প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চীনের একদল সার্জন জেনেটিকালি পরিবর্তিত একটি শূকরের ফুসফুস মস্তিষ্ক-মৃত এক ব্যক্তির শরীরে বসান। গবেষকদের দাবি, প্রতিস্থাপিত ফুসফুসটি ৯দিন পর্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করেছে।
এটি অঙ্গ ঘাটতি মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—এখনো অনেক গবেষণা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রয়োজনীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। ফলে বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা জোরদার হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাংগোন ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইনস্টিটিউটের ফুসফুস প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ ডা. জাস্টিন চ্যান এই উদ্যোগকে “উত্তেজনাপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক” বলে অভিহিত করেছেন। তবে তার মতে, এটি মাত্র একজন রোগীর শরীরে পরীক্ষা হয়েছে এবং ফুসফুসটি রোগীর জীবন ধারণের জন্য এককভাবে কার্যকর ছিল না।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অ্যান্ড্রু ফিশার বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। তবে এটি কেবল একটি ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি। এখনো অনেক পথ বাকি।”
চীনা গবেষকরা জানান, ছয়টি জিন পরিবর্তন করা একটি শূকরের ফুসফুস ৩৯ বছর বয়সী এক মস্তিষ্ক-মৃত রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রতিস্থাপিত ফুসফুসটি ২১৬ ঘণ্টা টিকে ছিল এবং তীব্র প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে ২৪ ঘণ্টার মাথায় ফুসফুসে তরল জমা ও ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিতে শুরু করে। শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে অ্যান্টিবডি ফুসফুসকে আক্রমণ করে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার ফ্রেন্ড বলেন, মস্তিষ্ক-মৃত রোগীর শরীর স্বাভাবিকভাবেই প্রদাহজনিত অবস্থায় থাকে, তাই পরীক্ষার ফল কিছুটা জটিল হয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, এ ক্ষেত্রে সফল হতে হলে ইমিউনো-সাপ্রেসিভ ওষুধের উন্নতি, জেনেটিক পরিবর্তনের অগ্রগতি এবং অঙ্গ সংরক্ষণের কৌশল আরও পরিশীলিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হলেও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য করতে হলে আরও বহু বছর গবেষণা, উন্নতি এবং পরিশীলনের প্রয়োজন। সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান
মেহেদী/