সুদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ওয়াদ মাদিনির দখল ফিরে পেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) বিদ্রোহের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এই শহরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) সশস্ত্র সংগঠনের সহায়তায় গেজিরা প্রদেশের ওয়াদ মাদিনিতে সুদানের সেনাবাহিনী শহরে প্রবেশ করে।
এই ঘটনার পর শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে সুদানের সেনাবাহিনী বলে, ‘আমরা ওয়াদ মাদিনিতে প্রবেশ করেছি। আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
দেশের সব অঞ্চলেই আরএসএফের প্রভাব কমাতে সবধরণের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানা যায় বিবৃতিতে।
সুদানের প্রেক্ষাপটে ওয়াদ মাদিনি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। রাজধানী খার্তুমের সঙ্গে মহাসড়কের সংযোগের ক্ষেত্রে এই শহর ব্যবহার করা হয়।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেক জানা যায়, সম্প্রতি দক্ষিণ গেজিরা অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের দখল নিয়ে ওয়াদ মাদিনির দিকে আগাচ্ছিলো সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় হানতৌব সেতু পেরিয়ে ওয়াদ মাদিনিতে প্রবেশের মাধ্যমে এলাকায় নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠা করল দেশটির সেনাবাহিনী।
আরএসএফ-বিরোধী আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলো এই ঘটনায় সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। ঘর ছাড়া হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাসিন্দা। দেশের কিছু অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহের অভাবে দুর্ভিক্ষও দেখা দিয়েছে।
দুইপক্ষকেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করছেন বিশ্লেষকরা। আরএসএফের বিরুদ্ধে হত্যা, লুট ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সংগঠনটির নেতা মোহাম্মেদ হামাদান দাগলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
এদিকে সুদানের সেনাবাহিনী গেজিরা অঞ্চলের কিছু জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিলেও দেশের দক্ষিণ দারফুর অঞ্চলের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখনো আরএসএফের দখলে। সূত্র: আল-জাজিরা।
নাইমুর/