কয়েক দিন আগেই ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জবাব না পেয়ে তিনি এই দাবি নিয়ে আরও একটি চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রীকে। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই সেই চিঠি প্রকাশ করেছেন এবং তার পূর্ববর্তী চিঠির যে এখনো কোনো জবাব পাননি, সে কথাও তার দ্বিতীয় চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিতীয় দফা চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সেই চিঠিতে গত ২২ আগস্ট তার লেখা চিঠির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আগের চিঠিতে ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন, সে বিষয়টি দ্বিতীয় চিঠিতেও উল্লেখ করেন তিনি। এই মুহূর্তে বিষয়টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে মমতা এটাও জানিয়েছেন যে তিনি যখন দ্বিতীয় চিঠি লিখছেন, তখনো পর্যন্ত তার আগের চিঠির কোনো জবাব প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে পাননি। তবে এই চিঠিতে তিনি এটা স্বীকার করে নেন যে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে একটি উত্তর তিনি পেয়েছেন। তবে পরিস্থিতি যে গুরুতর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটি তিনি চিঠিতে উত্থাপিত করেছিলেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে সেই বিষয়টিকে যথার্থ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাও ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মমতা। এদিন তার সরকারের আমলে রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে রাজ্যে ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট এবং ৬২টি পকসো কোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের টাকাতেই এগুলো চলছে। এর পরও বেশ কিছু ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট এবং ১০টি পকসো কোর্ট রাজ্য সরকার অনুমোদন করেছে।’ একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই আদালতগুলো চালাতেও কেন্দ্রীয় সহযোগিতা প্রয়োজন। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।