জর্ডান ও মিসরের গাজা থেকে আরও ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দেওয়া উচিত। গত শনিবার এ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অভিযান মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন লাখের ওপর। বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বহু লাশ। বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ কষ্ট করছে ক্ষুধায় ও শীতে। প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য সহায়তা পাচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি হয়েছে গাজায়। এর আওতায় হামাসের হাতে থাকা জিম্মিরা মুক্তি পাচ্ছেন এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার কিছু স্থান থেকে ধীরে ধীরে সরতে শুরু করেছেন ইসরায়েলি সেনারা। এ রকম একটি সময়েই এ রকম মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
জর্ডান ও মিসরের ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করা সাময়িক না কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সে প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দুটির যেকোনোটিই হতে পারে। ওয়াশিংটন গত বছর জানিয়েছিল, তারা জোর করে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার বিরোধী। অধিকার গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো মাসের পর মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছে যে গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই প্রতিকূল হচ্ছে। গাজা যুদ্ধে সেখানে বসবাসরত সবাই বাস্তুচ্যুত হন। এমন বহু গাজাবাসী আছেন যাদের ইসরায়েলি হামলার মুখে একাধিকবার নিজ বাসস্থান থেকে সরতে হয়েছে।
ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছে ওয়াশিংটন। তবে দেশটিকে সহায়তা দেওয়া থামায়নি তারা। গাজায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল লড়ছে এবং তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষার অধিকার রয়েছে- এ রকম যুক্তিতে দেশটিকে সহায়তা দেওয়া থামায়নি তারা।
গাজা উপত্যকা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে শনিবার ফোনে কথা বলেছেন। ওই ফোনকল প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি যে আপনি আরও কিছু মানুষকে নিলে আমি খুশি হব। আমি গাজা উপত্যকার দিকে তাকিয়ে দেখছি, স্থানটির অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি। আসলেই ছিন্নভিন্ন অবস্থা। আমি তাকে (জর্ডানের বাদশাহকে) মানুষকে নিতে বলেছি।’
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চাই মিসরও মানুষকে নিক।’ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কথা বলা হচ্ছে। সবার বিষয়েই বলছি।
গাজা ধ্বংসস্তূপ
ট্রাম্প গাজা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ, প্রায় সবকিছু ধসে গেছে এবং মানুষ সেখানে মারা যাচ্ছেন। ফলে আমি কিছু আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর করে দিতে চাই, যেখানে অন্তত তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন।’
গত বছরের ৭ অক্টোবর শুরু হয় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।
সপ্তাহখানেক আগেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কিছু ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পেয়েছে। ইসরায়েলের হাতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিরাও মুক্তি পেয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স