অবরুদ্ধ গাজায় আবার যুদ্ধ শুরু করার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অঞ্চলটির প্রায় অর্ধেকেরও বেশি অংশ দখল করেছে। গাজাবাসীর বসবাসের স্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। গাজা সীমান্তে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো এখন বসবাসের অযোগ্য।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এখানকার সামরিক বাফার জোনের আকার দ্বিগুণ হয়। কিন্তু এখানেও নিপীড়িত গাজাবাসী ইসরায়েলের বর্বর হামলা থেকে নিরাপদ নয়। এই বাফার জোন যেন একটি ‘কিলিং জোনে’ পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা বলেন, বাফার জোনের কোনো স্পষ্ট সীমানা না থাকলেও সেখানে কোনো ফিলিস্তিনি প্রবেশ করলেই গুলি করা হচ্ছে।
এক ট্যাংক স্কোয়াডের সদস্য বলেন, আর্মার্ড বুলডোজার দিয়ে জমি সমতল করে এখানে একটি ‘কিলিং জোন’ তৈরি করা হয়। যেখানে ট্যাংক থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে কেউ প্রবেশ করলেই গুলি করা হবে। নারী ও শিশুরাও এর বাইরে নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সেনা ৭ অক্টোবরের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এমন কাজ করছে। আমি সেখানে গিয়েছি তাদের হত্যা করার জন্য। কারণ তারা আমাদের হত্যা করেছে। কিন্তু দেখলাম আমরা শুধু তাদেরই হত্যা করছি না, তাদের স্ত্রী, শিশু, এমনকি তাদের বিড়াল-কুকুরও মেরে ফেলছি। তাদের ঘরবাড়িও ধ্বংস করে দিচ্ছি।’
সোমবার (৭ এপ্রিল) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
ইসরায়েল বলছে, হামাসকে চাপে রাখতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জিম্মি করা বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে এই ব্যবস্থা অস্থায়ীভাবে নেওয়া হচ্ছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকা (যার মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী একটি করিডরও রয়েছে) দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। এধরণের কথা চতুর আইডিএফের মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।
গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু বলেন, হামাস পরাজিত হলেও গাজায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
আর ইসরায়েলি সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ ও বাফার জোনের পরিকল্পিত এই সম্প্রসারণ গত ১৮ মাস ধরে চলছে বলে ৫ ইসরায়েলি সেনা মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান।
এক ট্যাংক স্কোয়াডের সদস্য বলেন, তারা যা কিছু ধ্বংস করা সম্ভব, সব ধ্বংস করেছে। ফিলিস্তিনিদের ফিরে আসার মতো কিছুই থাকবে না। তারা কখনোই ফিরে আসবে না।
ইসরায়েলি বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সংগঠন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ সোমবার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে সেনারা বাফার জোনকে একটি বিরাণভূমিতে পরিণত করার কথা স্বীকার করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, ব্যাপক ও ইচ্ছাকৃত ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পথ তৈরি করছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
দিনা/অমিয়/