখানে ফুটবলের আলোচনা প্রাধান্য পায়। চায়ের দোকানগুলোয় প্রতিদিন বিকেলে ও সন্ধ্যায় প্রিয় দলের শক্তিমত্তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তরুণরা নিজেদের দলের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। কে সেরা খেলোয়াড়, কোন দলের রক্ষণভাগ সবচেয়ে শক্তিশালী, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। এই বিতর্ক কখনো কখনো মজার ছলে হয়, আবার কখনো বেশ সিরিয়াস রূপ নেয়। তবে দিন শেষে সবাই খেলার আনন্দ উপভোগ করেন।

একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তরুণরা দলবেঁধে খেলা দেখার জন্য নানা পরিকল্পনা করেন। বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। ক্লাবের মাঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অথবা পাড়ার কোনো খোলা জায়গায় প্রজেক্টর বসানো হয়। গভীর রাতে যখন খেলা চলে, তখনো তরুণদের চোখে ঘুম থাকে না। প্রিয় দল গোল করলে উল্লাসে ফেটে পড়ে চারপাশ। আবার দল হেরে গেলে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। এই হাসি, কান্না আর উত্তেজনার মধ্য দিয়েই তরুণরা এক মাস পার করে। খেলা দেখার এই সময়টুকু তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে তরুণদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনও দেখা যায়। খেলার সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বৃদ্ধি পায়। তরুণরা নিজেদের দলের জার্সি, স্কার্ফ, ব্যান্ড কিংবা অন্যান্য সামগ্রী কিনতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। স্থানীয় দর্জিরা বিভিন্ন দেশের পতাকা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করেন। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তরুণদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া খেলা উপলক্ষে তরুণরা বিভিন্ন দাতব্য কাজেও অংশ নেয়। অনেক সময় তারা প্রিয় দলের বিজয়ে আনন্দ মিছিল করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ তরুণদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। এই খেলার মাধ্যমে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, তাদের সংস্কৃতি ও মানুষ সম্পর্কে জানতে পারেন। যেসব দেশের নাম তারা আগে কখনো শোনেননি, ফুটবলের সুবাদে সেসব দেশের অবস্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা তৈরি হয়। খেলোয়াড়দের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তারা বুঝতে শেখে যে, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া ফুটবলের মাঠে বর্ণবাদবিরোধী ও শান্তির বার্তা তরুণদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে শেখে এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল তরুণদের জন্য এক মহামিলনমেলা। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর করতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনা বা কাজের চাপের মাঝে এক মাসের এই উৎসব তাদের নতুন করে বাঁচার আনন্দ দেয়। জয় বা পরাজয় ছাপিয়ে খেলার মূল চেতনা তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। হার জিত থাকবেই, তবে খেলায় অংশগ্রহণ ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সবচেয়ে বড় কথা। তরুণরা এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এক বিশাল উৎসব। এই উৎসবের রেশ তাদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট
মানসিক ফিটনেস মানে, জীবনের সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা।

শারীরিক সুস্থতা নিয়ে আমরা যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঠিক ততটাই উদাসীন। জিম করা, ডায়েট চার্ট মেনে চলা কিংবা ওজন মাপা–শরীরের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য কত উপায়ই না আমরা খুঁজি। কিন্তু আমাদের মনটা কতটা ফিট বা সুস্থ আছে, তার খবর কি আমরা রাখি? বিশেষ করে আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে তরুণ প্রজন্মের ওপর পড়ালেখা, ক্যারিয়ার আর সামাজিক মাধ্যমের এক অদৃশ্য চাপ প্রতিনিয়ত কাজ করে। শরীর ভালো না থাকলে যেমন জ্বর বা ব্যথা হয়, মনের অসুস্থতারও কিছু লক্ষণ থাকে। কিন্তু আপনি যে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ বা ‘মেন্টালি ফিট’, তা বুঝবেন কী করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু লক্ষণ, যা দেখে বুঝবেন আপনার মন দারুণ ফর্মে আছে। 


আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা

মেন্টালি ফিট থাকার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো নিজের আবেগকে বুঝতে পারা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। জীবনে উত্থান-পতন আসবেই, কখনো রাগ বা মন খারাপ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মানসিকভাবে ফিট তরুণ এই আবেগগুলোর কাছে হেরে যান না। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে তারা শান্ত মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন। যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তন বা প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা রেজিলিয়েন্স তাদের মধ্যে চমৎকার থাকে।

 

মানসিকভাবে সুস্থ মানুষরা নিজের মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি চেনেন।

 

নিজের যত্ন নেওয়া এবং ‘না’ বলতে পারা

অনেকেই ভাবেন সবার সব আবদার পূরণ করাই হয়তো সুস্থতা। আসলে তা নয়। মানসিকভাবে সুস্থ মানুষরা নিজের মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি চেনেন। নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা বিশ্রামের ক্ষতি করে অন্যের সব আবদারে সায় দেওয়া মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। যখন আপনি নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনম্রভাবে কোনো কিছুতে ‘না’ বলতে পারবেন, তখন বুঝবেন আপনি মানসিকভাবে বেশ পরিপক্ব ও ফিট।

সমালোচনা গ্রহণ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

আপনার চারপাশের সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না, এটাই বাস্তব। একজন মেন্টালি ফিট মানুষ অন্যের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেন এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করেন। আবার কেউ হিংসাবশত কটূক্তি করলে তা নিয়ে সারা দিন মন খারাপ করে বসে থাকেন না। তারা বোঝেন, অন্যের মতামত তাদের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে না। জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা আশার আলো খোঁজেন এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।

গভীর ঘুম ও বর্তমান মুহূর্তে বাঁচা

মানসিক ফিটনেসের একটি বড় প্রমাণ লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের ঘুমে। যদি বিছানায় যাওয়ার পর সারা দিনের দুশ্চিন্তা বা ভবিষ্যতের ভয় আপনার মাথা থেকে দূরে থাকে এবং আপনি একটি শান্তির গভীর ঘুম দিতে পারেন, তবে আপনার মন অনেকটাই সুস্থ। তা ছাড়া, অতীত নিয়ে আফসোস আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত প্যানিক না করে বর্তমান মুহূর্তটাকে যারা উপভোগ করতে পারেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সাধারণত খুব ভালো থাকে।


মনে রাখবেন, মানসিক ফিটনেস মানে এই নয় যে আপনার জীবনে কোনো সমস্যা থাকবে না কিংবা আপনি কখনো কাঁদবেন না। এর আসল অর্থ হলো, জীবনের সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। শরীর যেমন যত্ন না নিলে অসুস্থ হয়, মনের ক্ষেত্রেও তাই। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন, নিজের পছন্দের কাজ করুন এবং নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখুন। আপনার মন যদি ফিট থাকে, তবে পুরো পৃথিবী জয় করার আত্মবিশ্বাস আপনি নিজের ভেতরেই খুঁজে পাবেন।