ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের সম্মতি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৪, ০৮:৪০ এএম
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের সম্মতি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় তারা। পাশাপাশি হামাসকে সেটি গ্রহণ করারও তাগিদ দেওয়া হয়। দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মেনে নিলে আট মাস দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।

হামাস অবশ্য আগেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের জনসাধারণের প্রতিরোধ ও দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রয়েছে এমন পরিকল্পনা নীতিকে মেনে নিতে ও তা প্রয়োগে কাজ করতে প্রস্তুত তারা। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা এখনো জানায়নি। নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সমর্থন পাওয়ার একদিন আগেই হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়াহ অভিযোগ করেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের সম্মতির পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের ১৪ জনই ভোট দিয়েছে। আর রাশিয়া ভোটদান থেকে বিরত ছিল। তিন ধাপের ওই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ৩১ মে সামনে নিয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।  

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির পর সেখানে নিযুক্ত মার্কিন দূত লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘আজ আমরা শান্তির জন্য ভোট দিয়েছি।’

নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে স্বাগত জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েল সেটি মেনে নিয়েছে। হামাসকেও মেনে নিতে বলা হয় এবং দুই পক্ষকেই আর দেরি না করে নিঃশর্তভাবে পরিপূর্ণতার সঙ্গে ওই শর্তগুলো প্রয়োগ করতে বলা হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র আরব সদস্য আলজেরিয়া জানায়, তারা চুক্তিটি মেনে নিয়েছে। কারণ তারা মনে করে এটি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অগ্রগতি। জাতিসংঘে নিযুক্ত আলজেরিয়ার দূত আমার বেনজামা বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছুটা আশা নিয়ে এসেছে। সময় হয়েছে যুদ্ধ থামানোর।’

যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির কথা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই সময়টিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলবে। জাতিসংঘের প্রস্তাবেও ওই বিষয়টি উঠে উসেছে। বাড়তি হিসেবে বলা হয়েছে, যদি আলোচনায় ছয় মাসের চেয়ে সময় বেশি লাগে, তা হলে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া ইসরায়েল ঠিক কোন বিষয়টিতে রাজি হয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে জানতে চান। পাশাপাশি তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত হবে না অস্পষ্ট কোনো সমঝোতায় সম্মতি দেওয়া।’ 

নেবেনজিয়া আরও জানান, শুধু আরববিশ্ব যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সমর্থন দেওয়ার কারণে সেটিকে তারা আটকাচ্ছেন না। 

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত গিলার্ড এরদান ভোটের সময় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি। বরং ইসরায়েলি কূটনীতিক রেউট শাপির বেন নাফতালি উপস্থিতদের বলেন, গাজাকে নিয়ে ইসরায়েলের যে লক্ষ্য তা সব সময়ই স্পষ্ট ছিল। ইসরায়েল ওই লক্ষ্যগুলোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ– সব জিম্মিকে মুক্ত করা, হামাসের সামরিক ও শাসন সক্ষমতাকে নির্মূল করা এবং নিশ্চিত করা যে হামাস ইসরায়েলের জন্য ভবিষ্যতে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না। তিনি আরও দাবি করেন, হামাসই এ যুদ্ধ থামাতে দিচ্ছে না। এ জন্য শুধু হামাসই দায়ী।  

নিরাপত্তা পরিষদ এর আগে মার্চ মাসেও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি দাবি করেছিল। সে সময় তারা হামাসের হাতে থাকা সব জিম্মির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছিল।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচারে আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় ৩৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন, যাদের বেশির ভাগ নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ। এ ছাড়া গোটা গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। সব মিলিয়ে গাজায় দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। সূত্র: রয়টার্স

জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে কমলা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে কমলা
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস

জনমত জরিপে এতদিন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। তবে তিনি সরে দাঁড়ানোর পর বোধহয় উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছে হাওয়া। সর্বশেষ এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস।

জনমত জরিপটি করেছে রয়টার্স/ইপসোস। এর ফলাফল বলছে, কমলার প্রতি ৪৪ শতাংশ ও ট্রাম্পের প্রতি ৪২ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার চালানো হয় জরিপটি। গত সোমবার অবশ্য চিত্র ছিল ভিন্ন। সেদিন বিবিসি জানায়, জনমত জরিপে কাছাকাছি অবস্থান করলেও কমলার চেয়ে ট্রাম্প ছিলেন এগিয়ে।

কমলার এভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে। তারা দাবি করেছেন, বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর পর কমলার সামনে আসা এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে খবর প্রচারের জেরেই তার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। আর এ কারণেই জনমত জরিপে কিছুটা এগিয়ে গেছেন তিনি। ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের টনি ফ্যাব্রিজিও বলেন, আগামী কয়েক দিন এ রকম হতে দেখা যাবে এবং কিছুদিন স্থায়ী হবে।

বাইডেন-ট্রাম্পের চেয়ে কমলা যোগ্য

৫৬ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ৫৯ বছর বয়সী কমলা হ্যারিস বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়তে মানসিকভাবে সক্ষম ও দক্ষ। অন্যদিকে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ ভোটার। শুধু ২২ শতাংশ ভোটার ৮১ বছর বয়সী বাইডেনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে বাজে পারফরম্যান্সের পর পরই সমালোচকদের তোপের মুখে পড়েন বাইডেন। সে সময় অনেকেই তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বাইডেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী থাকাকালে ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোটার বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এখন কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিচ্ছেন ৯১ শতাংশ।

বিবিসির খবর বলছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হতে যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছেন কমলা হ্যারিস। শীর্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে কমলাই যে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচারও শুরু করেছেন তিনি। ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যখ্যাত উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে সমাবেশ করেছেন কমলা। সেই সমাবেশেই ট্রাম্পকে একহাত নিয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রার্থী হতে ‘পর্যাপ্ত সমর্থন’ পেয়েছেন কমলা হ্যারিস

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৪ পিএম
প্রার্থী হতে ‘পর্যাপ্ত সমর্থন’ পেয়েছেন কমলা হ্যারিস
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কমলা হ্যারিস। প্রার্থী হওয়ার জন্য যথেষ্ট দলীয় প্রতিনিধিদের সমর্থন তিনি জোগাড় করতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, আগস্টের প্রথম ভাগে ডেমোক্র্যাটদের এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার প্রার্থিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ারে সমর্থকদের উদ্দেশে কমলা হ্যারিস প্রথম বক্তব্য রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও গর্ভপাতবিষয়ক অধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। পাশাপাশি জানান, এ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করতে পারবেন, তবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমর্থন পেয়ে সম্মানিত অনুভব করছেন বলেও উল্লেখ করেন কমলা হ্যারিস।

বক্তব্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাও করেন হ্যারিস। তিনি জানান, ট্রাম্প কট্টর নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনের দিকে নিয়ে যাবেন। ট্রাম্পের ধরন সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার শেষ ভাগে হোয়াইট হাউসে ফেরার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের অনুমান বলছে, কমলা হ্যারিস ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের বেশির ভাগেরই সমর্থন পেয়েছেন। অন্তত ২৭ জন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হ্যারিসকে সমর্থন দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এরই মধ্যে হ্যারিসের সমর্থনে মন্তব্য করেছেন। পেলোসি বলেছেন, ‘নভেম্বরে হ্যারিস ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ 

ধারণা করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিজেদের প্রেসিডেনশিয়াল প্রার্থী ঘোষণা করবে ৭ আগস্ট। তবে ১ আগস্ট ‘ভার্চুয়াল রোল কলের’ মাধ্যমে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হতে পারে। হ্যারিস প্রসঙ্গে মন্তব্য এসেছে ট্রাম্প শিবির থেকেও। ট্রাম্পের রানিং মেট জেডি ভ্যান্স ওহাইয়োতে এক সমাবেশে বলেন, ‘ডেমোক্র্যাট যারা এটি দেখছেন, তাদের উদ্দেশে বলছি- দয়া করে একটি উপায় বের করুন কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করার। আমাকে কথা দেওয়া হয়েছিল যে আমি হ্যারিসের সঙ্গে বিতর্কের সুযোগ পাব এবং আমি সেটি করার পরিকল্পনায় রয়েছি।’

সমর্থকদের উদ্দেশে ভ্যান্স আরও বলেন, ‘ইতিহাস জো বাইডেনকে হাল ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তির পাশাপাশি বাজে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনে রাখবে। তবে বন্ধুরা কমলা হ্যারিস আরও লাখ লাখ গুণ খারাপ এবং সবাই তা জানে।’

কী ভাবছেন ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে হাতে গোনা কয়েকটি ব্যাটলগ্রাউন্ট অঙ্গরাজ্যের ওপর। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিক- দুই দলই ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে জিততে চাইবে। এরকম মোট ছয়টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। সেগুলো হলো- জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসন, নেভাডা ও অ্যারিজোনা। 

এসব অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটারদের মনোভাব আগে থেকে অনুমান করা বেশ কঠিন। যেমন- অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ২০১৬ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে ওই অঙ্গরাজ্যে বিজয়ী হন ডেমোক্র্যাট শিবিরের জো বাইডেন। ২০২৪ সালে সেখানে কোন দলের প্রার্থী জিতবেন, তা বলা মুশকিল। অ্যারিজোনা এরই মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপকভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অ্যারিজোনার সঙ্গে মেক্সিকোর সীমান্ত রয়েছে। অবৈধ অভিবাসী সেখানে অনেক বড় একটি ইস্যু। সেখানকার ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা মনে করছেন, জো বাইডেনের সরে দাঁড়ানোটাই ভালো হয়েছে। নতুন প্রার্থী বিজয়ী হলেও হতে পারেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান সমর্থকরা মনে করছেন, জো বাইডেন থাকুক আর না-ই থাকুক, ট্রাম্পই বিজয়ী হতে চলেছেন।

অ্যারিজোনার ট্রাম্প সমর্থকরা মনে করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন। অপরাধীরা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। ফলে তারই জয়ী হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কমলা হ্যারিসের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিনি তেমন কিছু অতীতে করেননি। হ্যারিস সমর্থকরা আবার বলছেন, একজন নারীর হোয়াইট হাউসে যাওয়া প্রয়োজন। 

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, দুই পক্ষ থেকেই আগামীতে বড় পরিসরে প্রচার চালাতে দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হ্যারিসের প্রচার দল এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে। ২৪ ঘণ্টায় তারা ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার তহবিলও সংগ্রহ করেছে। 

আবারও খান ইউনিসে হামলা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
আবারও খান ইউনিসে হামলা
ছবিটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকের। সে সময়ও ইসরায়েলি হামলার মুখে গাজার দক্ষিণের খান ইউনিস ছাড়তে দেখা গিয়েছিল ফিলিস্তিনিদের। সংগৃহীত

গাজার দক্ষিণের খান ইউনিসে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৭০ জন নিহত ও ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার খান ইউনিস থেকে গাজাবাসীকে সরার নির্দেশ দিয়েছিল। তারা বলেছিল, প্রয়োজনে জোর করে সরানো হবে মানুষকে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, খান ইউনিসকে ‘মানবিক এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেখানে প্রচুর বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয়ও নিয়েছিল। কিন্তু গত সোমবার ইসরায়েল জানায়, খান ইউনিস থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে, রকেট ছোঁড়া হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে গাজার খান ইউনিসে বেশ বড় মাপের অভিযান পরিচালনা করেছিল ইসরায়েল। সে সময় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় গোটা অঞ্চলটিই পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। এক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, সেখানে হামাস পরাজিত হয়েছে। তারা সরে আসে ওই অঞ্চল থেকে।

ইসরায়েলি বাহিনী গত সোমবার নির্দেশনা জারি করার পর বহু মানুষ খান ইউনিস থেকে পালাতে শুরু করে। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, চার লাখ মানুষ ওই অঞ্চলে বসবাস করছিল। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা এর আগেও একবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নতুন করে তাদের বেশির ভাগকেই আবারও বাস্তুচ্যুত হতে হলো। 

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নোটিশ জারি করার কিছুক্ষণ পরেই হতাহতের খবর আসতে শুরু করে। পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করে হাসপাতালও। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মানুষ সরে যাওয়ার জন্য খুব বেশি সময় পায়নি।

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তেও চলছে উত্তেজনা। গত ৯ মাস ধরেই ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। একে অপরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলাও চালাচ্ছে তারা।

লেবাননের দক্ষিণের সীমান্তের বহু শহর ছেড়ে মানুষ অন্যত্র সরে গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজারও মানুষ। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি আক্রমণে শত শত মানুষ মারাও গেছেন।

বিবিসির তথ্যানুসারে, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৯১টি আন্তসীমান্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ হামলাই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী চালিয়েছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চালানো হামলার অনুপাত হবে ৫:২।

লেবানন সীমান্তে বসবাসরত মানুষের ৬০ শতাংশ কোনো না কোনোদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর বলছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের ১ হাজার ৩০টি সরকারি স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে লেবানন। তারা বলছে, তাদের কৃষিভূমি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য ওই পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে।

ইইউ বৈঠক থেকে বাদ হাঙ্গেরি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১০ পিএম
ইইউ বৈঠক থেকে বাদ হাঙ্গেরি
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন ইস্যুতে তোপের মুখে পড়েছে হাঙ্গেরি। সমালোচনার মুখে আয়োজন করতে পারছে না ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৈঠকও। খোদ ইইউ জানিয়ে দিয়েছে, তারা বৈঠক আয়োজনের অনুমোদন দেবে না। গোটা বিষয়টির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান।

গত সপ্তাহেই অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একহাত নেন অরবান। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন জোটটি যুদ্ধে সমর্থন দেয় এমন নীতি অবলম্বন করছে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, আগস্টে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন আর তা হবে না। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের মস্কো সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র। তারই জেরে নেওয়া হলো এ সিদ্ধান্ত।

হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে ‘প্রতীকী ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে হাঙ্গেরি বলছে, এটি সম্পূর্ণ শিশুসুলভ একটি আচরণ।  

কমলা হ্যারিসকে নিয়ে কেন এত আলোচনা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১০ পিএম
কমলা হ্যারিসকে নিয়ে কেন এত আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস

কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গত সাড়ে তিন বছর ধরে। অনেকটা আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একের পর এক ভুল করা, বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্স ও এক পর্যায়ে দলীয় প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে কমলা হ্যারিস এখন চলে এসেছেন সামনে। 

ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণকারী কমলা হ্যারিস ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও ডেমোক্র্যাট দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে চেয়েছিলেন। তবে সেবার তা চলে যায় জো বাইডেনের কাছে। আর জো বাইডেন তাকে করেন রানিং মেট। নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসই হ্যারিসই প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ এশীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট।

হ্যারিস বরাবরই নারী অধিকার ও তাদের গর্ভধারণসংক্রান্ত অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে হ্যারিস মন্তব্য করেছিলেন, ‘আজ আমাদের কন্যাদের তাদের দাদিদের চেয়েও কম অধিকার রয়েছে। এটি স্বাস্থ্যসেবাজনিত সংকট।’

তবে অভিবাসনসংক্রান্ত ইসুতে বিতর্ক কমলা হ্যারিসের পিছু ছাড়েনি। বাইডেন প্রশাসনের আমলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসী আসার ইস্যুটিকে বারবারই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বিরোধী রিপাবলিকান দল। আর প্রায়ই তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। 

তিনি নিজেও নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। যেমন- হ্যারিস একবার অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আসবেন না’। তার এ বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল ব্যাপক।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন হ্যারিস। ট্রাম্প সমাবেশে দাঁড়িয়ে কমলা হ্যারিসকে ‘পাগল’ পর্যন্ত আখ্যা দিয়েছেন।

জনমত জরিপ বলছে, এখনো ট্রাম্পকে ছাড়াতে পারেননি কমলা হ্যারিস। এমনকি বাইডেনের যেটুকু সমর্থন ছিল, তার চেয়েও কিছুটা পেছনে আছেন তিনি। তবে নির্বাচনি দৌড়ে ট্রাম্পের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইতিহাস গড়তে চলেছেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তা হবে আরেক ইতিহাস। 

প্রতিবেদনে বিবিসি আরও জানিয়েছে, বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর পর কমলা হ্যারিস অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দলীয় প্রতিনিধিদের সমর্থন সংগ্রহ করেছেন, জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীদেরও দলে টেনেছেন এবং তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য একজনও মাথাচাড়া দেননি।