‘ইসরায়েল ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের কারনে আমরা আরব-আমেরিকানরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। গত এক বছর ধরে আমরা শোকাহত। আমরা হতাশ। আমরা রাগান্বিত। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ এমনটাই বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতা লায়লা এলাবেদ।
তিনি জানান, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে, এলাবেদ এবং অন্যান্য আরব-আমেরিকানরা একটি ‘সম্মিলিত শোকের অনুষ্ঠানে’ রয়েছেন।
এখনও, গাজা-লেবাননে বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে আরব-আমেরিকান ভোটারদের শোকের মধ্যে বিরতি দিয়ে ভোট দিতে বলা হচ্ছে, অথচ তাদের প্রার্থীদের মধ্যে কেউই ‘বোমা হামলা বন্ধ করার নূন্যতম কোনো পরিকল্পনা নেই’, যোগ করেন তিনি।
মিশিগানের ডিয়ারবার্ন যুদ্ধক্ষেত্র রাজ্যে বিশাল জনগোষ্ঠী আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে এই অনুভূতি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যেখানে এলাবেদ রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কামালা হ্যারিসকে ইসরায়েলের প্রতি তাদের অকপট সমর্থন বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হ্যারিস ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নিজেকে ‘যুদ্ধবিরোধী’ প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তিনিও ইসরায়েলপন্থী।
ফিলিস্তিনি সূচিকর্ম ‘তাতরিজ’ দিয়ে সজ্জিত একটি স্কার্ফে আবৃত এলাবেদ আল জাজিরাকে বলেন, তিনি নির্বাচনের প্রধান প্রার্থীদের ভোট দেবেন না। ‘আমি ভোট দেব না কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প কেউই স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেননি যে তারা বোমা হামলা বন্ধ করবেন।’
তবে অন্যান্য আরব-আমেরিকানরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কেউ কেউ হ্যারিসকে সমর্থন করছেন। কারণ তাদের মতে, ইসরায়েলের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও, ঘরোয়া এবং বৈদেশিক নীতিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রাম্পের তুলনায় তিনি ভালো। অন্যরা ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আচরণ ও স্বঘোষিত যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে ভিন্ন অবস্থান হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
এলাবেদ তৃতীয় দলে আছেন। যারা মনে করেন, কোনো প্রার্থীই মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট পাওয়ার যোগ্য নয়।
কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেও বিভাজন রয়েছে। কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এড়িয়ে চলার কথা বলছেন আবার কেউ গ্রিন পার্টির প্রার্থী জিল স্টেইনকে সমর্থন করছেন।
তবে সাধারণভাবে, এ নিয়ে উত্তেজনা বেশ কম। যা আরব-আমেরিকানদের একটি কৌশলগত সংগ্রাম। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরায়েলির যুদ্ধগুলো বন্ধ করতে এসব বিষয় কাজ করতে পারে।
লেবানিজ আমেরিকান আলিসা হাকিম বলেন, তার এই ভোট নিয়ে ‘একেবারেই আশা নেই’। সূত্র: আল জাজিরা
তাওফিক/অমিয়/