ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বাকযুদ্ধও শুরু হয়ে গেছে প্রতিবেশী রাজ্য আসাম ও কেন্দ্র দিল্লির সঙ্গে। আরজি কর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে চলছে বিক্ষোভ। আর সে বিক্ষোভের অগ্রভাগে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে। আর তাতেই চটেছেন মমতা।
শহরের অস্থিরতার জন্য গত বুধবার ভারতের ক্ষমতার মসনদে থাকা বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেন তিনি।
হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মোদি বাবু, আপনার পার্টিকে দিয়ে আগুন লাগাচ্ছেন? মনে রাখবেন, বাংলায় যদি আগুন লাগান, আসামও থেমে থাকবে না।’ তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় ওই মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর-পূর্বও থেমে থাকবে না। উত্তরপ্রদেশ থেমে থাকবে না, বিহারও থেমে থাকবে না, ঝাড়খণ্ড থেমে থাকবে না। উড়িষ্যাও থেমে থাকবে না। আর দিল্লিও থেমে থাকবে না। আপনার চেয়ার আমরা টলমল করে দেব।’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের একাংশের ভিডিও পোস্ট করে তাকে ‘রক্তচক্ষু’ না দেখাতে বলেন।
হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘দিদি, আপনার এত সাহস কীভাবে হলো যে আপনি আসামকে ধমক দিচ্ছেন? আমাদের রক্তচক্ষু দেখাবেন না। আপনার অসফলতার রাজনীতি দিয়ে একদম ভারতকে অগ্নিগর্ভ করে তোলার চেষ্টা করবেন না। বিভাজনকারীর ভাষা বলাটা আপনার শোভা পায় না।’
আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার ধর্ষণ এবং হত্যা ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্রসমাজ’ নামের একটি সংগঠন। তারা মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্ন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যায়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন বিজেপির সমর্থকরা। পরে তা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে এবং প্রায় দেড়শ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
এরপর গত বুধবার অবরোধের ডাক দেয় বিজেপি। একই দিন টিএমসিপির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের পুরোনো স্লোগান ‘বদলা নয়, বদল চাই’ বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম বদলা নয়, বদল চাই। আজ বলছি, ওই কথা নয়। আজ বলছি, যেটা করার দরকার, সেটা আপনারা ভালো বুঝে করবেন।’
বিরোধীদের অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ ধরনের বিবৃতিকে প্রতিহিংসার আহ্বান হিসেবে দেখছেন। মমতার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধিতার’ অভিযোগও তুলেছেন এক রাজনীতিবিদ। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তোলেন। তিনি এ বিষয়টি লিখিতভাবে এক চিঠিতে অমিত শাহকে জানিয়েছেন। মমতার বাংলা অস্থির হলে অন্যান্য রাজ্যেও অস্থিরতা চোখে পড়বে মন্তব্যটি ‘আপত্তিকর’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। মজুমদার বলছেন, ‘মমতা এ রকম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত।’
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ভিনিত জিন্দাল দিল্লিতে পুলিশি অভিযোগ দায়ের করেছেন মমতার বিরুদ্ধে। পরে সে অভিযোগের কপি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা, টাইমস অব ইন্ডিয়া