কঙ্গোতে কারাগারে রুয়ান্ডার সমর্থনপ্রাপ্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর হামলার সময় শতাধিক নারীকে ধর্ষণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুয়ায়ী সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমার মুঞ্জেনজে কারাগারে এ ঘটনা ঘটে ।
বিবিসির হাতে আসা জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৬৭ জন নারীকে পুড়িয়ে মারার পূর্বে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। এই নির্যাতন প্রধানত কারাগারের পুরুষবন্দিরা ঘটিয়েছে।
সোমবার পূর্ব ডেমোক্রেটিক অব কঙ্গোতে রুয়ান্ডার সমর্থনপ্রাপ্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ গোমা শহরে বিশেষ করে বিভিন্ন কারাগারে হামলা চালায়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোম শহরে ১০ লাখের মত লোকের বসবাস। এ শহরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অভিযান শুরুর পর কমপক্ষে ২৯০০ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ২০০০ জনকে সমাহিত করা হয়েছে। বাকি ৯০০জনের মরদেহ এখনও মর্গে রয়েছে।
জাতিসংঘের গোমার শান্তিরক্ষা বাহিনীর উপপ্রধান ভিভিয়ান ভ্যান ডি পেরে নিশ্চিত করেছে যে, আক্রমণের সময় ওই কারাগারে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় কমপক্ষে ৪০০০ জন বন্দি পালিয়েছে এবং একই সঙ্গে কয়েকশ নারী আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন।
ভিভিয়ান ভ্যান ডি পেরে জানান, আগুনের মধ্যে আটকা পড়া প্রায় সব নারী ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন। পরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নারী সদস্যরা ধর্ষণ হওয়া ওই নারীদের পুড়িয়ে হত্যা করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ওএইচসিএইচআর জানিয়েছে, গোমা শহরে যুদ্ধের সময় সশস্ত্র গ্রুপের যৌন নির্যাতন করা একটি অন্যতম অস্ত্র। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস