গাজায় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদালতে ৫০টি অভিযোগ দাখিল করেছে ফিলিস্তিনপন্থি সংস্থাগুলো। এর মধ্যে কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা ছাড়াই ইতোমধ্যে ১০টি মামলার তদন্ত হয়েছে।
গত সোমবার ইসরায়েলি সম্প্রচার মাধ্যম কেএএনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল, শ্রীলংকা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সার্বিয়া, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং গ্রিক সাইপ্রাসে এই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্রাজিলে এক ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছিল হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) নামের একটি সংস্থা। আর ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন ব্রাজিলের একটি আদালত। তবে আদালতের এমন নির্দেশনার পরই ওই সেনাকে ব্রাজিল ছেড়ে যেতে সহায়তা করে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে অসংখ্য ভিডিও পোস্ট করেছে যাতে দেখা গেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর উড়িয়ে দিচ্ছে কিংবা পুড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া গাজায় এসব ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য গর্ব করতেও দেখা গেছে সেনাদের।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজা যুদ্ধ সম্পর্কিত দৈনিক ১০ লাখের বেশি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও গাজা উপত্যকায় সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামলার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত হয়েছেন আরও ৩১ জন।
ইসরায়েলি সেনাদের হাতে জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীরা একের পর এক হত্যার শিকার হওয়ায় উপত্যকাটিকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ‘সংকটকালীন মুহূর্তে’ পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির ত্রাণ বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইসরায়েলি হামলা এই সংকটকে চূড়ান্ত সীমায় উপনীত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা