ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারী বিভিন পদে ছাটাই,অভিবাসন দমন নীতি, শুল্ক যুদ্ধ ইত্যদির বিরোধিতা করে শনিবার (৫ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। এদিন দেশটির ৫০টি রাজ্যজুড়ে ৫০টি রাজ্যেই প্রায় ১,২০০টি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়।
শনিবার (৫এপ্রিল) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম ডোনাল্ড ট্রাম্প এত বড় বিক্ষোভের সম্মুখীন হলেন। ধারণা করা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভে আরো বড়ো আকার ধারণ করবে।
এসময় মেঘলা আকাশ এবং হালকা বৃষ্টি তোয়াক্কা না করেই ওয়াশিংটন মনুমেন্টের চারপাশের অসংখ্য মানুষ ভিড় জমায়। এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, প্রায় ১৫০টি কর্মী গোষ্ঠী এখানে অংশগ্রহণের জন্য সাইন আপ করে। কানাডা এবং মেক্সিকো সহ দেশটির ৫০টি রাজ্যেই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়।
ওয়াশিংটন মনুমেন্টের নীচে মঞ্চে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিউ জার্সির প্রিন্সটনের একজন অবসরপ্রাপ্ত জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞানী টেরি ক্লেইন বলেন, ‘এই সপ্তাহে অভিবাসন থেকে শুরু করে ডোজ, শুল্ক, শিক্ষা সবকিছুর উপর ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে তিনি গাড়ি চালিয়ে আসেন। আমার নিজের অর্থ এবং পুরো দেশ এখন আক্রমণের মুখে।'
নিউ জার্সির ওয়েস্ট কেপ মে-এর অবসরপ্রাপ্ত মানি ম্যানেজার ওয়েন হফম্যান বলেন,'তিনি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এতে লাল রাজ্যের (রিপাবলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ) কৃষকদের ক্ষতি হবে। হাজার হাজার মানুষের চাকরি চলে যাবে।‘
আরেকদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে ইউরোপে বসবাসকারী শত শত ট্রাম্প-বিরোধী আমেরিকান বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, প্যারিস এবং লন্ডনে জড়ো হয়ে ট্রাম্পের মার্কিন পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির ব্যাপক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেন।
হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি লিজ হিউস্টন বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ বিরোধিতা করে বলেন,'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি সবসময় যোগ্যদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সুবিধা রক্ষা করবেন।‘
অন্যদিকে এই সপ্তাহে শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্য যুদ্ধ বাধিয়ে বিশ্বজুড়ে বাজার ব্যবস্থা নাড়িয়ে দিয়ে এদিন ট্রাম্প ফ্লোরিডার জুপিটারে নিজের ক্লাবে গলফ খেলে বিকেলে তার মার-এ-লাগো কম্পাউন্ডে ফিরে আসেন। সূত্র: রয়টার্স
দিনা