ছুটি রিসোর্ট, গাজীপুর
গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গ্রামীণ ধাঁচে তৈরি করা প্রায় ৫০ বিঘার ওপর নির্মিত এই রিসোর্টটিতে রয়েছে মাছ ধরার ব্যবস্থা, সবজি-ফলের বাগান, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, পিকনিক করার জায়গা, পাখির ডাক, কিডস জোনসহ আরও অনেক কিছু।
ছুটি গ্রুপের ম্যানেজার আহসান কাদের মুন্সী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই রিসোর্টে সকালে নাশতা এবং দুপুরে থাকে বাংলা, ইন্ডিয়ান, চায়নিজ, থাইসহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন’।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের অফার দেওয়া হয়। যেমন পূজা উপলক্ষে এখন চলছে একরাত থাকলে আরেক রাত ফ্রি’।
ছুটি রিসোর্টে এক দিনের জন্য খরচ হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। কনফারেন্স রুম ভাড়া ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। ১০০-২০০ জনের পিকনিকের জন্য খরচ শুরু হয় ৯০ হাজার টাকা থেকে।
ছুটি রিসোর্ট, কক্সবাজার
ছুটি রিসোর্টের ম্যানেজার আহসান কাদের মুন্সি তাদের আরেক রিসোর্টের বর্ণনা দিয়ে বলেন, এখানে নানা অফার থাকে। এই রিসোর্টের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রুমটির নাম রয়্যাল স্যুট।
এখানের রুম ভাড়া ২৪ ঘণ্টার (এক দিন ও রাত) জন্য ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। রয়্যাল স্যুট ১৭ হাজার টাকা। কনফারেন্স রুম ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। পিকনিকের জন্য ২০০ জনের ভাড়া ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়।
এই দুই রিসোর্টেই আছে ডে আউট প্যাকেজ। সর্বনিম্ন ৭ থেকে ৮ জনের জন্য ডে আউট প্যাকেজ হয়। এই প্যাকেজের মধ্যে আছে সকালে নাস্তা, দুপুরে খাবার, দেশীয় পিঠা, বিশ্রামের জন্য এসি রুমসহ আরও সুযোগ সুবিধা। এক্ষেত্রে জনপ্রতি গুনতে হবে ২,৫৩০ টাকা। এই প্যাকেজ নিতে চাইলে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে।
সীগাল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ভিলেজ, টাঙ্গাইল
রিসোর্টের সেলস ম্যানেজার রেদওয়ান কবির জানান, ‘এই রিসোর্টে সুইমিং পুল, স্পা সেন্টার, কিডস প্লে জোনের সুব্যবস্থা রয়েছে। ৪৮টি সুপার ডিলাক্স রুম নিয়ে পরিচালিত টাঙ্গাইলের সখীপুর এলাকায় সীগাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের অবস্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা কটেজ রয়েছে। প্রাইভেট সুইমিং পুল আছে। হরেক রকম বাংলা খাবার, চাইনিজ, আমেরিকান কুজিনসহ দেশ-বিদেশের খাবার রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে স্পা সেন্টার, খেলার জায়গা, কনফারেন্স রুমের ব্যবস্থা।
সীপার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, কক্সবাজার
জালিয়াপালং, ইনানী, উখিয়া, কক্সবাজারে অবস্থিত এই পাঁচ তারকা রিসোর্টটিতে রুমের মান ভেদে ভাড়া এক দিন-রাত ১৮ হাজার থেকে ২৭ হাজার টাকা।
অন্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের বার, কফি শপ, সুইমিং পুল, শিশু গ্রাউন্ড, ওয়াটার পার্ক, টেনিস, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, থ্রিডি মুভি হল, বিলিয়ার্ড, ব্যায়ামাগার এবং স্পা। আউটডোরে আছে প্যারাসেইলিং, স্নোরকেলিং, ডিপ সি ফিশিং ও স্পিডবোট রাইড। ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা, দুটি সেমিনার কক্ষ ও বিশাল বলরুম রয়েছে সম্মেলন ও উৎসব আয়োজনের জন্য।
বিশেষ আকর্ষণ এই রিসোর্টের ভাড়া করা সমুদ্রসৈকত, যেখানে রিসোর্টে থাকা পর্যটকরা ঘুরতে পারেন।। হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়া নগর ও বার্মিজ মার্কেটের মতো পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় স্থানগুলো রিসোর্টের কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে যেকোনো ধরনের আয়োজনে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, গালা নাইট, ফ্যাশন শো আয়োজনের সুযোগ আছে।
মেঘকাব্য হিলটপ কটেজ, সাজেক
মেঘপাহাড়ের স্বর্গরাজ্যের শহর চট্টগ্রামের সাজেক ভ্যালি। কটেজটি যেন পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের রাজ্যে থাকা এক টুকরো আশ্রয়স্থল, শান্তির নীড়। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় এক অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এই কটেজ। ২১ ধরনের পাহাড়ি গাছের কাঠের তৈরি সাজেকের প্রথম শ্রেণির নান্দনিক কটেজ মেঘকাব্য।
মেঘকাব্যের সেলস ম্যানেজার সজিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি দাবি করছি এই রিসোর্টটি অন্যগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম। এখানে রুম ভাড়া ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। চাহিদা বেশি থাকলে রুম ভেদে বা কটেজ ভাড়া বাড়ে।
বালিশিরা রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গলের মৌলভীবাজারে চা বাগান এলাকার কাছাকাছি এই রিসোর্ট। এখানে ভিলা এবং কটেজ রয়েছে। বালিশিরা রিসোর্টের ম্যানেজার খবরের কাগজকে বলে, ‘এটি প্রকৃতি-বান্ধব বিলাসবহুল একটি রিসোর্ট। আমাদের ভিলা এবং কটেজগুলোতে থাকলে সহজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এই কক্ষগুলোর ঠিক পেছনে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক জলধারা।’
এখানে এয়ার কন্ডিশন্ড রেস্তোরাঁ ও সুইমিং পুল, বিনামূল্যে ওয়াইফাই, শিশুদের বিনোদন এবং পারিবারিক আনন্দের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে।
এখানকার আরেক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বালিশিরা রিসোর্টে বেড়াতে এলে মানসিক শান্তি পাবেন। পারিবারিক ছুটি কাটাতে এবং কর্পোরেট সমাবেশের জন্য রিসোর্টটি চমৎকার। এই রিসোর্টের রুম ভেদে ভাড়া শুরু হয় ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতি সিজন অনুযায়ী নানা রকম অফার চলে। যেমন ‘ওইন্টার অফার’ এ শতকরা ২৫ বা তারও বেশি ছাড় থাকে। ঈদ, পূজা, ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে থাকে নানা আয়োজন, অফার।’
সায়মন বিচ রিসোর্ট, কলাতলী
কলাতলি সৈকতের কাছে অবস্থিত এই রিসোর্ট। ২০১৫ সাল থেকে এর যাত্রা। এখানে সুইমিং পুল, ওপেন সী বিচ ভিউ, থাই-স্টাইল স্পা, পুলসাইড জিম, শিশুদের জন্য কিডস জোন আছে। ইভেন্ট ও মিটিং স্পেস রয়েছে এখানে। বড় পার্টি বা সম্মেলন আয়োজনের জন্য মাল্টিফাংশন হল, মারিনা হল ও বলরুম আছে। এখানে থাকতে গেলে এক দিনের জন্য ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা বা আরও বেশি খরচ হবে।
আরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব, লোহাগড়া
অন্যসব রিসোর্টের তুলনায় ভিন্ন রকমের রিসোর্ট এটি। এখানে রয়েছে গলফ কোর্স করার সুযোগ। ৩০টি প্র্যাকটিস সেশন করারও ব্যবস্থা আছে। খেলার জন্য গুনতে হবে সামান্য কিছু খরচ। যারা সদস্য না তারা ৭০০ টাকা, সদস্য ৪০০ টাকায় এ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া অন্য ক্লাবের সদস্যরা ৫০০ টাকা দিয়ে এবং মুক্তিযোদ্ধা সদস্যরা ফ্রিতে খেলতে পারবেন। এখানে থাকতে গেলে রুম ভেদে প্রতিরাতে খরচ হবে আনুমানিক ৮ হাজার ৫০০ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। গলফ খেলা ছাড়াও রয়েছে বোট রাইডিং, হোর্স রাইডিং, পন্ড ফিশিং, কনফারেন্স রুম ইত্যাদি।



