মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমায় এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে কঙ্গোলিজ সরকারি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এনজিও এবং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৭৫ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া নতুন করে দক্ষিণ আফ্রিকার শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন আরও চারজন। এর আগে গত শনিবার আরও ৯জন সেনা হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এত বেশি রক্তক্ষয় হয়েছে যে হাসপাতালে আহতদের চাপে সংকট ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
গত সোমবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এম২৩ বিদ্রোহীরা গোমায় প্রবেশ করে শহরটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ঘটনাকে কঙ্গোলিজ সেনাবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা এবং বছরের পর বছর ধরে চলমান সংঘাতের ভয়াবহ অবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কঙ্গোর গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী মুহিন্দো এনজাঙ্গি জানান, কঙ্গোলিজ বাহিনী গোমার ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
তবে রুয়ান্ডার সেনারা শহরের উপকণ্ঠে বা সীমান্তের অন্যপাশে অবস্থান করছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিদ্রোহীরা সেনাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, বন্দুকের গুলি, মর্টার এবং বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত শত শত রোগীতে গোমার হাসপাতালগুলো ভরে গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিটের সমন্বয়ক অ্যাডেলহেইড মারশাং বলেন, ‘শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ। শহরে তীব্র গোলাগুলি এবং মর্টারের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।’
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লুএফপি) জানিয়েছে, গোমা এবং এর আশপাশে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে এবং মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা