সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ঘিরে রেখেছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। মনে হচ্ছে আসাদ সরকারের ক্ষমতা পতনের দ্বারপ্রান্তে।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে শহরের কয়েকটি জায়গায় সরকারবিরোধী মিছিল হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বাশার আল-আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে।
দামেস্কে নিয়োজিত সামরিক বাহিনী এক্ষেত্রে কোনো বিরোধ দেখাতে সক্ষম হয়নি।
এর আগে মাত্র একদিনের যুদ্ধেই শনিবার (৭ ডিসেম্বর) হোমস শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সিরিয়া সরকার।
বিদ্রোহীদের এই আক্রমণে বাশার আল-আসাদ সরকারের ২৪ বছরের শাসন আমল ক্রান্তিকালে এসে দাঁড়িয়েছে।
হোমস নগরী বিদ্রোহীরা দখলে নেওয়ার পর হাজার হাজার নগরবাসী রাজপথে আনন্দ মিছিল করেছেন। এ সময় তারা আসাদের পোস্টার ছিঁড়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন।
হোমস নগর দখলের মাধ্যমে এই বিদ্রোহে কৌশলগত সুবিধা পাবে সরকারবিরোধী সংগঠন। এই শহরের মাধ্যমেই আলওয়াইত সমুদ্র অঞ্চল হয়ে রাজধানী দামেস্কে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
দামেস্কে অবস্থিত রাশিয়ার বিমান ও নৌ ঘাঁটিগুলোতেই বিদ্রোহীরা আগে আক্রমণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের আক্রমণের মাধ্যমে অতীতের দমিয়ে দেওয়া বিদ্রোহের পুনর্জাগরণ ঘটেছে।
এ বিষয়ে সশস্ত্র সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামসের (এইচটিএস) প্রধান মোহাম্মেদ আল-গোলানি বলেন, ‘আমরা ইতিহাস রচনা করেছি।’
যোদ্ধাদের আরও তৎপর হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে সরকারি বাহিনীর কোনো দল আত্মসমর্পণ করতে চাইলে তাদের ক্ষতি না করার নির্দেশ দিয়েছেন গোলানি।
সিরিয়ার সামরিক বাহিনী পিছু হটার পর হাজার হাজার কারারুদ্ধ নাগরিককে মুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ পুড়িয়ে ফেলে এইচটিএস।
এদিকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারগেই ল্যাভরভ বলেন, ইরান ও তুর্কির সঙ্গে মিলে সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা বন্ধ করতে রাশিয়া বদ্ধপরিকর।
এ পরিস্থিতিতে বিজয় মিছিল করছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থকরা। তবে সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাশার আল-আসাদ দামেস্কেই অবস্থান করছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই আসাদ সরকারের পতন ঘটবে।
এই সংকটের মাধ্যমে সিরিয়া অঞ্চলে আসাদ পরিবারের আধিপত্যের অবসান ঘটাবে। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা।
নাইমুর/অমিয়/