নিজেদের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে প্রতিবেশী দেশ কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানিতে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
একদিকে কানাডা, মেক্সিকো ও চীন অন্যদিকে বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্র। চলছে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের খেলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প মসনদে বসার পর থেকেই এই বাণিজ্য যুদ্ধ যেন থামার নাম নেই।
মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আর চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) থেকেই সেটি কার্যকর হয়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডিয়ান পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তিনি বাণিজ্য যুদ্ধ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘এটি আমেরিকান পরিবারগুলোকেই প্রথম এবং সর্বাগ্রে ক্ষতি করবে।’
জাস্টিন ট্রুডো জোর দিয়ে বলেন, ‘কানাডিয়ানরা যুক্তিসংগত এবং ভদ্র। কিন্তু লড়াই থেকে পিছপা হবে না, বিশেষ করে যখন দেশের কল্যাণ ঝুঁকিতে থাকে।’
মঙ্গলবার পার্লামেন্ট হিল থেকে বক্তৃতাকালে ট্রুডো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘শুল্ক আরোপের বিষয়টি বড় ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মার্কিন অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করার সময় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের কাজ করার যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।’
জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। অথচ কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার আর সবচেয়ে কাছের বন্ধু।’
ট্রুডো আমেরিকান জনসাধারণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘এই শুল্কগুলো তাদেরকে মুদ্রাস্ফীতির দিকে চালিত করবে এবং আমেরিকার চাকরি বাজারের ক্ষতি করবে।’
তিনি ট্রাম্পকে শুল্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘উত্তর আমেরিকানদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। তার মতে, তারা তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে নাশকতাকেই বেছে নিয়েছে।’ সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
দিনা/সুমন/