দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি মাত্র দুই দিন। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভোট চাওয়া নিয়ে। পাশাপাশি বিএনপিসহ অন্যরা ভোট বর্জনের পক্ষে কর্মসূচিও পালন করছে। শেষ সময়ের প্রচারে প্রার্থীরা ঘুরছেন মাঠে-ঘাটে, হাট-বাজারে। এরই ফাঁকে খবরের কাগজ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ফেনী-২ সদর আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফেনী জেলা প্রতিনিধি তোফায়েল আহাম্মদ নিলয়।
খবরের কাগজ: নির্বাচনি প্রচারে ভোটারদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
নিজাম উদ্দির হাজারী: ইতোমধ্যে ফেনী সদরের ১২টি ইউনিয়ন ও ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ ও পথসভা করেছি। মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন, ফেনীতেও তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। সেই উন্নয়ন দেখে মানুষ নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন। প্রত্যাশা করি, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী-পুরুষ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নৌকার প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।
খবরের কাগজ: হলফনামায় আপনার বাগানবাড়ির তথ্য গোপন করেছেন বলে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
নিজাম উদ্দিন হাজারী: আমি থাকার জন্য আমার পৈতৃক সম্পত্তির ওপর একটি বাড়ি করেছি। এটিকে অনেকে ‘বাগানবাড়ি’ বলে, অনেকেই ‘গ্রিনহাউস’ বলে সংবাদ করেছে। এগুলো গণমাধ্যমের কাল্পনিক দেওয়া নাম। খবরের কাগজের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আমাদের পূর্বপুরুষরা অভাবী বা গরিব ছিলাম না। শতবছরের ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী সরকারি পাইলট হাইস্কুল ও সরকারি পাইলট প্রাইমারি স্কুলসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষদের দান করা সম্পত্তির ওপর। সুতরাং আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তির ওপর একটি বাড়ি করেছি, সেটিকে যদি পত্রপত্রিকায় ভিন্নভাবে লেখে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন করিনি। যারা লিখেছে, তারা হলফনামা সঠিকভাবে দেখেনি বলে কাল্পনিকভাবে রটনা রটিয়েছেন।
খবরের কাগজ: বিরোধী দল বিএনপি ছাড়া নির্বাচনি মাঠে ভোটের আমেজ কেমন দেখছেন?
নিজাম উদ্দিন হাজারী: বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদের জন্য ভালো হতো। তবে তারা নির্বাচনে আসেনি বলে মানুষ বসে নেই। মানুষের মধ্যে নির্বাচনের উৎসব তৈরি হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার মানুষের মাঝে নির্বাচনের আমেজ চলছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, শুধু বিএনপি ছাড়া। বিএনপি মানুষ হত্যার রাজনীতি করছে। হরতাল-অবরোধের নামে নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ মানুষের ভালোবাসার জন্য উন্নয়নের রাজনীতি করছে।
খবরের কাগজ: এমপি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে করেন, নাকি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে?
নিজাম উদ্দিন হাজারী: আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগ করেছি। এরপর কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ছিলাম। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ফেনী-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এখনো আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাই এমপির চেয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
খবরের কাগজ: দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন, মানুষের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করেছেন?
নিজাম উদ্দিন হাজারী: দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালীন আমি নিজেকে কখনো সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনে করি না। নিজেকে সব সময় অন্য দশজনের মতো সাধারণ মানুষ মনে করি। আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কল্যাণের জন্য কাজ করতে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ফেনী-২ আসনের যতগুলো অসম্পূর্ণ রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, মসজিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ সব কাজ সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করেছি।
খবরের কাগজ: আগামীতে নির্বাচিত হলে কী কী করবেন?
নিজাম উদ্দিন হাজারী: তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফেনীর মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ দাবি করব। ফেনী শহরের গোডাউন কোয়ার্টারে রেলওয়ে ওভারপাস করব। সেই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপুলে নির্মানাধীন আন্ডারপাস সুন্দরভাবে সম্পন্ন করব। এ ছাড়া অল্প কিছু রাস্তা বাকি রয়েছে, সে রাস্তাগুলোর প্রশস্তকরণ করব। আমি নির্বাচিত হলে শুধু আওয়ামী লীগের এমপি না, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দলের এমপি হতে চাই। সব দলমত ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের উন্নয়নে, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই।