যুক্তরাষ্ট্র পানামা খাল ফেরত নেবে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে চীনের প্রভাবের অবসান ঘটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত মঙ্গলবার পানামা সফরে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম পানাম সফর করলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন হেগসেথ। পানামা খালও কাছ থেকে দেখেন তিনি। এসব এমন একটি সময়ে ঘটছে যখন আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় চীনের বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
পানামা সরকারের সঙ্গে আলাপের পর পেন্টাগন প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও পানামার বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতামূলক সুরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির ছদ্মবেশ হিসেবে ‘বাণিজ্যিক সম্পর্ক’ গড়ে তোলার নাম দিয়ে চীন আর পানামা খালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
হেগসেথ আরও বলেন, আমরা (পানামা ও যুক্তরাষ্ট্র) একত্রে পানামা খালকে চীনের প্রভাবের কাছ থেকে বের করে আনব। তিনি দাবি করেন, পানামার সঙ্গে নতুন যে ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে তাতে ১৯৯৯ সালের পর প্রথমবারের মতো পানামা খালে চীনের প্রভাবের কার্যকরী অবসান হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চীন এই খাল তৈরি করেনি। চীন এই খাল পরিচালনা করে না এবং চীন এই খালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে না। পানামাকে সামনে রেখে একত্রে আমরা এই কাল সুরক্ষিত করব এবং সব রাষ্ট্রের জন্য এর দ্বার অবারিত করে দেব।
হেগসেথ যখন পানামা খাল থেকে চীনের প্রভাব দূরীকরণের কথা বলছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজন পড়লে সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে হেগসেথের মন্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন সরকার। তারা বলেছে, খালের বিষয়ে আসলে হুমকি কে? জনগণই তার বিচার করবে। সূত্র: এনডিটিভি, গার্ডিয়ান