ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

পবিত্র হজ আজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাত ময়দান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০৭:০০ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:১১ এএম
পবিত্র হজ আজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাত ময়দান
লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান (হাজি) আজ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র হজ আজ শনিবার। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান (হাজি) আজ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। তাদের মুখে ধ্বনিত হবে তালবিয়া- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ (অর্থ- আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো অংশীদার নেই। আমি হাজির। সব প্রশংসা ও অনুগ্রহ শুধুই তোমার। সব রাজত্ব তোমার।) এই তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল আবেদন জানাবেন তারা।

হজ ভিসা নিয়ে যারা সৌদি আরবে গিয়ে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে। কারণ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ।

আজ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন। আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়েখ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল মুয়াইকিলি। 

মক্কার অদূরে আরাফাতের ময়দানের এই নামিরা মসজিদ থেকেই হজের খুতবা দেওয়া হয়। হজের খুতবা শোনা যাবে বাংলাসহ ৫০ ভাষায়।

চলতি বছর হজের খুতবা বাংলাসহ ৫০ ভাষায় অনুবাদ হবে। মসজিদুল হারাম ও মসজিদুল নববির ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সি গত বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। 

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, আরাফাতের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক বাদশাহ সালমান। 

২০১৮ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে হজের খুতবা পাঁচটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। দেশটির প্রচেষ্টায় এত কম সময়ে প্রকল্পটি ৫০ ভাষায় উন্নীত হলো। এতে বিশ্বব্যাপী সংযম ও ইসলামিক মূল্যবোধের বার্তা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত রবিবার পবিত্র দুই মসজিদের প্রেসিডেন্সি বলেছে, এ বছর হজের খুতবা বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি শ্রোতার কাছে পৌঁছাবে। আরাফাত ময়দানে দেওয়া এ খুতবার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে সম্প্রীতি ও শান্তির বাণী প্রচার করা হবে।

এ বছর হজের আরবি খুতবাটি বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় মানারাতুল হারামাইন ওয়েবসাইট (https://manaratalharamain.gov.sa/) ও তাদের মোবাইল অ্যাপে শোনা যাবে। এ ছাড়া বাংলায় হজের খুতবা শোনা যাবে মানারাতুল হারামাইন ওয়েবসাইট ও তাদের মোবাইল অ্যাপে। ওয়েবসাইট লিঙ্ক হলো: https://manaratalharamain.gov.sa/arafa/arafa_sermon/bn

আজ রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, রবিবার কোরবানি

এর আগে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু শুক্রবার। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইহরামের কাপড় পরে তাঁবুর শহর মিনায় গমন শুরু করেন হাজিরা। মিনায় পৌঁছে হাজিরা শুক্রবার ফজর থেকে এশা, অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন নিজ নিজ তাঁবুতে।

৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। এ দিনের নাম ইয়াওমুল আরাফা। আজ সূর্যোদয়ের পর হাজিদের আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও শুক্রবার রাতেই তাদের নিয়ে যান অনেক মুয়াল্লিম। সেখানে আগে পৌঁছে গিয়ে ফজর, জোহর, আসরের নামাজ আদায় করবেন আরাফাতের ময়দানে।

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা চলে পাঁচ দিন। তার মধ্যে আরাফাতের দিবসকে ধরা হয় মূল হজ হিসেবে। দুপুরে হজের খুতবা শুনবেন তারা। তারপর এক আজানে হবে জোহর ও আসরের নামাজ। সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করে যাত্রা করবেন মুজদালিফার পথে। সেখানে আবার তারা এক আজানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। এ রাতে মুজদালিফায় তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন।

এ সময় তারা মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করবেন জামারায় প্রতীকী শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য। এরপর রবিবার সকালে সূর্যোদয়ের পর জামারায় প্রতীকী বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হজযাত্রীরা। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করবেন। কোরবানি করে মাথা মুণ্ডন করবেন। এহরাম খুলে পরবেন সাধারণ পোশাক। এরপর কাবাঘর তাওয়াফ করবেন। সাফা-মারওয়ায় সাতবার সাঈ (চক্কর) করবেন। পরে আবার ফিরে যাবেন মিনায়। এরপর দিন এবং তারপর দিন, অর্থাৎ টানা দুই দিন দ্বিতীয় ও ছোট শয়তানকে পাথর মারার মধ্য দিয়ে হাজিরা শেষ করবেন হজের আনুষ্ঠানিকতা। সূত্র: আরব নিউজ, সৌদি গেজেট

 

নাইজেরিয়ায় স্কুলের ভবন ধসে নিহত ২২

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৫০ এএম
নাইজেরিয়ায় স্কুলের ভবন ধসে নিহত ২২
ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার মধ্য প্লাটু রাজ্যে একটি স্কুলের ভবন ধসে ২২ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। 

শুক্রবর (১২ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে স্কুলে ক্লাস চলার সময় রাজ্যের রাজধানীর সেন্ট একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকাপড়াদের উদ্ধার করতে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

স্থানীয় পুলিশ সাংবাদিকদের জানান, ভবন ধসে কমপক্ষে ২২ শিশু মারা গেছে। আহতদের অনেককে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্কুলটিতে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।

এখন পর্যন্ত ধসের কারণ জানা যায়নি। তবে বাসিন্দারা বলছেন, তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পর ভবনটি ধসে পড়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ায় বেশ কয়েকটি বড় ভবন ধসে পড়েছে। এর কারণ হিসেবে পর্যবেক্ষকরা দুর্বল কারিগরি ব্যবস্থা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং দুর্নীতিকে দায়ী করছেন।

২০২১ সালে লাগোসে নির্মাণাধীন একটি ভবন ধসে কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হন। সূত্র: বিবিসি

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

আস্থা ভোটে হারলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ড

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৯ এএম
আস্থা ভোটে হারলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ড
পুষ্প কমল দহল প্রচন্ড

পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ড। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) ওই ভোট হয়। এর মধ্য দিয়ে তার ২০ মাস মেয়াদের ক্ষমতার অবসান ঘটল এবং নতুন জোট সরকার গঠনের পথ সুগম হলো।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গত ২০ মাসে চারটি আস্থা ভোটে জিতেছেন দহল (৬৯)। তবে শেষ রক্ষা হলো না। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বড় মিত্র দল ইউনিফাইড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) দহলের পাশ থেকে সরে দাঁড়ায়, তার সরকারের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। 

দহলের সামনে সে সময় পথ খোলা ছিল দুটি- হয় তাকে নিজ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। আর নাহয় পদত্যাগ করতে হবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ২৭৫ সদস্যের পার্লামেন্টে দহলের ভোট প্রয়োজন ছিল অন্তত ১৩৮টি। তবে শুক্রবার দহলের পক্ষে ভোট দেন ৬৩ জন, বিপক্ষে ভোট দেন ১৯৪ জন, আর ভোটদান থেকে বিরত থাকেন একজন। পরবর্তীতে পার্লামেন্ট স্পিকার দেব রাজ ঘিমিরে ব্যালট গণনার পর ফলাফল জানান। সূত্র: রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে ফের বাড়ছে করোনা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৯ এএম
বিশ্বজুড়ে ফের বাড়ছে করোনা
করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা এখনো কাটেনি। আবারও ভয়ংকর রূপে বাড়ছে ভাইরাসটি। বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষের। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর ভয়ংকর রূপ তুলে ধরেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেসিয়াস। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ এখনো সারা বিশ্বে সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আর এই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অতিদ্রুত করোনার টিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ঘেব্রেসিয়াস কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার হার হ্রাসের বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার এই মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ক্রমাগত মৃত্যুর সংখ্যা সামনে আসা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যকর্মী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে টিকা পৌঁছানোর হার হ্রাস পেয়েছে। তারা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শেষ ডোজ নেওয়ার ১২ মাসের মধ্যে আবারও কোভিড-১৯ টিকা নিতে সুপারিশ করছে ডব্লিউএইচও।’সূত্র: এএফপি

আবারও ‘ভুল’ বাইডেনের

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৫ এএম
আবারও ‘ভুল’ বাইডেনের
জো বাইডেন

কিছুতেই যেন শেষরক্ষা করতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রতিনিয়ত আরও জোরালো হচ্ছে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) আরও ডেমোক্র্যাট নেতারা তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বাইডেনের সংবাদ সম্মেলনের একদিন পর এসব তথ্য সামনে এসেছে।

আগে থেকেই পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছিল, বৃহস্পতিবারের (১১ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনটি বাইডেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কিছুই নির্ধারণ করে দেবে এটি। তবে বাইডেন এ সংবাদ সম্মেলনেও গোলমাল করে ফেলেন। অনেক ক্ষেত্রে তাকে দুর্বোধ্য প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় আবার কথা জড়িয়ে যায় তার।

এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন কংগ্রেস ডেমোক্র্যাট তাকে সরে দাঁড়াতে বলেছেন। তারা বাইডেনের স্থানে অন্য কাউকে চান। কিছু ডেমোক্র্যাট বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনের পরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তবে বাইডেন শুরু থেকেই বলে আসছেন, তিনি সরে দাঁড়াবেন না।

এ প্রসঙ্গে বাইডেন বলেছেন, ‘আমি ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে উপস্থিত হওয়ার পর যদি সবাই আমাকে সরে দাঁড়াতে বলে, তাহলে তা হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।… কিন্তু এমন কিছু হবে না।  

সংবাদ সম্মেলনে বড় ধরনের কিছু ভুল করেছেন বাইডেন। আগামীতে এ বিষয়গুলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধিতাকারীদের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অনেকে আবার তার ওপর থেকে সমর্থনও সরিয়ে নিতে পারেন।

ভুলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন’ বলে সম্বোধন করা। ন্যাটো সম্মেলনে বাইডেন এ কাজ করার পর বিস্মিত হন অনেকেই। এর কয়েক ঘণ্টা পর আবারও ভুল করেন বাইডেন। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করতাম না, যদি না তিনি যোগ্য হতেন।’ মূলত কমলা হ্যারিসের নাম নিতে গিয়েই ট্রাম্পের নাম বলে ফেলেন তিনি।

স্বাভাবিকভাবেই গোটা বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ডেমোক্র্যাট শিবিরে। সংবাদ সম্মেলনের পরে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের প্রতিনিধি জিম হাইমস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থীকে সামনে নিয়ে আসতে হবে, যিনি ট্রাম্পের মাগা কর্তৃত্ববাদের হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন। আমার মনে হয় না, বাইডেন আর ওই ব্যক্তি।’ 

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক মতামতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার যোগ্য নন। তার নৈতিক মূল্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রতিশ্রুতি রক্ষাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়। সূত্র: রয়টার্স  
  

ফ্রান্সে সরকার গঠন নিয়ে দোলাচল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ এএম
ফ্রান্সে সরকার গঠন নিয়ে দোলাচল
ইমানুয়েল মাখোঁ ও জ্যঁ-লুক-মেলঁশোঁ

ফ্রান্সের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলকেই বিজয়ী বলা চলে না। নির্বাচনের পর যেন অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ফ্রান্সের এক সংবাদমাধ্যমের কাছে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, নির্বাচনে কেউ জেতেনি।

নির্বাচনে বাম জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি) বেশি ভোট পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি (এনআর) নির্বাচনের প্রথম দফায় ঝলক দেখালেও দ্বিতীয় দফায় তৃতীয় হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর তৈরি করা মধ্যপন্থিদের রাজনৈতিক জোট এনসেম্বল হয়েছে দ্বিতীয়। তারা এখন বাম জোটকে বলছে নিজেদের বিদ্যমান জোট ভেঙে পরিসর বৃদ্ধি করতে এবং মধ্যপন্থিদের নিয়ে সরকার গঠন করতে।

সব মিলিয়ে সবার মনোযোগ এখন জোট সরকারের দিকে। কিন্তু ফ্রান্সের সংবিধানে এ-সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। 

সংবাদমাধ্যমের কাছে লেখা চিঠিতে মাখোঁ যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম জোট এনএফপির নেতা জ্যঁ-লুক-মেলঁশোঁ। তিনি বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বে অভিনব কাণ্ড: প্রেসিডেন্ট ভোটের ফলাফল মেনে নিতে চাইছেন না।’

এ ছাড়া অতি ডানপন্থি এনআরের মারি লো পেনও সমালোচনা করেছেন মাখোঁর। তিনি বলেছেন, ‘আমি যদি ঠিক বুঝে থাকি, তাহলে চিঠিতে ইমানুয়েল মাখোঁ নিউ পপুলার ফ্রন্টকে আটকানোর কথা বলছেন, যাদের তিনি কয়েক দিন আগেই জিতিয়েছেন।’  

বিশেষজ্ঞদের রায় হলো, ফ্রান্সের বর্তমান যে পরিস্থিতি, সরকার গঠন নিয়ে যে দোদুল্যমানতা, তা তিনভাবে সমাধান হতে পারে। 

প্রথমটি হলো, টেকনোক্র্যাটিক সরকার। বিশেষজ্ঞ ও জনসাধারণের কাছে সুপরিচিত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এ ধরনের সরকার গঠিত হতে পারে। যদিও এটি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। অন্য দুই রাস্তায় সমাধান না হলেই কেবল এ রকম সমাধান দেখা যেতে পারে।

দ্বিতীয় পথ, এনএফপিকেন্দ্রিক সরকার। এ রকম সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থিদের নীরব সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে। তবে এ রাস্তাটি কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ বাম জোটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স আনবোওড দলটি। তাদের নানা ধরনের নীতি রয়েছে। তাদের সেগুলোর মধ্য দিয়ে পুরো বিষয়টি করতে হবে, যা আদতে বেশ কঠিন।  

তৃতীয় সমাধান হচ্ছে, বড় ধরনের একটি জোট সরকার গড়ে তোলা। কিন্তু এটি করতে গেলে বাম জোট ভাঙতে হবে। মাখোঁকেও অনেক কিছু নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কে কোন পদে আসবেন, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেসব নিয়েও অনেক ছাড় দিতে হবে তাকে।  

এখন পর্যন্ত বামপন্থিরা বলে আসছেন যে তারাই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করতে চান। তবে তারা এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য কোনো নাম খুঁজে পায়নি। নির্বাচনের পরপর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল আতাল। কিন্তু তার সেই পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। 

ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্সে বর্তমানে যে সরকার রয়েছে, তা হয়তো অলিম্পিকের পর পর্যন্ত থাকবে। একই সময়ে সরকার গঠন নিয়ে প্রচুর আলোচনা ও বৈঠকও হতে দেখা যাবে। ফ্রান্সের ইতিহাসে এর আগে ১৯৫৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেখা গিয়েছিল। সেবার ৯ দিন স্থায়ী হয়েছিল সেই সরকারের মেয়াদ। 

চলতি বছরের ২৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত অলিম্পিক আসর চলার কথা। এদিকে আগামী ১৮ জুলাই আইনসভার নেতা নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে আগে থেকেই। আর সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে বাজেট।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন সরকার কম সামঞ্জস্যপূর্ণ, কম অভিজ্ঞ হতে পারে। তারা হয়তো বেশি খরচ করতে চাইবে। বিনিয়োগ ও বাজার মূলধনের ক্ষেত্রেও নতুন সরকার কম বন্ধুভাবাপন্ন হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস, স্পেকটেটর