কক্সবাজারের শরণার্থীশিবির থেকেই সংগঠিত হয়ে রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ আন্দোলন ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এই শরণার্থীশিবির থেকে হাজার হাজার তরুণ মায়ানমারে ফিরে গিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন। তাদের এখন একটাই লক্ষ্য- মায়ানমারে ফিরে গিয়ে নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বুধবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটিতে মোহাম্মদ আনাস ( ছদ্মনাম) ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের কথা উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারির এক ভোরে আনাস কক্সবাজারের শরণার্থীশিবির থেকে বেরিয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে যেখান থেকে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে চলে যান মায়ানমারের জঙ্গলে। সেখানে তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ফিরে গেছেন।
তার ভাষায়, ‘আমি আমার মাটি ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত, আমি আমার জনগণের জন্য জীবন দিতে রাজি।’
কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থীশিবিরে অবস্থানরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখন মায়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করা হয় এই প্রতিবেদনে। এই অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা শিবির থেকে মায়ানমারের গভীর জঙ্গলে গিয়ে অস্ত্র ও যুদ্ধ কৌশল শিখছেন।
আনাস জানান, তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ভোরে। দিনভর চলতে থাকে অস্ত্র চালনা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কৌশলগত প্রশিক্ষণ। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা ও শত্রুর গতিবিধি নজরদারি করার প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন।
২০১৭ সালে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। জাতিসংঘ এটিকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে।
দ্য ইনডিপেনডেন্টের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় প্রশিক্ষিত রোহিঙ্গাদের নেতৃত্বদানকারী রায়নাইং সো (ছদ্মনাম) নামের এক গোপন কমান্ডারের। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, কিন্তু যদি তা না আসে, তাহলে আমরা যুদ্ধ করব। আমাদের ভূমি আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা প্রতিরোধ আন্দোলন শুধু মায়ানমার নয়, বাংলাদেশকেও নতুন সংকটে ফেলতে পারে। এছাড়া দ্য ইনডিপেনডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে শরণার্থীশিবিরে প্রায় এক ডজন মিলিশিয়া দল সক্রিয় আছে।
আবার রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমে যাওয়ায় আরও বেশি মানুষ অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতিরোধ আন্দোলন আরও তীব্র হবে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
দিনা/অমিয়/