অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবারের (২০ ডিসেম্বর) মধ্যে বিল পাস না হলে সরকারের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসের স্পিকার মাইক জনসন প্রস্তাবিত বিল বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবছর ১ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় বাজেট প্রস্তাবের আগেই কংগ্রেসের ব্যয়বিষয়ক একটি বিল পাস করা বাধ্যতামূলক। কোনো কারণে এই বিল পাস করতে ব্যর্থ হলে হোয়াইট হাউসের সিনেটররা সরকারকে একটি সময় নির্ধারণ করে দেন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যেও ব্যয়ের বিল পাস না হওয়ায় শনিবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাইক জনসন বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কালের একটি বিল উত্থাপন করেন। এই বিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার নাগরিকদের পুনর্বাসনে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা দুই বছর বাড়ানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়।
বিলটি পাস হতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তবে নির্ধারিত পরিমাণ ভোট না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি।
এ প্রসঙ্গে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে হোয়াইট হাউসের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরি বলেন, ‘কংগ্রেসে বেশ কিছু আইনপ্রণেতা আছেন যারা ধনীদের পুতুল ছাড়া আর কিছুই না। ধনীদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই তারা বেশি ব্যস্ত থাকেন।’
ডেমোক্র্যাট সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কিছু রিপাবলিকানও এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রভাবে ফুঁসতে থাকা ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা আশ্চর্যের কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ৩৮ জন কংগ্রেসম্যানের বিপক্ষ ভোটে ধাক্কা খেয়েছেন স্পিকার।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সব ধরনের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষিত হবে।
এক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বেতন আটকে যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি ও এনবিসি নিউজ
নাইমুর/পপি/