দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলের নারকীয় হামলায় গত শনিবার রাতে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর মধ্যে হামাসের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতা সালাহ আল-বারদাউইলও নিহত হন।
পাশাপাশি হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে দক্ষিণ লেবাননেও হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ লেবাননের তায়ারে শনিবারের হামলায় শিশুসহ ছয়জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না করে হামলা অব্যাহত রাখায় রাজধানী তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে হামাসের হাতে এখনো বন্দি থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের পরিবারগুলো। তারা নেতানিয়াহুকে এই ‘বিরতিহীন যুদ্ধ’ থামানোর জোর আহ্বান জানান।
রবিবার হামাস ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানায়, ইসরায়েলের হামলায় সালাহ আল-বারদাউইল ও তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। গাজায় থাকা কুয়েতি ও ইউরোপীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে তারা নারী-শিশুসহ অন্তত ১৭ জনের লাশ পেয়েছে। গাজায় গত মঙ্গলবার থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬৩৪ জন নিহত হয়েছে।
লেবাননে হামলার বিষয়ে ইসরায়েল বলছে তারা হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটের জবাবে বিমানহামলা চালিয়েছে। কিন্তু হিজবুল্লাহ এর দায় অস্বীকার করেছে। বরং সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে নতুন করে হামলা চালানোর অযুহাত খুঁজছে ইসরায়েল। গতবছরের নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হলেও তা লঙ্ঘন করে অন্তত শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে বন্দিদের উদ্ধার না করে গাজায় ফের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখায় প্রতিবাদে মুখরিত তেল আবিব। হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া বন্দি ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সদ্যেদের অনেক পরিবার নেতানিয়াহুকে চিঠি দিয়েছে গাজায় হামলা বন্ধ করে বন্দিদের মুক্ত করে আনার জন্য।
কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজায় ভূমি দখলের আদেশ দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নবায়ন না করেই তিনি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বন্দিদের মুক্ত করতে চান। ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য গাজা থেকে হামাসকে উৎখাত করা। কিন্তু হামাস জানিয়েছে তারা দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি ছাড়া বন্দিদের মুক্তি দেবে না। সূত্র: আল-জাজিরা