যুদ্ধক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জিং দিন কাটিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একই সঙ্গে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি, হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়েছে তারা।
হুতিরা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের জাফা শহরে একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সফল সামরিক অভিযান চালিয়েছে। একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ঘটনায় ৯ ইসরায়েলির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হুতি মুখপাত্র সারি জানিয়েছেন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মাত্র সাড়ে ১১ মিনিটে ২ হাজার ৪০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে জাফায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই হামলার পর ২০ লাখ ইসরায়েলি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এত সংখ্যক মানুষের একই দিনে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম বলে দাবি করেছেন সারি। ইসরায়েলকে আর বড় পরিসরের হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে উত্তর ইসরাইলে একের পর এক রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে লেবাননভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। গতকাল রবিবার একাধিক আত্মঘাতী ড্রোনযোগে ইসরায়েলের মাতলা এবং আল মালাকিয়া সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে তারা। হামলায় মালাকিয়ার একটি সামরিক প্রযুক্তি অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। তার আগেরদিনও ব্যাপক রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠনটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বরাতে মিডিল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার লেবানন থেকে উত্তর ইসরাইলের গ্যালিলে অঞ্চলে প্রায় ৫৫টি রকেট ছোড়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া প্রায় ৩৫টি রকেট শনাক্ত করা হয়। কয়েকটি রকেট ভূপাতিত করা হলেও বেশির ভাগ রকেট খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে।
এদিকে গাজার পূর্ব রাফা এলাকায় হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি বুলডোজার গুঁড়িয়ে দিয়েছে আল-কাসাম ব্রিগেড। হামাসের এই সশস্ত্র শাখা হামলার কথা জানিয়েছে। এদিকে বেইত লাহিয়া অঞ্চল থেকে স্থানীয়দের পালানোর নির্দেশ দেওয়ার পরপরই সেখানে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী।